নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমার চারপাশের মানুষ গুলো অনেক ভাল।

নিথর শ্রাবণ শিহাব

মাটির মানুষ ভিজলে কাদা হয় না কেন প্রশ্ন জাগে, মানুষ গড়া অন্যকিছুয় আমার শুধু এমন লাগে।

নিথর শ্রাবণ শিহাব › বিস্তারিত পোস্টঃ

বাবাকোয়া র‍্যাভ্যুলুশন - ক

০১ লা জুন, ২০১৩ সকাল ৭:৪৫



ক্যাপ্টেন বাবাকোয়া

ক্যাপ্টেন বাবাকোয়া রিটার্নস 'ক'

ক্যাপ্টেন বাবাকোয়া রিটার্নস 'খ'

বাবাকোয়া রিলোডেড

ডাইনিং টেবিলের নিচে মাথায় নীল হেলমেটটা পরে বাবাই গম্ভীর মুখে পেনসিল দিয়ে ডায়েরী লিখছে অনেক্ষণ ধরে। মেজর মুরগী পাশেই বসে বসে ঝিমাচ্ছে। বাবাকোয়ার অন্য পাশে রাখা টিফিন বক্সটা লাফিয়ে উঠছে থেকে থেকে। কমান্ডো চিফ ক্যাপ্টেন গেছো ব্যাঙ জুডো প্র্যাক্টিস করছেন মনে হয়। হাবিলদার ভোট্টু চুপচাপ দুই থাবার উপর মুখ রেখে অলস ভঙ্গিতে কর্ণেল বাবাকোয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। শব্দ করছে না কেউ।

বাবলীকে রান্নাঘর থেকে হামাগুড়ি দিয়ে বেরিয়ে আসতে দেখা গেল, ছোট একটা বাটি ঠেলতে ঠেলতে আনছে। আলু সেদ্ধ করে দিয়েছে নোভেরা। এখনো হাটা শেখেনি বাবলী। দেয়াল ধরে ধরে হাটতে পারে। ছেড়ে দিলেই ধপাস করে বসে পড়ে। এদিক ওদিক তাকিয়ে বাবাইকে খুঁজলো মনে হয়। টেবিলের নিচে বাবাইকে বসে থাকতে দেখে মহা আনন্দিত স্বরে মেঝেতে থাবা দিল। আলুর বাটিটা ঠেলতে ঠেলতে এগিয়ে এলো বাবাইয়ের কাছে। ওর পাশে এসে চুপচাপ বসে বসে বড় ভাইয়ের ডায়েরী লেখা দেখতে লাগল বড় বড় চোখে। মাঝারি সাইজের একটা আলু হাতে নিয়ে খেতে খেতে বাবাইয়ের মত গম্ভীর মুখ করে ডায়েরি দেখতে লাগল। যদিও পড়তে পারে না। কিন্তু বাবাই যখন এত গম্ভীর হয়ে লিখছে- নিশ্চই খুব গুরুতর বিষয়। এখন আলু নিয়ে আনন্দিত হওয়ার সময় না। তাই বাবলী মুখ গম্ভীর করে আলু খেতে লাগল।



“আম্মা গত কয়দিন যাবত খুব দুশ্চিন্তায় আছে। বাসায় ইঁদুর হয়েছে। সব কিছু কেটে কুটে টুকরো টুকরো করে ফেলছে। ইঁদুরের গায়ে নাকি পোলাউ পোলাউ গন্ধ থাকে। আম্মা সারাক্ষণ নাক উঁচিয়ে ইঁদুরের গন্ধ শুঁকে বেড়ায়। কোথাও একটু গন্ধ পেলেই ইঁদুর মারার জন্য বড় একটা লাঠি নিয়ে দৌড় ঝাপ শুরু করে দেয়। কর্ণেল বাবাকোয়ার বাহিনী আম্মাকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছিল। হাবিদলার ভোট্টু আর কমান্ডো চিফ গেছো ব্যাঙকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল ইঁদুর খুঁজে দেয়ার জন্য। কিন্তু বিন্তি বলেছে ইঁদুর খুঁজতে নাকি সি.আই.ডি. বিড়ালের সাহায্য লাগবে। কুকুর আর ব্যাঙ দিয়ে হবে না। কিন্তু হাবিলদার ভোট্টুর সাথে সি.আই.ডি. অফিসার বিড়ালের সম্পর্ক ভাল না দেখে ব্যাপারটা নিয়ে বেশি দূর এগোতে পারি নাই। সি.আই.ডি. অফিসার বিড়াল কেন জানি হাবিলদার ভোট্টুকে দেখলেই “ম্যাঁও” বলে চিৎকার দিয়ে জানালা দিয়ে পালিয়ে যায়। ভোট্টুও ওর কান কামড়ে দেয়ার জন্য পাগল হয়ে যায়। বাবাকোয়া ওদের মাঝে সমঝোতা করার অনেক চেষ্টা করেছে। লাভ হয় নাই। সি.আই.ডি. অফিসার বিড়াল আর হাবিলদার ভোট্টু দেখতেই পারে না একজন আরেক জনকে। বাবাকোয়া চিন্তায় পড়ে গেছে। মিলিটারি বাহিনীতে যদি ঐক্য না থাকে- জন সেবা কেমন করে হবে?

তবে ভাল খবর হল ইঁদুর খুঁজে বের করা হয়েছে। হাবিলদার ভোট্টু স্টোর রূমে চালের বস্তার নিচ থেকে ছোট একটা ইঁদুর ফ্যামেলি খুঁজে বের করেছে। কর্ণেল বাবাকোয়া এম্বুশ করার জন্য মেজর মুরগী সহ পুরো প্লাটুন নিয়ে তৈরি ছিল। এয়ার ফোর্স হিসেবে ফ্লাইট লেফটেনেন্ট কাক তার প্লাটুন নিয়ে এই অপারেশনে সাহায্য করবেন বলে কথা দিয়েছিলেন। কিন্তু এম্বুশ করতে দিয়ে বাবাকোয়া গভীর দুঃখ নিয়ে আবিষ্কার করেছে- স্টোর রূমে চালের বস্তার নিচে অতি দুঃখী আর অসহায় একটা ইঁদুর পরিবার বাস করে। দিন মজুর জনাব ইঁদুর সাহেব তার বৌ আর বাচ্চাদের সাথে কর্ণেল বাবাকোয়াকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। বাবাকোয়া অবাক হয়ে দেখেছে অতি দূর্বল তিনটা বাচ্চা ইঁদুর আছে তাঁদের। জনাব ইঁদুরের বৌও অনেক অসুস্থ। বাবকোয়ার মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল। আম্মুর হাসপাতালে ভর্তি করার চিন্তা ভাবনা করেছিলাম মিসেস ইঁদুরকে। কিন্তু আম্মা লাঠি নিয়ে দৌড়ানো শুরু করবে দেখে বাবাকোয়া এই চিন্তা বাদ দিয়েছে। পাশের বাসার স্বাস্থ্য কর্মী বিন্তিকে এই ব্যাপারে বলার পর ও সাহায্য করতে রাজী হয়েছে।

