নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

জ্ঞান মনের জানালা খুলে দায় এবং সেই খোলা জানালা দিয়ে না জানা বিষয় গুলো দেখি যা বাংলাদেশের সীমা ছাড়িয়ে সারা পৃথিবী দেখতে সাহায্য করে ।

এইচ এন নার্গিস

আমি একজন লেখক, সমাজ কর্মি , মা এবং মুক্তিযোদ্ধা

এইচ এন নার্গিস › বিস্তারিত পোস্টঃ

প্রাচীন বাংলার প্রধান খাবারঃ যা বাঙ্গালী যে "প্রশান্ত সাগর সভ্যতা প্রভাবিত" তা তার খাবারের অভ্যাসেই প্রমাণিত

০৮ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:২৭

22D


"বাঙ্গালী  যে "প্রশান্ত সাগর সভ্যতা প্রভাবিত" তা বাঙ্গালীর ভাত খাওয়ার অভ্যাসেই প্রমাণিত" 
নীহার রঞ্জন রায়   

বঙ্গ আর বাঙ্গালী"  শেকড়ের খোঁজে, বাঙ্গালীর খাবার
"ভাতে মাছে বাঙ্গালী"

"ওগগরা ভত্তা গাইক ঘিত্তা
ওগগরা  ভত্তার মঅ পত্তা গাইক ঘিত্তা দুগ্ধ সজুক্তা
মোইলি মচ্ছা নলিতা শাক (পাট  শাক) দিব্বুই কান্তা খা"

অর্থাৎ "গরম ভাত,  তাতে ঘি, নলিতা শাক আর মৌরালা মাছের ঝোল যে স্ত্রী প্রতিদিন স্বামী কে রেঁধে খাওয়াবে সে স্বামী ভাগ্যবান"  ।

ভাত ভক্ষণের অভ্যাস ও সংস্কার আদি অস্ট্রেলীয় জনগোষ্ঠীর সভ্যতা ও সংস্কৃতির দান।

বাঙ্গালী যে আদি অস্ট্রেলীয় ভাষা গোষ্ঠীর লোক , বাঙ্গালী যে  'প্রশান্ত সাগর সভ্যতা প্রভাবিত' তা বাঙ্গালীর ভাত খাওয়ার অভ্যাসে প্রমাণিত  এবং বোঝা যায় আমরা কোন সভ্যতা আর কোন সংস্কৃতর অন্তর্ভুক্ত ।

প্রধান খাবার মাছ ভাত'  পেছনের কারনঃ

মাটি আর আবহাওয়া অনুযায়ী যে ফসল উৎপাদন হয় সেটাই সেই অঞ্চলের  প্রধান খাবার হয়।

মাছ ভাতের সেই হাজার বছরের গল্প হল বাংলা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ডেলটা অঞ্চল। হিমালয় থেকে নেমে আসা  সব চেয়ে বড় বড় নদী  পদ্মা ,যমুনা আর মেঘনা আর তার শত শত শাখা প্রশাখা জালের মতো ছড়িয়ে আছে বাংলার বুক জুড়ে । আছে খাল বিল হাওড় বাওড় ।

তাই বঙ্গে যেমন নদী প্রচুর ঠিক তেমনই   ধান চাষের জন্য পৃথিবীর অন্যতম উপযুক্ত স্থান । বর্ষার বৃষ্টি,নদী বাহিত পলি, উর্বর মাটি সব মিলিয়ে বাংলা হয়ে উঠে ধানের দেশ।

ধান থেকে আসে ভাত
নদী থেকে আসে মাছ

তাই সবচেয়ে বেশি স্বাভাবিক বাঙ্গালীর খাবার হয়ে উঠে "ভাত আর মাছ" ।

মাছ ভাত খাবারের ঐতিহাসিক প্রমাণঃ
অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর চর্যাপদের সাহিত্যে বাংলার মানুষের খাদ্যাভাসে মাছের উল্লেখ আছে।

