নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

জ্ঞান মনের জানালা খুলে দায় এবং সেই খোলা জানালা দিয়ে না জানা বিষয় গুলো দেখি যা বাংলাদেশের সীমা ছাড়িয়ে সারা পৃথিবী দেখতে সাহায্য করে ।

এইচ এন নার্গিস

আমি একজন লেখক, সমাজ কর্মি , মা এবং মুক্তিযোদ্ধা

এইচ এন নার্গিস › বিস্তারিত পোস্টঃ

প্রাচীন বাংলার নারী ও পুরুষের সাজসজ্জা

০৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:২০

প্রাচীন বাংলায় নারী ও  পুরুষের সাজসজ্জা 



সমসাময়িক সাহিত্য এবং প্রত্নবস্তু সাক্ষ্য দায় প্রাচীন বাংলার অলংকার কেমন ছিল । 

দেখা যায় নারী পুরুষ উভয়ই একই রকম গয়না পরতেন। 
আর তা হল 
কর্ণকুণ্ডল,করনাঙ্গুরি, কানপাশা,শীতা  হার  কণ্ঠহার, আঙ্গুরিয়, বলয়, কেয়ুর, কানবালা, কানপাশা,ঝুমকা,মেখলা। 

বিবাহিত নারী পরতেন শাঁখার বলয়, মুক্ত খচিত হার। 

বিজয় সেনের নৈহাটি লিপি এবং দেওপাড়া প্রশস্তিতে দেখা যায় রাজবাড়ির ভৃত্যের স্ত্রীরা-ও করনাঙ্গুরি,মালা, মল, সুবর্ন বলয়  পরতেন । 

হীরক খচিত অনংকার, রত্ন খচিত ঘুঙ্গুর, মুক্তা, নীলকান্ত মনি, চুনী প্রভৃতি রত্নের ব্যাবহার দেখা যায়। তার সাথে সনা রুপা তো ছিলই । 

সোনার  গয়না ডিজাইন নয়,  ওজনে যত ভারী ততোই মূল্যবান আর জনপ্রিয় ছিল।

গ্রামের মেয়েদের অলংকারঃ 

শাঁখা ,পলা, রুপার মল, কানে ছোটো মাকড়ী সোনার নয় । সাজঃ খোঁপায় বেল ফুলের মালা, বা গাঁদা বা জবা ফুল গুজে রাখত।
চোখে কাজল, পায়ে আলতা। রাজবাড়ীর ভারী চন্দ্রাহার  নয়,মাটির মেয়ের সাজ- সহজ,সাবলীল কিন্তু আলতা শাঁখা আর ফুলে ভরা। 


পল্লী মেয়ের সাজ ছিল "কাজের সাথে মানান সই"  


নদীতে কাপড় কাঁচতে যাবে তাই ভারী গয়না নয়। ধান কাটতে যাবে -তাই শাড়ী হাঁটুর উপরে তুলে খোঁপা বাঁধা । 

কিন্তু তার মধ্যেও শাখা-পলা, আলতা, ফুল এই  তিনটি ছাড়া বাঙ্গালী পল্লী বধূ কল্পনা করা যায় না। 

গয়না -"অল্প কিন্তু শুভ" 

সোনা সবার থাকতো না কিন্তু যা ছিল তা দিয়েই সাজতো পল্লী মেয়ে রা।

যেমনঃ
 
১) হাতে দু গাছা রুপার বা পিতলের চুড়ি ২) কানে মাকড়ি বা ছোটো ঝুমকা ,বিয়েতে রুপার কানবালা ৩) নাকে নাক ছবি ,বড়ো নথ শুধু বিয়ে দিনে। ৪) গলায় এক গাছা পুঁতির মালা, রুপার চিক। আর গরীব হলে তাবিজ কবজ । ৫) খোঁপায় জবা ফুল,বেল ফুল, গয়নার বদলে ফুল ছিল অলংকার। 


সাজগোজের জিনিস 

লম্বা চুলে তেল দিয়ে বড়ো খোঁপা,খোঁপায় বেল পাতা বা গাঁদা ফুল। 

আলতাঃ পায়ে আলতা না দিলে বউ লাগত না । সমস্ত পা লাল টুকটুকে আলতা দিয়ে ঢাকা থাকত । 

কাজলঃ চোখে কাজল থাকতই ।শারা দিন মাঠে কাজ করলেউ চোখ জুড়ে থাকত কাজল। 

সিঁদুরঃ সিঁথিতে মোটা করে সিঁদুর আর টিপ সবচেয়ে বড়ো সাজ। 

দাঁতঃ মিসি, পান -সুপারি - জর্দা দিয়ে দাঁত লাল করা ছিল
স্টাইল ।  

মদনপালের মনহলি -লিপিতে ইঙ্গিত পাওয়া যায় প্রসাধণ ক্রিয়ায় কর্পূর ব্যাবহার ,ঠোঁটে লাক্ষারস, খোঁপায় ফুল গুঁজার কথা। যা কিনা সমসাময়িক বাঙ্গালী কবি সাঞ্ছাধর এর কবিতায় উল্লেখ আছে। 

তবে বিধবা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সিঁথির সিঁদুর মুছে ফেলা হতো । যা পাওয়া যায় দেবপালের নালন্দা লিপি, মদনপালের মহলই লিপি বোললাল  সেনের অদ্ভুত সাগর গ্রন্থে আর গবর্ধনচার্জের নিচের  একটা শ্লোকে । 

শ্লোক টি হলঃ 

"বন্ধনভাজোহমুস্যাঃ চিকুর কলাপস্য মুক্তমানস্য 
সিন্দুরিত সিমন্তছলেন হ্রিদয়ং বিদীর্নমেব" 

 

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.