ইঁদুর পরিবারকে বাবাকোয়া ত্রাণ ভান্ডার থেকে বেশ কিছু বিস্কুট ফলমূল দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মী বিন্তি দিয়েছে কিছু প্যারাসিটামল আর হরলিক্স।

বাবাকোয়া আফসোসের সঙ্গে লক্ষ্য করেছে বাচ্চা ইঁদুর গুলোর দাঁতের অবস্থা ভাল না। ইঁদুরের গৌরব ও শ্রেষ্ঠ সম্পদ হল দাঁত। এগুলোর যত্ন না নিলে ইঁদুর সমাজে কি বলবে? জনাব ইঁদুরও এ নিয়ে চিন্তিত মনে হয়।

বাবাকোয়া আম্মুকে লুকিয়ে একটা বড় দাঁত ব্রাশ আর একয়াত টুথ পেস্ট এনে দিয়ে গেছে ওদের। নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করা উচিত। ইঁদুর বলে কি ওদের দাঁত ব্রাশ করা যাবে না? সুস্থ দাঁতের জন্য চাই নিয়মিত দাঁত ব্রাশ। খাওয়ার পর করতে হবে কুলি। দাঁতের যত্ন নিতে হয়- ফাঁকিবাজি করা মোটেও ঠিক না। বাবাকোয়া নিয়মিত সকালে আর রাতে দাঁত ব্রাশ করে।

কিন্তু বাবাকোয়া দুঃখের সাথে জানাচ্ছে যে বাচ্চা ইঁদুরগুলো ব্রাশটা খেয়ে ফেলেছে। এইটা কি ঠিক? ঠিক না!

আম্মাও বোধ হয় ধরতে পেরেছে আমি ইঁদুর পরিবারকে সাহায্য করছি। ব্রাশ আর পেস্ট সরানোর জন্য আম্মা বাবাকোয়াকে ধোলাই দিয়েছে। বাবাকোয়ার মন খারাপ। সে আর ইঁদুর পরিবারকে সাহায্য করতে যায়নি আম্মার মাইরের ভয়ে।

তবে বাবলী ভাল। ও নিয়মিত ইঁদুরদের আলু সিদ্ধ দিয়াসে। ওরাও বোধ হয় বাবলীকে ভাল পায়। প্রায় রাতেই দেখি বাবলীর দোলনায় ইঁদুরগুলো এসে ঘুমিয়ে থাকে ওর হাতের নিচে।

বাবাকোয়া এখন খুব খুশি। মিলিটারিতে বাবলীর মত একজন নিবেদিত প্রাণ সদস্য পেয়ে। ইঁদুরের প্রতি ওর মমতা – বিশাল হৃদয়ের পরিচয় দেয়। বাবলী খুব ভাল মানুষ। ওকে একটা উপাধী দেয়া যায়। উপাধীর নাম নিয়ে বাবাকোয়া চিন্তিত.......”



“নিয়োগঃ হাবিলদার ভোট্টু। বয়সঃ তিন মাস।

কর্ণেল বাবাকোয়াদের বাড়ীর পাশে তিন মাস আগে যে চারটা কুকুর ছানা জন্মেছিল- ওরা মোটামুটি সবাই একটু বড় হয়েছে। নিয়মিত শরীর চর্চা ও খাওয়া দাওয়ার প্রতি বাবাকোয়ার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি থাকায় সবাই সুস্থ ও সবল আছে। প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচি অনুযায়ি বাবাকোয়ার “কুকুর স্কুল প্রতিদিন” প্রোগ্রামে ওদের ভর্তি করিয়ে দেয়া হয়েছিল। ওরা এখন সাবান আর হাড্ডির মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারে। বাবাকোয়া পরীক্ষা নিয়েছিল। ওরা সাবান খায় নাই, হাড্ডি খেয়েছে। তবে সাবান দিয়ে গোসল করাটা এখনো শিখতে পারে নাই। সাবান নিয়ে পুকুরে গিয়ে গোসল করতে নামে ঠিকই- কিন্তু সাবান পানিতে ফেলে দেয়। বাবাকোয়ার মিলিটারি বাহিনী সাবান সরবরাহ করতে গিয়ে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে। গত কয়দিনে আম্মার হাতে দুই বার সাবান নিয়ে ধরা পড়েছে বাবাকোয়া। আম্মা ধোলাই দিয়ে ছেড়ে দিয়েছে বাবাকোয়াকে।

বাবাকোয়া দুঃখ পায় নাই। মানবতার জন্য ধোলাই খেলে মর্যাদা নাকি আরো বেড়ে যায়- খালামণি বলেছে। খালামণি চুপিচুপি চারটা হুইল সাবান কিনে দিয়েছে বাবাকোয়াকে। অবশ্য এর জন্য বাবাকোয়া অনেক অনুরোধ করেছিল। খালামণি ভাল মানুষ। না করতে পারে নাই। “কুকুর স্কুল প্রতিদিন” প্রোগ্রামে উনাকে একটা গুরুত্বপূর্ণ পদ দেয়া যায়। কিন্তু উনাকে ঠিকমত পাওয়া যায় না দেখে বলতে পারছি না।

এই দীর্ঘ তিন মাসে কুকুর ছানাগুলোর আম্মা নিয়মিত বাবাকোয়ার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিল। কিন্তু কিছুদিন আগে ওদের বাবা ফিরে আসায় যোগাযোগ করা আর সম্ভব হচ্ছে না। মোটকা একটা বড় কুকুর নাকি ওদের বাবা। সে এসেই তার বাচ্চাদের সমস্ত পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়ে পুরো পরিবার নিয়ে অন্য কোথাও চলে গেছে। যাওয়ার আগে বাবাকোয়ার সঙ্গে দেখা পর্যন্ত করে যায় নাই। বাবাকোয়া কষ্ট পেয়েছে তাতে। কোথাও যাওয়ার আগে শিক্ষকদের কাছ থেকে বিদায় নিতে হয়। এতে মঙ্গল হয় বাবা বলেছে।

কিন্তু খুব আশ্চর্যের বিষয়- চারটা কুকুর ছানা থেকে একজন থেকে গেছে বাবাকোয়ার কাছে। সে ফিরে এসেছে। সবচেয়ে ছোট আর নাদুশ নুদুশ কুকুর ছানাটা এটা। বাবাকোয়া তার ফিরে আসায় খুশি হওয়ার পাশাপাশি বেশ চিন্তায় পড়ে গিয়েছিল। একা একটা ছোট কুকুর কেমন করে বাহিরে থাকবে? আগে তো সাথে আরো ভাই বোন ছিল, মা ছিল। এখন তো কেউ নাই। বাবাকোয়া বিষয়টা নিয়ে খুব ভাবনায় ছিল। কর্ণেল বাবাকোয়া বাবার কাছে এই ব্যাপারে পরামর্শ চাওয়া মাত্র বাবা অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে কুকুর ছানার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। উনি কুকুর ছানাটাকে দেখেই দারাজ গলায় হাসতে হাসতে বলেছেন, “এটা তো একেবারেই ছোট পেট মোটা কুকুর ছানা! বাড়ি পাহারা দিতে পারবে তো?”