মধ্য যুগে মঙ্গল কাব্যেও মাছের কথা পাওয়া যায়। সেই সময় বাংলার জনপ্রীয় মাছ ছিল রুই, কাতলা, চিতল, কৈ, মাগুর, মলা , সোল আর ইলিশ ।
মাছ প্রীতির পরিচয় পাওয়া যায় পাহাড়পুর আর ময়নামতির পোড়া মাটির ফলকে । কয়েকটি ফলকে দেখা যায় মাছ কাটা, ঝুড়ি ভোরে মাছ হাটে নিয়ে যাওয়ার দুটো বাস্তব চিত্র ।

অর্থাৎ ১০০০ বছর আগেও বাঙ্গালীর খাবারের কেন্দ্র ছিল মাছ ।
আজ আমরা যে মাছের ঝোল খাই তারও একটা ইতিহাস আছে ।

প্রাচীন বাংলায় খুব সাধারন ভাবে হলুদ,লবন,কাঁচা মরিচ  আর সর্ষের তেল দিয়ে  মাছ রান্না করা হতো ।
পরে যোগ হয় জিরা, ধনে বাটা,পিয়াজ  আর তার সাথে কিছু সবজি মিশিয়ে পাতলা ঝোল । যা আজও বাঙ্গালীর জনপ্রিয় রান্না করার নিয়ম।

র্ষা কালে ইলিশ এলে পুরো বাংলা উৎসবে মেতে উঠে। প্রতিটি রান্না ঘর মৌ মৌ করে রান্না ইলিশের  সুগন্ধে । 'সর্ষা ইলিশ' মানেই  জিহবায় জল আসা জনপ্রিয় রান্না ।

এবার আসা যাক শাক সবজির কথা। বাংলায় জন্মায় প্রচুর তরিতরকারি । যেমন চাল কুমড়া ,লাউ,নানা রকমের শাক, ঝিঙে, কাঁকরোল ,মিষ্টি কুমড়ো,কচু ,মান কচু,  আর পটল ।

ভাতের সাথে পঞ্চ ব্যাঞ্জন যেমন লাবড়া ,ঘন্ট,ভর্তা , ভাজি আর শাক বাঙ্গালীর  অবশ্যই সংযুক্ত আর একটা জনপ্রিয় খাবার ।

দরিদ্র মানুষের ভাত আর শাক, কচু ঘেচু দিয়ে পেট  ভরানই ছিল নিত্য দিনের খাবার।

ধনী মানুষের পাতে থাকতো বড় মাছ ,ছোটো  মাছ ঘি, খির, দই ইত্যাদি ।

আম,কাঁঠাল, তাল , লেচু,কলা আর নারিকেল বাংলার প্রধান ফল যা আগেও ছিল এখনও আছে।
বাংলার মাটি বাঙ্গালীকে অভুক্ত রাখতো না ।মাংস বাঙ্গালীর আর একটা খাবার ,তবে নিত্য দিনের নয়। হরিন আর ছাগ মাংস ছিল প্রিয় মাংস।
পেছনের কারন শবর,নিষাদ আর পুলিন্দ মানুষের পেশা ছিল শিকার ।

চর্যাগীতের বর্ননায়   দেখা যায়

" তেন ন ছু পই হরিনা পিবহ ন পণী
হরিণা হরিণীর নিলয় ন জানী
হরিণী বোলও সুন হরিণা তো
এ বন ছাড়ি হোহু ভান্তো
তরংগতে হরিনার খুর ন দাসই
ভুসুকু ভনই মৃঢ় হি অহি ন পই সই "


অর্থাৎ হরিণ ঘাস ছয় না ,পানি খায় না, হরিণ যানে না হরিণির ঠিকানা । হরিণি  এসে বলে  শোন হরিণ এই বন ছেড়ে চলে যাও। তীর গতিতে ধাবমান হরিণের খুর দেখা যায় না। তখন ভুসুকু বলে হৃদয় হীনের হৃদয়ে এ কথা প্রবেশ করে না। কারন সে আছে তার নিজ মতলবে।


এই শ্লোক প্রমাণ করে বাঙ্গালী প্রাচীন লাকে হরিণ শিকার করতো মাংস খাওয়ার জন্য।


বাঙ্গালীর বিয়ের খাবার আয়োজন কি হতোঃ
প্রাচীন বাংলায় বিয়ে বাড়ির খাবারে থাকতো ,ব্যাঞ্জন, ডাল , মাংস এবং মাছ।
দই চিড়া বা খৈ , মিষ্টান্ন ছিল প্রধান খাবারের পর ।
সব শেষে পরিবেশন করা হতো   পান সুপরি ।

