![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মাটির মানুষ ভিজলে কাদা হয় না কেন প্রশ্ন জাগে, মানুষ গড়া অন্যকিছুয় আমার শুধু এমন লাগে।
মিথ্যা বলাটা আদতে কতটা অপরাধের? সেটা যখন একজন মা তার বোকা সন্তানকে উৎসাহ দেয়ার উদ্দেশ্যে মিথ্যা বলে থাকেন? কিংবা একজন মিথ্যা সাক্ষ্মী যিনি জানেন যে তার একটা মিথ্যা সাক্ষ্যতে হয়ত একজন নিরপরাধী বেঁচে যাবেন ফাঁসির হাত থেকে। অথবা ধরে নিলাম কারো একটা মিথ্যা বলার কারণে হেনরি ট্রুম্যান আর হিরোশিমা নাগাসাকিতে এটম বোম ড্রপ করল না, এনোলা গ্যে'র পাইলট পল টিবেটসকে শেষ মুহূর্তে কেউ মিথ্যা বলে দিল যে মিত্র পক্ষের কাছে জার্মানি, জাপান আত্মসমর্পন করেছে, প্রেসিডেন্ট নিষেধ করেছেন বোম্বিং করতে। যদিও এই মিথ্যাটা কেউ বলেনি। কিন্তু ধরে নিলাম কেউ এই মিথ্যাটা বলল। এবং ইতিহাসে বিশাল ভয়ংকর একটা মানব হত্যা নিমেশে হারিয়ে গেল আমাদের স্মৃতি থেকে।
কিংবা হিটলারের প্রেমকে তিরোষ্কার করা ভিয়েনার সেই লাস্যময়ী তরুণী স্টিফানি আইজ্যাক যদি মিথ্যা হলেও বলে দিত যে সে হিটলারকে ভালবাসে? হিটলারের মায়ের স্মৃতিচিহ্ন সেই কুকুরটাকে আর মেরে ফেলতো না যদি সেই মেয়ের বাড়ির গার্ডেরা? তাহলে? ইতিহাস কি বদলে যেত না? শুধু মেয়েটা মিথ্যা বললে?
মিথ্যা পরবর্তী প্রেক্ষাপট বা মিথ্যার ফলাফল কি হত অনেক জল্পনা কল্পনাই হতে পারে। কিন্তু মিথ্যা কিছুক্ষেত্রে সত্যের চেয়েও হয়ত বা কার্যকর। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এটা মহাপাপ তাতে দ্বিমত নেই। কিন্তু যতদিন যাচ্ছে, পৃথিবী ক্রমশ জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। জটিল হচ্ছে আমাদের মানবিক বোধ, বোঝার চিন্তাধারা।
একটা স্কুলের ছোট বাচ্চাকে মিথ্যা না বলার শিক্ষা যেমন সঠিক। তেমনি কর্মজীবনের নানান কার্যকরণ বশত, উপস্থিত বুদ্ধি দিয়ে পরিস্থিতি সামলাতে মিথ্যার জুড়ি নেই। বরং সে সব ক্ষেত্রে সত্য বলাটা কিছুটা বোকামি এবং অনেকটাই আনাড়িপনার উদাহারণ তৈরি করে।
মিথ্যা হোক কল্যাণের জন্য। সেটা নিজস্ব কল্যাণ দিয়েই হোক কি আপনার সমাজকে নিয়ে হোক। দ্বার বদ্ধ করে দিয়ে ভ্রম টারে রুখি- করতে গিয়ে সত্যকেও আটকে দিয়ে লাভ নেই। বরং সম্ভবত কবি এটাই বলেছেন সে সমস্ত সত্যকেই আসতে দেও, সেই থাকে আসতে দাও দরকারী, প্রয়োজনীয় কিছু মিথ্যাকেও। যেটা আপদে বিপদে তোমাকেই সাহায্য করবে।