আমি উৎসাহী মুখে ওর কাগজে দেখি বলেছি, “বাবা দেখো, ও সব পরীক্ষায় ভাল মার্কস নিয়ে পাশ করেছিল। প্রতিরক্ষা আর অনুসন্ধান এই দুই সাবজেক্টে এ প্লাস আছে। অত্যন্ত মেধাবী কুকুর বাবা। রেখে দাও না? আম্মাকে বললে আম্মা খালি মাইর দেয়।”

বাবা হা হা করে হেসে বলেছে, “আচ্ছা ঠিক আছে। ওকে আগে ভাল করে শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করিয়ে, ইঞ্জেকশন লাগিয়ে আনতে হবে। কাঁটাবনে আমার এক বন্ধু আছে, ইকবাল। করে দেবে কাজ। এখন বল, তোর এই কুকুর সাহেবের নাম কি?”

আমি তাড়াতাড়ি কাগজ পত্র দেখে বললাম, “ছোট কুকুর-৪।”

বাবা চোখ কপালে তুলে বলল, “এটা আবার কেমন নাম? কুকুর হয়ে জন্মেছে বলে কি একটা ভাল নাম থাকবে না?”

আমি দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলাম। আসলেই তো, কুকুর হয়ে জন্মেছে বলে কি ওদের কোনো অধিকার নাই? নাম পাবে না? অবশ্যই পাওয়া উচিত।

নামটা বাবা নিজেই দিয়ে দিল, “যা, তোর কুকুরের নাম আমিই দিয়ে দিচ্ছি- পেট মোটা ছোট্ট কুকুর বলে নাম দিলাম ‘ভোট্টু’।”

আমি ভোট্টুকে গম্ভীর মুখে বললাম, “ছোট কুকুর -৪, তোমার নাম ভোট্টু দেয়া হয়েছে। বাবাকে সালাম করো।”

ভোট্টু হাড্ডি মুখে উঠে দাঁড়ালো সাথে সাথে। ওদের সালাম করা শেখানো হয়েছে। সুন্দর করে সটান হয়ে দাঁড়িয়ে তিন বার ‘ভৌ ভৌ ভৌউক!’ করে স্যালুট জানালো বাবাকে। হাড্ডিটা এনে বাবার পায়ের সামনে রাখল।

বাবা ভীষণ অবাক হয়ে বলল, “কি করল এটা?”

আমি হাসি মুখে জানালাম, “স্যালুট জানালো বাবা। হাড্ডি দিয়েছে তোমাকে সম্মান জানিয়ে।”

বাবা শুঁকনো মুখে কেবল বলেছে, “বেঁচে থাকো বাবা! হাড্ডিটা তুমিই খাও......”

বাবা পরের দিনই তার বন্ধুকে আনিয়ে ভোট্টুকে গোসল আর টিকা দেয়ার জন্য পাঠিয়ে দিলেন। ভোট্টুকে বাসায় নিয়ে আসা হল তার পরের দিন।

ভোট্টুকে দেখে চেনাই যায় না, রীতিমত সিনেমার কুকুর নায়কের মত দেখাচ্ছে! গলায় সুন্দর একটা বেল্টও পরিয়ে দেয়া হয়েছে। সারা গা থেকে মিষ্টি শ্যাম্পু শ্যাম্পু ঘ্রাণ। গায়ের রঙ উজ্জ্বল হয়েছে আরো।

আম্মা তো ভোট্টুকে ঘরে ঢুকতেই দেবে না বলে ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু কলিং বেল টেপার পর আম্মা দরজা খুলে দিতেই ভোট্টু আমার শেখানো কায়দায় আম্মাকে স্যালুট দিয়ে আম্মার পায়ের কাছে থাবা মেলে বসে পড়তেই আম্মা গলে গেছে!

ভোট্টু এখন বাবাকোয়ার মিলিটারি বাহিনীতে জয়েন করেছে। হাবিলদার পদে বর্তমানে কর্মরত আছে ভোট্টু। প্রতিরাতে সে বাড়ীর চারপাশে ডিউটি দেয়। কিন্তু সব সময় ডিউটি শেষ করে ভোর রাতে দরজার সামনে পা পোষের ওপর এসে ঘুমিয়ে পড়ে। বাবা সকাল বেলা জগিং করার জন্য দরজা খুলে প্রায়ই ভোট্টুর লেজে পা দিয়ে ফেলে। তারপর ভোট্টু আর বাবা -দুজনের আতঙ্কিত চিৎকারে সারা বাড়ীর লোক ঘুম থেকে উঠে যায়!

আমি হাবিলদার ভোট্টুকে অনেকবার বলেছি যাতে ওখানে না শোয়। কিন্তু আমার কথা কানেই তোলে নাই। মেজর মুরগী এ নিয়ে ওকে ধমক দিয়েছিল। কিন্তু হাবিলদার ভোট্টু রেগে গিয়ে মেজর মুরগীকে দৌড়ানি দিয়েছে। এমনিতেই মেজর মুরগীর বয়স হয়েছে, হাফানির টান ওঠে যখন তখন। হাবিলদার ভোট্টুর দৌড়ানি খেয়ে বেচারা অসুস্থ হয়ে পরেছে। স্বাস্থ্যকর্মী বিন্তি জানিয়েছে প্রেশার বেড়ে গেছে মেজর মুরগীর। বাবাকোয়া তাকে এক সপ্তাহের বেড রেস্টে পাঠিয়ে দিয়েছে। হাবিলদার ভোট্টুকে কড়া গলায় ধমক দিতে হবে। সিনিয়র মুরগীর সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হয় জানে না? মেজর মুরগী একজন দেশ প্রেমিক, নিষ্ঠাবান মিলিটারি। তাকে দৌড়ানি দেওয়া কি ঠিক? ঠিক না। মোটেই উচিত হয় নাই......”



বাবাকোয়া একটা নিঃশ্বাস ফেলে ডায়েরিটা বন্ধ করল। দেয়াল ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে দেখে সাড়ে সাতটা বাজে। স্কুলে যাওয়ার সময় হয়ে গেছে। হেলমেটটা ঠিক করে মাথায় বসিয়ে গম্ভীর গলায় হাবিলদার ভোট্টুকে উদ্দেশ্য করে বলল, “হাবিলদার ভোট্টু, এখন আমি স্কুলে যাবো। আমি ফিরে আসা পর্যন্ত বাসার প্রতিরক্ষা দপ্তরের দায়িত্ব তোমার হাতে থাকলো। কোনো রকম গণ্ডগোল যেন না হয়।”

টেবিলের নিচ থেকে বেরিয়ে এল বাবাই। ভোট্টু সাথে সাথে লেজ নাড়তে নাড়তে উঠে দাঁড়ালো অনুগত ভঙ্গিতে। মেজর মুরগী কেবল ঢুলু ঢুলু চোখে বাবাইয়ের দিকে তাকালো একবার। তারপর আবার মুখ ডানার ভেতর গুজে দিল।

রান্নাঘর থেকে নোভেরা ব্যস্ত গলায় ডাক দিল, “বাবাই? রেডি হয়েছিস? স্কুলের টাইম হয়ে গেছে টুকুন। যা রেডি হয়ে নে।”

