![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মাটির মানুষ ভিজলে কাদা হয় না কেন প্রশ্ন জাগে, মানুষ গড়া অন্যকিছুয় আমার শুধু এমন লাগে।
"তেলেপুকা তেলেপুকা কুথায় তুমি যাউ?
এত্ত কাগুজ কেমুন করে চিবিয়ে তুমি খাউ?
খাচ্ছো কেনু বই খাতা আর জুতার কালো ফিতা-
বুটের কালি খাউ নাকি ভাই- মিষ্টি নাকি তিতা?
আমিও খাই শাদা রবার- লাল কলমের কালি,
কেরসিনের তেল খেয়ে ভাই- পট করেছি খালি!
আম্মা মারে ধুরুম ধারুম- আব্বা হাসে তাই
বাবাকোয়ার সৈন্য নিয়ে- কুথায় আমি যাই?"
আসছে ক্যাপ্টেন বাবাকোয়া, অমর একুশে বইমেলা ২০১৭ তে Adee Prokashon(আদী প্রকাশন) থেকে। প্রচ্ছদ এবং অলঙ্করণ করেছেন মুহিব (Mu Hib), ভালবাসার গল্প পেইজে প্রায় ২০১১ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে ক্যাপ্টেন বাবাকোয়া বাবাই নামের এক ছয় সাত বছরের বাচ্চা ছেলের নানান দিনের করে বেড়ানো এডভেঞ্চার, ছেলেমানুষী, ডায়েরি লেখা, আর আমাদের প্রায় সবারই শৈশবে করে বেড়ানো অসংখ্য দুষ্টুমীকে একত্র করে কিছু গল্প প্রকাশিত হয়েছিল। পাঠকদের অনুরোধ ছিল এই গল্পগুলোকে একসাথে নিয়ে বই আকারে প্রকাশ করার। অবশেষে তাদের সেই ইচ্ছাই বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা নিলাম এতদিনে। তবে নতুন গল্পও থাকছে।
সকলের কাছে দোয়া এবং টাকা প্রার্থী। বই বের হলে সৌজন্য সংখ্যা চাহিয়া লজ্জা দিবেন না। বই নিজেও কিনুন, অন্যকে কিনতে উৎসাহিত করুন। বেচারা প্রকাশক সাহেবের হাহাকার, ক্রন্দন কীর্তন শুনতে কার ভাল লাগে? সবচেয়ে বড় কথা, এত পয়সা খরচ করে ছাপানো বইগুলোর কাগজের তো দাম দিতে হবে, হোক সেটা পাঠকের সেলফে কিংবা মুড়ির ঠোঙায়! বই যেতে হবে যত্র তত্র, বই থাকবে বিছানায় বালিশে। বই হবে টিস্যু পেপারে। কাগজের বইয়ের আন্দোলন হোক সবখানে। ডিজিটাল দুনিয়া এসে সেই পুরনো দিনের বইয়ের কাঁচা গন্ধ কেন কেড়ে নিয়ে যাবে? অলস দুপুরের সঙ্গী বই এখন হারিয়ে যাবে কেন?
এইটা অন্যায়! এইটা নিপীড়ন!!
বই কিনুন, প্রিয়জন, মহাজন, অভাজন এবং শত্রুদেরও বই উপহার দিন। বিয়ে বাড়িতে ফিন্নি সেট গিফট না করে বাবাকোয়া গিফট করুন। শুধু বাবাবোয়া কেন, দুনিয়ার যত ধরণের বই আছে, গিফট করুন। উপহার হিসেবে বইয়ের চেয়ে দামী কিছু নাই! দেশে আইন পাশ করানো হোক, ট্রাফিক সিগনাল ভঙ্গকারীকে দুইটি বই কিনতে হবে। কিনে পড়তে হবে, পড়ে রিভিউ দিতে হবে। আরো আইন করা হোক, শহরের মেয়রাদের বানানো রাস্তা ঘাট দুই মাসে সমুদ্র হয়ে যাওয়ার অপরাধে লজ্জিত হয়ে রাস্তা ভাল করে পূনর্নিমানের পাশাপাশি শহরের সমস্ত স্কুলের লাইব্রেরিতে গল্পের বই কিনে বন্টন করতে হবে। সংসদের স্পিকার সাহেবার উচিত সংসদে গালাগালি দেয়া সাংসদদের নগদে বিশ হাজার বই কিনে সমগ্র বাংলাদেশের সব প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুলে বিলি করে আসার শাস্তি দেয়া! ঋণ এবং কর খেলাপিদের জন্য শাস্তি হবে সমস্ত অর্থ দিয়ে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা এবং সম্ভাবনাময় লেখকদের বই বিনে পয়সায় প্রকাশ করে দেয়া। দেশে হাই কোট থেকে রুল জাড়ি করতে হবে যে প্রতি মাসে অন্তত সব স্কুলে, সব অসিফ আদালতে এক সপ্তাহের জন্য বই পড়া কর্মসূচীর আয়োজন করা, যেখানে দিনের কর্মভাগের মাত্র দেড় ঘণ্টা সময় সবাই যে যার মত বই পড়বে, রিভিউ লেখার জন্য একটা সেন্ট্রাল ডাটা ব্যাচ থাকবে। বই না পড়লে জড়িমানা করা হবে। বই পড়া আন্দোলনে রূপ নিতে হবে।
প্রযুক্তি যতই এগিয়ে যাক না কেন, কিছু কিছু জিনিসের আবেদন চিরন্তন। কাগজের বই সেই শ্রেণির একটি। এটা শিল্প। এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার। আমি এখন আমার চারপাশে তাকালেই দেখতে পাই, বই বিমুখ একটা জাতিতে পরিণত হচ্ছি আমরা দিন দিন। আমি নতুনকে ধিক্কার দিচ্ছি না, সাধুবাদ জানাই। কিন্তু পুরনোকে কেন ভুলে যাবো?
আসুন বই কিনি। বই পড়ি। শেখার উদ্দেশ্যে নয়, বাঁচার উদ্দেশ্যে, আনন্দের উদ্দেশ্য আর নতুন নতুন জীবন বোধ, দৃষ্টিকোণ বোঝার উদ্দেশ্যে বই পড়ি।
©somewhere in net ltd.
১|
০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:৩২
মাহমুদা হালিম বলেছেন: আসুন বইপড়ি আনন্দের উদ্দেশ্য ।