নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমার চারপাশের মানুষ গুলো অনেক ভাল।

নিথর শ্রাবণ শিহাব

মাটির মানুষ ভিজলে কাদা হয় না কেন প্রশ্ন জাগে, মানুষ গড়া অন্যকিছুয় আমার শুধু এমন লাগে।

নিথর শ্রাবণ শিহাব › বিস্তারিত পোস্টঃ

চারুলতা - ছয়

১৮ ই নভেম্বর, ২০১৪ দুপুর ২:০০

হঠাৎ করেই খবর এলো-
সব চাকা আর পায়ের দল স্ট্রাইক নিয়েছে,
রাস্তারা সব সাপের মত শীত নিদ্রায় ঘাপটি মেরেছে।
আচমকাই বাতাসে ভেসে এলো-
মোবাইল কোম্পানীগুলো বিলুপ্ত হয়ে গেছে,
রেডিও, টেলিভিশন, ইন্টারনেট আর ডাকঘর-টেলিগ্রাফ
অবসর নিয়েছে। সংবাদ পত্রেরা কাগজের প্লেন
কিংবা টয়লেট পেপারে বদলে গেছে।
দমকা হাওয়ার মত বিদায় নিয়েছে সব স্বঘোষিত
প্রেমিকের দল, কিংবা আমি।
আর কোনো বার্তা বাহক মাধ্যম রইলো না,
তোমার। কলমের নিবেরাও স্ট্রাইক করেছে,
কাগজের ওপর আজ থেকে অনির্দিষ্টকালীন হরতাল
তোমার ডায়েরি লেখাতেও কার্ফিউ জারি হয়েছে।
কণ্ঠ আর চোখের ওপর জারি করেছে ১৪৪ ধারা।
কণ্ঠের শব্দেরা সভা সমাবেশ অথবা জটলা পাকাতে পারবে না।
চোখের অশ্রুরাও মিছিল বের করতে পারবে না।
চারুলতা- ভালবাসার সমাপ্তিটা কেমন হবে?

পৃথিবীর সব পায়রা আর কবুতরের ডানায়
আচমকাই ধর্মঘট শুরু হবে। কোনো চিরকুট
আর ঠিকানায় পৌছাবে না। কেমন হবে?

তোমার বেড সাইড টেবিলের ড্রয়ারের লকে
আন্দোলন- অভ্যুত্থান আর বিক্ষোভ লেগে যাবে।
এসপিরিন কিংবা ঘুমের ওষুধদের নজরবন্দী করে রাখবে,
ড্রয়ার খুলবে না আর। তোমার মাথা ব্যথা আর
নির্ঘুম রাতের কোনো সুরাহা হবে না।
ঘরের সিলিং ফ্যানটাও ওড়নার সাথে
সংলাপে বসতে চাইবে না তোমার আকুল আহ্বানে।
প্রতিটা ব্লেডের সঙ্গে হাতের শিরার
শান্তিচুক্তি হয়ে যাবে। কেমন হবে চারুলতা?

তোমার ডায়েরি পূর্বের সব পাতায়,
যেখানে নির্জনে আমার বসবাস, ঘরবাড়ি;
প্রোথিত শেকড়- যদি উপড়ে ফেলা হয়-
খুব সহসা! কেমন হবে?
পার্সের জমিয়ে রাখা টাকাগুলো যদি
সাদা কাগজে বদলে যায়, আর কোনো পথ?

ধরো খবর এলো,
আমার ঠিকানাও হারিয়ে গেছে। কালভার্ট আর চায়ের দোকান
সব হারিয়ে গেছে আমার ঘরের দরজাটার পাশ থেকে।
গর্জন গাছ বদলে গেছে, এখন একটা জলপাই গাছ-
আর কাঁচা বাঁশের সাঁকো। একটা ধানক্ষেত আর নৌকা।
পৌঁছাতে পারবে? হয়তো পারবে। হয়তো পারবে না......

চারুলতা? চুপ হয়ে গেলে কেনো?
ভাবছো আজ কি হোলো আমার?
কাঁপছো কেনো?
ভ্রুর নিচে মেঘ জমেছে? হাতের মুঠো শক্ত করে আছো?
পা দাপিয়ে ঘুরে চলে যাবে?
আশ্চর্য সুন্দর তো তোমার রাগ!
আমি মুগ্ধ হই।
বার বার মুগ্ধ হই। কবিরা প্রেমিক হয়,
কবিরা নিষ্ঠুর হয়। কাব্যের প্রেমাঘাত করে
আনন্দ পায়।

আরেররর! কি যন্ত্রণা! ক্ষেপে গেলে দেখি!
নেল পলিশের প্রতিক্ষায় তোমার বাড়ন্ত নখ তো
আমার দু বাহুর পেশিতে ভালবাসার
চাষাবাদ শুরু করেছে! আমার স্বস্তা ওয়ানম্যান
শার্টের বুকে এতো শব্দ আর কালো জলের
মিছিল কিসের!
১৪৪ ধারা ভেঙে দিলে নাকি!
(এই তরুণীর উদ্বেলিত চুলগুলোর কাঁপন
থামে না কেনো?)

চারুলতা, আমি মুগ্ধ হই।
বার বার মুগ্ধ হই। কবিরা প্রেমিক;
কবিরা নিষ্ঠুর। কিন্তু অসহায়ও বটে............

২২/১১/২০১৩ ইং
সাটিয়াবাড়ী, শ্রীপুর, রাজেন্দ্রপুর।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ১:৫২

আমি অথবা অন্য কেউ বলেছেন: চমতকার সিরিজটা। ডিফারেন্ট স্টাইল। হ্যাটস অফ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.