বাবাই তাড়াতাড়ি রওনা দিল ঘরের দিকে। রেডি হতে হবে স্কুলের জন্য।





বাবাই স্কুলের ব্যাগ নিজেই গোছায়। প্রথম প্রথম নোভেরা নয়তো মিথিলা ব্যাগ গুছিয়ে দিত। কিন্তু কর্ণেল বাবাকোয়া ভাল মিলিটারি মানুষ। নিজের কাজ অন্যকে দিয়ে করানো ঠিক না। সে প্রতিদিন বাসায় এসে ভাল মত স্কুলের হোম ওয়ার্ক করে, ব্যাগ গুছিয়ে রাখে। সন্ধ্যার দিকে নিজের পড়া শেষ করে বাবালী, কমান্ডো চিফ ক্যাপ্টেন গেছো ব্যাঙ, মেজর মুরগী, হাবিলদার ভোট্টুদের জন্য বিশেষ শিশু ও সামরিক শিক্ষা ক্লাস নেয়। মিথিলা মাঝে মাঝে এই ক্লাসে উপস্থিত থাকে। সে বাবাইয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ভাল ভাবে চালানোর জন্য ছোট একটা হোয়াইট বোর্ড আর মার্কার কিনে দিয়েছে। বাবাই প্রতিদিন সন্ধ্যা সাড়ে আটটায় এই ক্লাস নেয় ডাইনিং রুমের মেঝেতে। বিন্তি সহ বিল্ডিং এর অন্যান্য ছোট ছোট বাচ্চারাও প্রায়ই আসে এই ক্লাস করতে। কেউ অবশ্য পড়াশোনা করে না। মেঝেতে থাবা মেরে বাবলীর সাথে খেলতে থাকে, নয়তো টিভি ছেড়ে দেয়। কেউ কেউ আবার হাই তুলে ঘুমিয়ে পড়ে।

বাবাকোয়া গত কয়দিন ধরেই টিভির খবর মনোযোগ দিয়ে শুনছে। জাহিদ সন্ধ্যা থেকেই খবরের চ্যানেল চালিয়ে দিয়ে বসে বসে ঝিমায়। বাবাকোয়া সে সময় গিয়ে বসে বসে খবর শোনে। নানান জায়গা থেকে নাকি ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের কারা যেন কিডন্যাপ করে নিয়ে যাচ্ছে। কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না তাদের। কর্ণেল বাবাকোয়া ব্যাপারটা নিয়ে খুব চিন্তিত। এদের ‘ছেলে ধরা’ বলা হলেও এরা নাকি বাচ্চা মেয়েদেরকেও বাদ দিচ্ছে না। বাবাকোয়া বাবলীকে নিয়ে চিন্তিত। শিশু ধরা’রা নাকি চকোলেট, আইসক্রিমের মত দামী দামী জিনিসের লোভ দেখিয়ে বাঘা বাঘা বাচ্চাদের কিডন্যাপ করে নিচ্ছে। সেখানে বাবলী তো কিছুই না। ওকে একটা সেদ্ধ আলু দেখালেই আনন্দিত মুখে হামাগুড়ি দিয়ে চলে যাবে শিশু ধরা’দের সাথে। বাবাই ছোট বোনের নিরাপত্তার জন্য হাবিলদার ভোট্টু ও কমান্ডো চিফ ক্যাপ্টেন গেছো ব্যাঙকে নিয়োগ দিয়েছে। মেজর মুরগীকে এই বয়সে দৌড় ঝাপের কাজে রাখা যাবে না। শিশু ধরা এলে মেজর মুরগী খবরটা জানান দিতে গিয়েই হয়রান হয়ে যাবে। এজন্য তাকে শিশু কেয়ার ইউনিটের চিফ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বাবাকোয়া। এখানে দৌড় ঝাপের কোনো কাজ নেই।

বাবাকোয়া বিন্তি সহ বিল্ডিং’এর অন্যান্য বাচ্চাদের নিয়ে শিশু ধরা প্রতিরোধ মূলক কর্মসূচি হাতে নেয়ার চিন্তা ভাবনা করছে। বাবাকোয়া প্রায় প্রতিদিনই বোর্ড লিখে ভরিয়ে ফেলছে নানান ধরণের দিক নির্দেশনা মূলক কথা দিয়ে-

“এক নাম্বার হলঃ অপরিচিত কারো কাছ থেকে আইসক্রিম, বিস্কুট, আচার, ঝালমুড়ি, চিপস, চকোলেট নেয়া যাবে না।” বাবাই অন্যদের দিকে তাকায়, “বুঝা গেল?”

বাকিরা একে অন্যের মুখ চাওয়া চাওয়ি করে অবাক হয়ে। এত ভাল ভাল খাবার নেয়া যাবে না?

“দুই নাম্বার হলঃ স্কুল ছুটির পর আম্মু আব্বু ছাড়া একা একা বাসায় ফেরা ঠিক না। রাস্তায় কেউ ডাকলে যাওয়া উচিত না। কারণ সে’ও শিশু ধরা। বোঝা গেছে? যারা বুঝো নাই হাত তুলো?”

দেখা গেল কেউ হাত তুলেনি। তারমানে সবাই বুঝে গেছে। বাবাই সন্তুষ্ট মনে পড়াতে থাকে সবাইকে।

মিথিলা রান্নাঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে বাবাইয়ের পড়ানো দেখতে দেখতে নিচু গলায় নোভেরাকে বলল, “আপু, তোর ছেলে তো বাঙালী জাতির নেতা হয়ে যাবে একদিন! কি সুন্দর করে ছেলে ধরাদের বিরুদ্ধে ইন্সট্রাকশন দিচ্ছে বাচ্চাদের! তোর গর্ব করা উচিত!” কণ্ঠে বিস্ময়ের আভাস।

নোভেরা রান্নাঘর থেকে সবে বেরিয়েছিল, হাতে ডাক্তারি বই। এফসিপিএস পার্ট টু নিয়ে গত কয়দিন ধরে ব্যস্ত সে। হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়েছে পরীক্ষার জন্য। সারাদিন পড়াশোনার ওপরে আছে। রান্নাঘরে গিয়েও বই নিয়ে পড়ে রান্নার ফাঁকে ফাঁকে।

মিথিলার কথা শুনে বই থেকে মুখ তুলল বিরক্ত চোখে, “জাতির নেতা? যে ইন্সট্রাকশন দিয়েছে ওদের- তাতে বিপদ আরো বাড়াবে এই বান্দরটা।”

মিথিলা অবাক হয়ে তাকাল, “মানে!”