এক্ষেত্রে বলে রাখি, মিথ্যা জিনিসটা বিচক্ষণদের হাতে বেলার ন্যায় বাদ্যযন্ত্র স্বরূপ। সুর উঠবে, মূর্ছনা ছড়াবে, কাজ উদ্ধার হবে সামাজিক অশান্তি সৃষ্টি না করে। আর মূর্খের জন্য মিথ্যা হচ্ছে করাতের ন্যায়। খোদ বাদ্যযন্ত্রের তার তো ছিড়বেই, গোটা যন্ত্রই এর নিচে কাটা পড়ে যেতে পারে। আর সত্য হচ্ছে নির্ভিকদের হাতিয়ার, বাদ্যযন্ত্র নয়। সে হাতিয়ার দিয়ে নিজেকে সে রক্ষা করার সাহসও রাখে, অন্যকেও নিরাপত্তা দেয়ার সাহসও রাখে।
বর্তমান সমাজে সবাই সাহসী নয়। তাই সাহসী হবার পরিবর্তে বিচক্ষণতার সাথে মিথ্যা ব্যবহারে দোষের কিছু নেই। পৃথিবীর ডায়নামিক্স বদলাচ্ছে সমাজে সমাজে। আশ্বাস ও ধোঁকা শব্দ দুটোর মাঝে মিথ্যার খুব সহজ একটা অবস্থান রয়েছে। বিচক্ষণেরা প্রথম দিকে ধাবিত। মূর্খ কিংবা বঞ্চিতরাই দ্বিতীয় পক্ষে অধিক অবস্থান নেয়। বোঝার বিষয় আমাদের যে, আমরা আশ্বাসের দিকে আছি, নাকি ধোঁকা?
ধুপ আর সিগারেটের মূলমন্ত্র একই। পোঁড়া, ও সুগন্ধ সৃষ্টি করা। প্রথমটা বাতাসে। দ্বিতীয়টা ফুসফুসে। পোঁড়ার ধর্মে দুটোই একই। মিথ্যার মত। কিন্তু দ্বিতীয় ধর্মে যথাক্রমে আশ্বাস আর ধোঁকার মত। কিংবা বলা যায়, প্রথম ধর্মে আমরা মানুষ। দ্বিতীয় ধর্মে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান।
প্রথমটা চিনতে ভুল না হলেই মিথ্যা বিচক্ষণের। আর কেবল দ্বিতীয় জাত চিনলে মিথ্যা মূর্খের কড়াতে পরিণত হয়।
তাই মিথ্যা ততক্ষণ পর্যন্তই সত্যের সহোদর, যতক্ষণ তাতে মানবিকতা যুক্ত থাকে।
২| ৩০ শে আগস্ট, ২০১৮ রাত ১২:৫৯
এ.এস বাশার বলেছেন: ইসলামের দৃষ্টিতে জীবন বাঁচাতে মিথ্যা বলা জায়েজ আছে। নিজের স্বার্থ উদ্ধারের জন্যে মিথ্যা বর্জন করি।
৩| ৩০ শে আগস্ট, ২০১৮ রাত ২:৪৪
জুনায়েদ বি রাহমান বলেছেন: ভালো কিছুর জন্য বা কারো ক্ষতির সম্ভাবনা না থাকলে মিথ্যা বলাতে আমি অপরাধের কিছু দেখি না।
৪| ৩০ শে আগস্ট, ২০১৮ সকাল ৯:২০
রাজীব নুর বলেছেন: আসলে মিথ্যা দুই রকমের। সাদা মিথ্যা আর কালো মিথ্যা।
কালো মিথ্যা ভালো না। সাদা মিথ্যা ভালো।
৫| ৩০ শে আগস্ট, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৪৫
নিথর শ্রাবণ শিহাব বলেছেন: ধন্যবাদ সবাইকে শুভেচ্ছা
©somewhere in net ltd.
১|
২৯ শে আগস্ট, ২০১৮ রাত ১১:৪১
পাঠকের প্রতিক্রিয়া ! বলেছেন: কিছু কিছু মিথ্যা সত্যের চেয়েও তাৎপর্যপূর্ণ।(পরিস্থতির প্রেক্ষিতে)

আমাদের এক স্যার ছিল, কেউ হোমওয়ার্ক না করলে সেরাম মাইর দিত। তবে এমনও হয়েছে অনেকে মিথ্যে বলায় মার খেয়েছে, আবার অনেকে কাজ না করেও সত্য বলায় বাহবা পেয়েছে।