যা কিনা দক্ষিণ পুর্ব এশিয়া আর দক্ষিণ এশিয়ার
নিয়ম । যাকে বলা হয় প্রশান্ত সাগরীয় সংস্কৃতির বাহক ।


এই ছিল প্রাচীন কালের বাঙ্গালীর খাদ্য ।যা আজও চলমান। কারন  ভাতে মাছে বাঙ্গালী । যা হাজার বছর ধরে চলে আসছে।









মন্তব্য ২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ১২ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




প্রাচীন বাংলার প্রধান খাবার ছিল ভাত, মাছ, শাকসবজি এবং ফলমূল। ঐতিহাসিক ও নৃতাত্ত্বিক গবেষণায় প্রমাণিত,
বাঙালিদের প্রধান খাদ্যাভ্যাস মূলত অস্ট্রিক বা প্রশান্ত মহাসাগরীয় (অস্ট্রেলো-এশিয়াটিক) সভ্যতার প্রভাবজাত, যা
তাদের দৈনন্দিন ডায়েটে আজও সুস্পষ্ট।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আদিম অধিবাসীদের খাদ্যাভ্যাস এবং প্রাচীন বাংলার খাবারের মধ্যে অনেক আশ্চর্যজনক মিল রয়েছে, যা বাঙালিদের সেই প্রাচীন অস্ট্রিক সভ্যতার উত্তরাধিকারী করে তোলে প্রাগৈতিহাসিক কাল
থেকেই অস্ট্রিক ভাষাভাষী মানুষের প্রধান খাদ্য ছিল ভাত। 'মাছে ভাতে বাঙালি' প্রবাদটি প্রাচীন কাল থেকেই এই
অঞ্চলের কৃষিভিত্তিক সংস্কৃতির পরিচায়ক।

নদীমাতৃক বাংলার মতো প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মানুষ খাদ্যের জন্য মাছ ও স্থানীয় লতাপাতা বা শাকের উপর
ব্যাপকভাবে নির্ভর করতো।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের প্রধান ফলমূল যেমন নারকেল এবং কলা প্রাচীন বাংলায় অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল।
চালের গুঁড়ো দিয়ে তৈরি বিভিন্ন পিঠা প্রাচীনকাল থেকেই বাঙালির প্রিয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং প্রশান্ত
মহাসাগরীয় অঞ্চলে চালের গুঁড়োর তৈরি মিষ্টি জাতীয় খাবার আজও ব্যাপকভাবে দেখা যায়।

ইতিহাস ও প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা থেকে প্রাচীন বাংলার খাদ্যাভাসের কিছু মূল বৈশিষ্ট্য জানা যায়: [
প্রধান খাদ্য চাল (ভাত) ও ডাল ছিল দৈনন্দিন খাদ্যের মূল ভিত্তি।

মাছ ও মাংস স্বাদু পানির বিভিন্ন মাছ প্রাচীন বাঙালিরা খুব পছন্দ করত। এছাড়াও হরিণ ও ছাগলের মাংসের
কদর ছিল।দুগ্ধজাত খাবার দুধ এবং দই উচ্চবিত্তদের খাদ্য হিসেবে গণ্য হতো।

প্রাচীন বাংলার ভোজনরসিকদের কণ্ঠস্বর শুনা গেল আপনার দেয়া পদ্যাংশগুলিতে সুন্দরভাবে ।
প্রাচীন বাঙালিরা ভোজনরসিক ছিল। বিভিন্ন ঐতিহাসিক সাহিত্য ও পালি গ্রন্থে তাদের রসনাবিলাসের
প্রমাণ পাওয়া গেল আপনার পোস্টের লেখা ও কবিতাগুলি থেকে ।

সুন্দর পোস্টটির জন্য ধন্যবাদ ।

শুভেচ্ছা রইল

২| ১২ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৬

এইচ এন নার্গিস বলেছেন: ধন্যবাদ পড়েছেন তাই । নিচে আরও আছে অনুগ্রহ পুর্বক দেখলে খুশি হবো ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.