বইটা খটাস্‌ শব্দে বন্ধ করে বলল, “ঐ যে বলল না রাস্তায় অপরিচিত কেউ ডাকলে যেন না যায়? সেদিন স্কুল থেকে ফেরার সময় আমি যেতে পারিনি। একা একাই আসছিল বাবাই। রাস্তা পেরুতে পারছে না দেখে একটা ট্রাফিক পুলিশ কচু ক্ষেতের সামনে করে দিতে এসেছিল। লোকটা বোধ হয় অফ টাইমে ইউনিফর্ম পড়ে বাজার করতে এসেছিল ওখানে; নিজের এড়িয়ার বাহিরে। এই বান্দরটা তো অতি বুদ্ধিমান, ভেবেছে ছদ্মবেশে পুলিশ সেজে এসেছে সাহায্য করার ভান করতে, আসলে কিডন্যাপ করার উদ্দেশ্য তাকে- ব্যাস। আর যায় কই? গলা ফাটিয়ে এই ছেলে ‘শিশু ধরা শিশু ধরা’ বলে একশো ডেসিবেলে চিল্লানো শুরু করলো সাহায্য চেয়ে। বেচারা ট্রাফিক পুলিশ ভাই কিছু বুঝে ওঠার আগেই আশে পাশের পাবলিকের ধোলাই খেয়ে ভর্তা হয়ে গেছে। সোজা পিজিতে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। জাহিদের যে কি দৌড়ানিটাই না গেল সেদিন। এক বার এক্স-রে করাও, একবার সেলাই করাও, ব্যান্ডেজ লাগাও। ভাগ্য ভাল যে লোকটা আসলেই খুব ভাল মানুষ ছিল। কিছু বলে নাই। চাইলে মামলা টামলা ঠুকে দিতে পারত।”

মিথিলা হতভম্ব হয়ে গেল, “লোকে তাই বলে পুলিশ পেটাবে? ইন ইউনিফর্ম!”

হাত নাড়লো নোভেরা, “এই ছেলে কি আর সেই রাস্তা বাকি রেখেছে যে ইউনিফর্ম দিয়ে বাঁচবে ঐ পুলিশ? সে তো শুরুতেই চেঁচিয়ে বলে দিয়েছে ‘ছদ্মবেশি শিশু ধরা! পুলিশ সেজে এসেছে!’ পাবলিক কি আর তখন ভেরিফিকেশন করতে গ্রামের বাড়ীতে লোক পাঠাবে? ওখানেই ওঝা হয়ে ভূত ঝেড়ে দিয়েছে।” তিক্ত গলায় বলল।

মিথিলা শুঁকনো মুখে বাবাইয়ের দিকে তাকায়। নীল হেলমেট পরে বাবাই গম্ভীর মুখে ক্লাস নিচ্ছে, “ওরা চকোলেটের ভেতর অজ্ঞান করার ওষুধ দিতে পারে। তাই সেগুলো খাওয়া ঠিক না। বাবলী আলু খায়, আলুতেও ওষুধ দিতে পারে; তাই বাবলী যেন অন্য কারো দেয়া আলু না খায়। সবাই বাসায় তৈরি খাবার খাবে। বাসায় তৈরি খাবারে ভিটামিন বেশি। আম্মা বলেছে। বাহিরের খাবারে ভিটামিন নাই। এই যে আমাকে দেখো, আমি কর্ণেল পদে প্রোমোশন পেয়েছি কেবল মাত্র বাসার পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার খেয়ে। বাহিরের খাবার খেলে আমার স্বাস্থ্য ভাল থাকতো না, প্রোমোশনও হতো না। মিলিটারিতে সু-স্বাস্থ্য রক্ষাও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ঠিক আছে? যারা বুঝো নাই হাত তুলো।”

হাত তুলল না কেউ। অল্প কয়েকজন শুধু মাথা নাড়ল, বাকিদের বেশির ভাগ ঘুমিয়ে পড়েছে ম্যাট্রেসের ওপর। বাবলীকেও দেখা গেল একটা বড় সড় আলু এক হাতে খামচে ধরে অন্য হাতে মেজর মুরগীকে বোগল দাবা করে ছাদের দিকে হাত পা তুলে হা হয়ে ঘুমাচ্ছে। মেজর মুরগী শিশু কেয়ার ইউনিটের চিফ। তাই চেঁচাতে পারছেন না। কেবল ভয়ার্ত স্বরে বার দুয়েক মৃদু কঁক কঁক করে বাবলীর থাবার নিচেই ঝিমাতে শুরু করলেন।

হাবিলদার ভোট্টু লেজ কামড়ানো নিয়ে ব্যস্ত। শুধু মাত্র বিন্তি মনোযোগ দিয়ে ক্লাস করেছে। বাবাকোয়া হতাশ মুখে তাকিয়ে রইল। এত গুরুত্বপূর্ণ একটা ক্লাসে কেউ ঘুমায়! এটা কি ঠিক? ঠিক না!

নোভেরা আর মিথিলা রান্নাঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে দেখল মনঃক্ষুণ্ণ মাস্টার কর্ণেল বাবাকোয়া ডাস্টার দিয়ে বোর্ড মুছতে শুরু করেছে। ছোট একটা এলুমিনিয়ামের বাটিতে বিন্তি চামচ পিটিয়ে স্কুল ছুটির ঘোষণা দিল।

ঘুম ঘুম চোখে কয়েকজন সেটা একটু দেখে আবার ঘুমিয়ে গেল। তাদের দ্বারা বাসায় ফেরা সম্ভব না। আম্মুদের এসে নিয়ে যেতে হবে।

মিথিলা নিজের অজান্তেই হাসি চাপল। বাবাইয়ের সামনে হাসা ঠিক হবে না। মিলিটারি মানুষ। রাগ করতে পারে।





দুদিন পরের ঘটনা। পাশের বাড়ীতে আনিস সাহেবের মেয়ের বিয়ে হচ্ছে দেখে বাবাইদের বিল্ডিং’এর সবাই বিয়ে বাড়িতে এসেছে বিকেল দিকে। বেশ বড় সড় আয়োজন। ব্যান্ড পার্টি এনে দুপুর থেকেই পুরো এলাকা সরগরম করে রেখেছেন আনিস সাহেব। গেটের কাছে ব্রাউন কোট পরে হাসি হাসি মুখে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। মেহমানরা এলেই দাঁত বের করে হেসে এগিয়ে যাচ্ছেন। জাহিদ-নোভেরা বাবাই, বাবলীকে নিয়ে এসেছে বিয়েতে। খানিক পর পর আনিস সাহেব মেহমানদের খাওয়া দাওয়া, বসার ব্যবস্থা সম্পর্কে তদারক করতে আসছেন গেট থেকে। দারাজ গলায় হেসে সবাইকে বারবার জিজ্ঞেস করছেন, “সব ঠিক ঠাক আছে তো? কোনো অসুবিধা হচ্ছে না তো ভাই?” কথাটা বেশির ভাগ জাহিদকেই জিজ্ঞেস করছেন। কারণ বর হল জাহিদের অফিসের জুনিয়র কলিগ। সম্বন্ধটা অনেকটা জাহিদের মাধ্যমেই হয়েছে।

জাহিদ প্রতিবারই ভদ্রতামূলক হাসি দিয়ে বলছে, “অনেক বিশাল আয়োজন করেছেন দেখি! প্যাপার পত্রিকায় না চলে আসে!”

আনিস সাহেব এই কথা শুনে ভুঁড়ি কাঁপিয়ে হাসা শুরু করেন। যেন বিরাট কোনো রসিকতা করে ফেলেছে জাহিদ। “ভাবী আপনি কিছু বলছেন না যে?” নোভেরার দিকে তাকান তিনি।

বাবলীকে বগলদাবা করে রাখতে গিয়ে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে নোভেরা। বাবলী মাটিতে নামার জন্য অস্থির হয়ে গেছে। ওকে কোনোমতে ধরে রেখে জোর করে মুখে হাসি ফুটিয়ে জাহিদের কথার সঙ্গে যোগ করে নোভেরা, “আসলেই অনেক সুন্দর এরেঞ্জমেন্ট করেছেন, মনে রাখার মত!”

আনিস সাহেবের আনন্দ দেখে কে? তিনি আধ ঝুলন্ত অবস্থায় বাবলীর গাল টিপে দিয়ে গদ গদ স্বরে বলেন, “কি গো মামনী? কিছু খাবা? চকোলেট?”

বাবলী নোভেরার কোলে হাচর পাচর ছেড়ে দিয়ে চোখ বড় বড় করে আনিস সাহেবের দিকে তাকায় কিছুক্ষণ। তারপরেই গলার কয়েক ধাপ উঠিয়ে দুঃখী দুঃখী মুখে বলে ওঠে। “হুঁ! আলু দেউ!! আলু খাবো!!!”

আনিস সাহেবের হাসি মিলিয়ে যায় মুহূর্তের মধ্যে। তিনি হন্তদন্ত হয়ে বাড়ীর পেছনে যেদিকে রান্না বসানো হয়েছে সেদিকে আলুর ব্যাপারে খোঁজ নিতে যান চিন্তিত মুখে। বিয়ে বাড়ীতে এসে একটা ছোট বাচ্চা আলু খেতে চেয়েছে- আর তিনি যদি আলু যোগার করতে না পারলেন- তাহলে বিয়ের আয়োজনে স্বার্থকতা কই থাকলো?

জাহিদ কেবল হাসি চেপে মেয়ের দিকে তাকিয়ে বলেছে, “মা আলুবতী আনন্দময়ী?”

নোভেরার বগলের নিচ থেকে মাথা বের করে বাবার দিকে তাকায় বাবলী, “উঁ?”

“এভাবে আলু চাইতে হয় না মা। বাসায় গেলে আম্মু আলু সেদ্ধ করে দিবে, কেমন?” মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় জাহিদ।

বাবলী গম্ভীর মুখে বাবার কথা বিবেচনা করে দেখতে থাকে।

নোভেরা জাহিদের দিকে তাকিয়ে বিরক্ত মুখে বলল, “তোমার মেয়ে হয়েছে তোমার মত! যেখানে সেখানে আলু চায়!”

চোখ মোটকে তাকায় জাহিদ, “আমি কি আলু চাই নাকি?”

“বিয়ের আগে তো খালি আলু ভাজি চেয়ে বেড়াতে। হলের খাবার মুখে রুচে না দেখে সারা জীবন মানুশকে দেখেছি ডিম ভাজি খেতে। তোমাকেই প্রথম দেখলাম আলু ভাজি খেতে তিন বেলা। তাও আবার নিজে বানাতে পারো না। আমাকে বানিয়ে টিফিনে ভরে দিতে হতো!”

“তোমার আলু ভাজির প্রেমে পড়েই তো বিয়েটা করলাম। গুণ বলতে তো তোমার মধ্যে ঐ একটা জিনিসই আছে বেগাম!” উদার গলায় বলল জাহিদ।

চোখ পাঁকালো নোভেরা। অন্য ফ্ল্যাটের ভাবীরা এসে পড়ায় জাহিদকে আর কিছু বলতে পারলো না। । কেবল একটা অগ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ করে তাদের সঙ্গে কথা বলতে চলে গেল বাবলীকে নিয়ে।

জাহিদ ফোঁস করে একটা নিঃশ্বাস ফেলে সামনে ঘুরতেই অবাক হয়ে দেখল বাবাই নেই। নোভেরার সঙ্গে কথা বলার ফাঁকে কখন যে সরে পড়েছে কর্ণেল সাহেব- টেরই পায়নি। শুরু থেকেই বিয়ে বাড়ীতে আসতে চাচ্ছিল না বাবাই। সন্ধ্যায় ওর গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস নিতে হবে। দুপুর থেকেই গাঁই গুঁই করছিল আসবে না বলে। ওর বলে ভিড় ভাড় ভাল লাগে না। তাছাড়া দেশ প্রেমিক মিলিটারিদের নাকি বিলাসীতা মানায় না। এতে দায়িত্ব কর্তব্য পালন করায় অলসতা আসে।

জাহিদ অবাক হয়ে ছেলেকে কিছু বলেনি। শুধু বলেছে, “কিন্তু সামাজিকতা রক্ষা করার জন্য হলেও মাঝে মাঝে যেতে হয় বাবাই। না হলে মানুষ কষ্ট পায়।”

বাবাকোয়া মেনে নিয়েছে সেটা অসন্তুষ্ট মনে। মুখ গোজ করে কাপড় চোপড় পরেছে। ছেলের মুখ দেখে নোভেরা ধমক লাগিয়েছে, “মুখ ওরকম প্যাঁচার মত করে রেখেছিস কেন? তোর তো বিয়ে দেয়া হচ্ছে না। মুখ ঠিক কর। আর ওখানে গিয়ে কোনো রকম বাঁদরামী করবি না! সামনে থেকে যা এখন।” বাবাই সুর সুর করে চলে এসেছে। আম্মার ঝাড়ি খেতে ভয় পায় বাবাকোয়া।

কিন্তু খানিকক্ষণ পর কর্ণেল বাবাকোয়া গম্ভীর মুখে এসে নোভেরাকে বলল, “আম্মা, প্যান্ট ছিঁড়ে গেছে।”

নোভেরা ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে চুল আঁচড়াচ্ছিল, বাবাইয়ের গলা শুনে পেছনে ফিরে তাকাল। বাবাই ওর হাফ প্যান্টটা খুলে এনেছে। ঝোলা শার্টটা কোনোমতে নিচের দিকে টেনে টুকে রেখেছে।

“দেখি?” বাবাইয়ের হাত থেকে জিন্সের হাঁফ প্যান্টটা নিল বিরক্ত মুখে। পেছনের সেলাই ফাটিয়ে ফেলেছে বাবাই। “এত শক্ত জিন্সের প্যান্টের পেছনটা ছিঁড়ে ফেলেছিস! তোর পাছায় কি তলোয়ার ফিট করা?” হাতে সময় নেই একদম, সেলাই করতে গেলে দেরি হয়ে যাবে, “অন্য কোনো একটা পরে নে আজকে।”

“আম্মা এইটা অনেক সুন্দর।” কাঁচুমাচু মুখে বাবাই বলার চেষ্টা করল, “একটু সেলাই করে দেও না?”

ছেলের দিকে জ্বলন্ত চোখে একবার তাকিয়ে ড্রয়ার খুলে সুঁচ-সুতা বের করল নোভেরা। চুল আঁচড়ানো বাদ দিয়ে প্যান্ট সেলাই করতে বসে গেল।

জাহিদ নোভেরাকে ডাকতে এসেছে দেখলো বাবাই ঝোলা শার্ট পরে দাঁড়িয়ে আছে শুঁকনো মুখে। নোভেরা সেলাই করছে প্যান্ট। অবাক হয়ে বলল জাহিদ, “এখন আবার কি শুরু করলে বেগাম? যাবে না?”

ঝাঁঝালো গলায় জবাব দিল নোভেরা, “যেতেই তো চাই। তোমার ছেলের জন্যই তো যত দেরি হচ্ছে। কর্ণেল সাহেবের পাছায় সোর্ড অফ অনারের তলোয়ার রাখা। যেটাই পরে- দুদিনেই ফাঁটিয়ে ফেলে! ওকে লোহার পাজামা পরাতে হবে এখন থেকে। ওর প্যান্ট বানানো দর্জির কাজ না, কামারের কাজ!”

জাহিদ বিস্মিত হয়ে ছেলের দিকে তাকালো। কর্ণেল সাহেব জড়ো সড়ো হয়ে শার্টের প্রান্তদেশ টেনে টুনে নামিয়ে রাখতে ব্যস্ত। হাসা ঠিক হবে না। কিন্তু গম্ভীর হওয়ার শত চেষ্টা করেও হাসি আটকাতে পারলো না জাহিদ, হা হা করে হেসে ফেলল।

কর্ণেল বাবাকোয়া দুঃখী দুঃখী মুখে তাকালো বাবার দিকে। একজন সম্মানিত কর্ণেলের এই অবস্থা দেখে হেসে ফেলা মানে হল কোর্ট মার্শালের শামিল। বাবাকোয়া দুঃখ পেয়েছে।



কিন্তু বিয়ে বাড়ীতে এসে জাহিদের’ই মন টিকছে না। ভিড় ভাড় তারও ভাল লাগে না, ছেলের আর ভাল লাগবে কেমন করে? বিমর্ষ মুখে অফিস কলিগদের সঙ্গে কথা বলতে লাগল অনিচ্ছা সত্ত্বেও। বাবাইকে দেখা যাচ্ছে না। বাসায় চলে যায়নি তো? চাবি হারিয়ে ফেলার ভয়ে নোভেরা দরজার বাহিরের পা পোষের নিচে চাবি রাখে। বাবাই জানে সেটা। বাসায় চলে যেতে পারে। হাবিলদার ভোট্টু, মেজর মুরগী, কমান্ডো চিফ ক্যাপ্টেন গেছো ব্যাঙ এর জন্য সারাক্ষণ ছেলেটার মন আঁকু পাঁকু করতে থাকে। যাক না। ক্ষতি কি? নিজেকেই যেন বোঝালো জাহিদ।

কিন্তু বেশিক্ষণ চিন্তা করতে হল না তাকে। গেটের লাইটগুলোর কাছে বাবাইকে অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল। জ্বলছে নিভছে বাতিগুলো। বাবাই গভীর বিস্ময় নিয়ে দেখছে সেটা। জাহিদ আস্বস্ত হল ছেলেকে দেখে। কলিগদের সাথে রাজনৈতিক আলোচনায় ফিরে গেল নিশ্চিন্ত মনে।



রাত সাড়ে আটটা বাজতেই বাবাকোয়ার উস খুস করা শুরু হয়ে গেল। এতক্ষণ একা একা বিয়ে বাড়ীতে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। কিন্তু শিশু ও সামরিক শিক্ষা ক্লাসের সময় হতেই চিন্তিত হয়ে পড়ল। গম্ভীর মুখে বিয়ে বাড়ীর যেখানে যেখানে তার ক্লাসের ছাত্র ছাত্রীকে পাওয়া গেল- বাবাই ধরে আনার চেষ্টা করল। যদিও বিন্তিকেই একমাত্র আগ্রহী দেখা গেল। বাকিরা দ্বিধা দ্বন্দে ভুগছে যাবে কি যাবে না। বাবাইদের বাসার ওপর তলার মোটা সোটা ছেলেটাও (বিস্কুট চৌধুরী- বেশি বিস্কুট খায় দেখে বাবাই এই নাম দিয়েছে) রাজী হল ক্লাসে যেতে। বিয়ে বাড়ীর খাওয়া দাওয়া শেষ হয়ে গেছে। ভীষণ শব্দে ঢেকুর তুলছে সে। বড় বড় ফোলা গালের ওপর প্রায় দেখা যায় না- কুতকুতে চোখগুলোতে গাম্ভীর্য ফুটিয়ে বাবাইকে বলল, “কর্ণেল বাবাকোয়া, চল আমরা ক্লাসে যাই। আজকে আর কেউ আসবে না মনে হয়।”

বাবাই হতাশ মুখে তাকায় বাকিদের প্রতি। সবাই খেলাধূলায় ব্যস্ত। শিশু ও সামরিক শিক্ষার মত গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস বাদ দিয়ে সবাই খেলাধূলা করছে। ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে কর্ণেল বাবাকোয়া। শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ও মনোযোগের কত অভাব আজকাল কার বাচ্চাদের মাঝে!



বাবাইদের বিল্ডিংটা অন্ধকারে ডুবে আছে। সিকিউরিটি লাইট জ্বলছে কেবল বাহিরে। গার্ড রুমে মতি মিয়াঁ ঝিমাচ্ছে লাঠিতে হাত রেখে। কে আসছে কে যাচ্ছে- কোনো খবর নেই।

লিফট নষ্ট, মেকানিক ডেকে কাজ করাবে করাবে বলেও ফেলে রাখা হয়েছে কয়দিন হল। বাবাই’রা যখন সিঁড়ি বেয়ে ওঠা শুরু করল অন্ধকারের মধ্যে, বিন্তি হঠাৎ কেমন যেন ভয়ার্ত গলায় বাবাইয়ের হাত খামচে ধরলো, “বাবাই, ঐটা কিসের শব্দ?”

বিস্কুট চৌধুরী অনেক পেছনে। উঠতে উঠতে হাঁফিয়ে যাচ্ছে। বার বার থেমে থেমে দম নিচ্ছে হা করে। শিসের মত শব্দ হচ্ছে। বিন্তির কথা শুনে দাঁড়িয়ে পড়ল বাবাই। শব্দটা বিস্কুট চৌধুরীর নিঃশ্বাসের না। অন্য কিছুর। বাবাইদের ফ্ল্যাট যে ফ্লোরে- ওখান থেকে শব্দটা আসছে। মৃদু গরগর ধরণের শব্দ। বাবাকোয়া সাধারণত ভয় পায় না, কিন্তু এবারে কেমন যেন গা শির শির করে উঠল। তবে বিন্তিকে অভয় দিল, “ভয় পেয়ো না। ওটা কিছু না। ওপরে গেলেই দেখা যাবে।” সাহস দেয়ার জন্য নিজেই আগে আগে উঠতে লাগল। বিস্কুট চৌধুরীর এখনো দেখা নেই।

বাবাইদের ফ্লোরে লাইট জ্বলছে না। নষ্ট হয়ে গেছে কয়দিন আগে। বদলানো হয়নি। ঘুটঘুটে অন্ধকার। তার মাঝেই কর্ণেল বাবাকোয়া ভয়ে ভয়ে উঠে এলো ওদের ফ্ল্যাটের দিকে। গরগর শব্দগুলো আরো বেড়েছে, স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। ওদের দরজার সামনেই বসে রয়েছে কিছু একটা...

বিন্তি শুঁকনো মুখে বাবাইয়ের শার্ট ধরে রেখেছে পেছন থেকে। বাবাকোয়া ভীত গলায় জিজ্ঞেস করল, “ক্‌-কে ওইখানে?”

সাথে সাথে গরগর শব্দটা থেমে গেল। কয়েক মুহূর্ত নীরবতা। বাবাকোয়ার কপালে চিকন ঘাম দেখা দিয়েছে। ভূত না তো? মিলিটারি গাইড বুকে অবশ্য ভূতের ওপর কোন অধ্যায় লেখা হয় নাই এখনো। ভূত হলে লিখে ফেলতে হবে পরের বার।

হঠাৎ করে যেমন গরগর শব্দটা থেমে গিয়েছিল, ঠিক তেমনি হঠাৎ করেই খুব পরিচিত স্বরে ঘেঁউ ঘেঁউ করে উঠল অনেকগুলো কণ্ঠ। বাবাই সাথে সাথে খুব আনন্দিত গলায় বলে উঠল, “ছোট কুকুর-১,২,৩! তোমরা এসে পড়েছো!”

বিন্তি বেশ অবাক হয়ে আবছা অন্ধকারের মধ্যে দেখলো দুই তিনটা ছোট ছোট কুকুরের অবয়ব, দৌড়ে এসে বাবাইয়ের কাছে এসে ওর পায়ে গা ঘষতে লাগল আদুরে ভঙ্গিতে। মৃদু স্বরে কুঁই কুঁই করছে।

বিস্কুট চৌধুরী বহু কষ্টে ওপরে উঠে এসে সিঁড়িতে বসেই হা করে দম নিতে লাগল। এখনো বাবাকোয়াদের দেখেনি। তবে কুকুরগুলোর শব্দ পাচ্ছে।

বাবাই তাড়াতাড়ি দরজার দিকে এগিয়ে গেল। অন্ধকারের মাঝেই বুঝতে পারছে হাবিলদার ভোট্টুর তিন ভাই বোন ছাড়াও ওর বাবা মা’ও এসেছে। দরজার সামনের পা পোষে বিশাল থাবা মেলে শুয়ে আছে বাবা কুকুরটা। মা কুকুরটা অন্য পাশে। বাবাইকে দেখে ওরাও উঠে দাঁড়ালো। মৃদু স্বরে ভৌ ভৌউক করে মা কুকুরকটা যেন কিছু বোঝানোর চেষ্টা করল বাবাইকে। বাবাই গম্ভীর মুখে মাথা নাড়ল কেবল। ঘরের ভেতর থেকে দরজার ওপাশে ভোট্টুর কুঁই কুঁই ডাক শোনা যাচ্ছে। দরজায় আচড় দিচ্ছে। বাবা মা আর ভাই বোনদের কাছে আসার জন্য অস্থির হয়ে গেছে ভোট্টু। করুণ স্বরে ডাকছে আর আচড় দিচ্ছে দরজায়।

কর্ণেল বাবাকোয়া নরম হৃদয়ের মানুষ। ভোট্টু আর ভোট্টুর মা’র কথাগুলো যেন বুঝতে পারছিল সব। তাড়াতাড়ি পা পোষ উল্টে চাবিটা হাতড়ে বের করল বাবাই। কি হোলে ঢুকিয়ে মোচর দিতেই কিট্‌ করে শব্দ হল। দরজা ঠেলা দিতেই খুলে গেল। সঙ্গে সঙ্গে ভেতর থেকে হাবিলদার ভোট্টু রীতিমত পাগল হয়ে বাহিরে ছুটে বেরিয়ে এলো। বাবাইদের ঘরের লাইট জ্বলছিল, সেই আলোতে দেখা গেল ভোট্টু ছুটে গিয়ে ঝাপিয়ে পড়েছে বাবা মা আর ভাই বোনদের মাঝে। আদর করে সবাই ভোট্টুকে কামড়ে দিচ্ছে এখানে সেখানে। ভোট্টুও কামড়াচ্ছে সবাইকে। বাবা কুকুরটা কেবল গম্ভীর মুখে ভোট্টুর গলার কলারটা শুঁকে দেখল একবার। যেন সন্তুষ্ট হল। তারপর ওর কান কামড়ে আদর করে দিতে লাগল।

বাবাকোয়া মিলিটারি ছোট মানুষ। আবেগ তাকে মানায় না। সে গম্ভীর মুখে ভেতরে চলে এলো। বাহিরে বিন্তি আর বিস্কুট চৌধুরী চোখ বড় বড় করে অবাক হয়ে কুকুর সংসারের পূণর্মিলন দৃশ্য দেখছে। বিস্কুট চৌধুরীর মনটা নরম। একটু পর দেখা গেল সে শার্টের হাতায় নাক ঝাড়ছে।

ভেতরে বাবাকোয়া শান্ত মুখে নীল হেলমেট মাথায় দিয়ে ক্লাস নেবার জন্য তৈরি হয়ে গেছে। মেজর মুরগী ঢুলু ঢুলু চোখে ভোট্টুদের কামড়া কামড়ি দেখছে অলস ভঙ্গিতে। নোভেরা না থাকায় বাবলীর ইঁদুর ছানারা নির্বিঘ্নে ছোটা ছুটি করছে ঘরময়। বাবাই আড় চোখে তাকিয়ে দেখলো বাবলীর দেয়া আলু খেয়ে বেশ গাবদা গোবদা হয়েছে ইঁদুর গুলো। একটা নিঃশ্বাস ফেলে টিফিনটার দিকে তাকাল ডাইনিং টেবিলের নিচে। কমান্ডো চিফ ক্যাপ্টেন গেছো ব্যাঙ টিফিন বাটির বাহিরে বসে রয়েছে মূর্তির মত। বোধ হয় ধ্যান করছেন। কুংফু, কারাতে যারা জানে- তারা ধ্যান করতে পছন্দ করে। তবে ধ্যানের ফাঁকে ফাঁকে হঠাৎ করেই লম্বা জিভ বের করে উড়ন্ত মশা মাছি ধরে ক্যোঁৎ করে গিলে ফেলছেন তিনি। ইদানীং বাবাকোয়াও তার মত ধ্যানে বসে, তবে জিভ বের করে উড়ন্ত মশা ধরতে পারে না। মাঝে মাঝে অবশ্য থাবা মেরে মশা চ্যাপ্টা করার পর মুখে দেয় বাবাই। কিন্তু স্বাদ না থাকায় ফেলে দিতে হয় প্রতিবারই। মশাতে কোনো পুষ্টি আছে কিনা বাবাকে জিজ্ঞেস করতে হবে। ভিটামিন থাকলে তো মশা খেতেই হবে।

গম্ভীর মুখে ডাস্টার বাড়ি দিল বোর্ডে বাবাকোয়া। ক্লাসের সময় হয়ে গেছে।



পরের পর্বে সমাপ্যঃ বাবাকোয়া র‍্যাভ্যুলুশন - খ

মন্তব্য ১ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ০১ লা জুন, ২০১৩ রাত ৮:১৩

মহামহোপাধ্যায় বলেছেন: ভালো লাগলো ভাইয়া। পোস্টটা বোধহয় দুইবার চলে এসেছে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.