নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ভাগ্যক্রমে আমি এই সুন্দর গ্রহের এক বাসিন্দা! তবে মাঝেমধ্যে নিজেকে এলিয়েন মনে হয়। তবে বুদ্ধিমান এলিয়েন না কোন আজব গ্রহের বোকা এলিয়েন!

নূর আলম হিরণ

ভাগ্যক্রমে আমি এই সুন্দর গ্রহের এক বাসিন্দা! তবে মাঝেমধ্যে নিজেকে এলিয়েন মনে হয়। তবে বুদ্ধিমান এলিয়েন না কোন আজব গ্রহের বোকা এলিয়েন!

নূর আলম হিরণ › বিস্তারিত পোস্টঃ

সমস্যা দিনদিন জটিল থেকে আরো জটিল হচ্ছে।

১৪ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১০:৫৪


■ ঢাকা শহরে করোনা পরিস্থিতি সরকার যেসব পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সেগুলো কোনটিই ঠিকভাবে কাজ করেনি। কিছু জায়গায় চেষ্টা করা হয়েছে তবে সেখানেও আশানুরূপ কোন ফলাফল দেখা যায়নি। আমার বাসার কাছাকাছি গলির দোকান গুলোকে সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে বন্ধ করার জন্য প্রতিদিন পুলিশ এসে রাগারাগি করতো। আজ দুইদিন যাবৎ পুলিশ এসে কিছু বলছে না, একজনকে জিজ্ঞেস করলাম পুলিশ কিছু বলেনা কেনো? সে বলল দোকান প্রতি কিছু টাকা উঠিয়ে তাদের দেওয়া হয় যার কারনে ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি মিলেছে!
আসলে মানুষ নিজের জীবিকার জন্য একটা না একটা পদ্ধতি বের করে নেয়। দোয়া করি তাদের বেচাবিক্রি ভালো হোক, পুলিশেরও একটা বাড়তি ইনকামের ব্যবস্থা হয়েছে, তারাও এই কয়েকমাস অনেক লস গুনেছে।

■ আমার দোকান থেকে বাসায় হেটে আসতে ৯মিনিট লাগে। আসার সময় প্রায় সময় ভ্যান, ফুটপাত থেকে কিছু না কিছু কিনে বাসায় নিয়ে যাই। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে সরকার একটু নমনীয় হওয়াতে আগের মতোই মানুষের চলাফেরা শুরু হয়ে গেছে। মানুষের চলাফেরা যেমন শুরু হয়ে গেছে, তেমনি ভ্যানে করে তরকারি বিক্রি কিংবা ফুটপাতে ফল,ফলাদি বিক্রিও অনেক বেড়ে গেছে। তবে ইদানিং আমি লক্ষ্যে করলাম অনেক নতুন তরকারি আর ফল বিক্রেতা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভ্যানে করে এসব বিক্রি করছে। এদের আগে কখনো এই এলাকায় দেখিনি। এরা কি পার্ট টাইম ব্যবসা করছে, নাকি এসব ব্যবসায় অনেক লাভ থাকে? অথবা নিরুপায় হয়ে এসেছে?

■ আমার এক বন্ধু দীর্ঘদিন ধরে পুরান ঢাকায় ভাড়া বাসায় থাকে। প্রায় সময় তার মুখে শুনতাম এই বাসা সে ছেড়ে দিবে। কেনো জিজ্ঞেস করলে বলে বাড়িওয়ালা কিছুদিন পরপর এটাওটা বলে বাসা ভাড়া বাড়িয়ে দেয়। বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল সব বাড়তি হিসেব করে ধরে। গতকাল আমার সাথে দেখা হলে বলে, বাড়িওয়ালার চার মাসের বাসা ভাড়া বাকি। বাসা ভাড়া চাইলে সে বাড়িওয়ালকে বলে বাসা ছেড়ে দেবে। বাড়িওয়ালা বললো অন্তত একমাসের বাসা ভাড়া দাও কিন্তু সে বললো আমার অগ্রিম কেটে দিন আমি বাসা ছেড়ে দিবো। শেষমেষ বাড়িওয়ালা বললো ঠিক আছে আপনি থাকেন, ভাড়া ১০০০ টাকা কম দিয়েন আগের থেকে। এই প্রথম শুনলাম পুরান ঢাকার বাড়িওয়ালারা বাসা ভাড়া কমাইছে। বুঝা যাচ্ছে তারাও বেশ ভালো সমস্যায় পড়ে যাচ্ছে।

■ আমার পাশের ফ্ল্যাটে কয়েকদিন থেকে বেশ জোর গলার আওয়াজ শুনা যাচ্ছে। স্বামী স্ত্রীর ঝগড়া, বেশ কিছু বিশ্রী শব্দ বিনিময় হয় ঝগড়া মাঝে। গত তিন বছর আমি তাদের রুম থেকে এমন কথাবার্তা শুনতে পায়নি। তাদের একটি ছেলে আছে, মাঝেমধ্যে আমার রুমে আসতো কিন্তু তাদের মা,বাবাকে কখনো আমি দেখিনি। আজ সকলে আমার রুমে আসলে জিজ্ঞেস করলাম তোমার আব্বু আম্মু কেনো ঝগড়া করে? ছেলেটি কিছুক্ষন চুপ করে থাকলো, এরপর বললো আঙ্কেল আব্বু আমাকে আর আম্মুকে গ্রামের বাড়িতে চলে যেতে বলছে কিন্তু আম্মু যেতে চাহিছে না এজন্য ঝগড়া হয়। আমি বললাম কেনো চলে যেতে বলে? সে বলল সেটা আমি জানিনা আঙ্কেল।

মন্তব্য ২৪ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (২৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১৪ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১১:১৫

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: আমার ভাড়াটিয়ারা সব চলে গেছে আরো কম ভাড়ার বাসায়।
এখন যারা এসেছে তারা আমার বাসার যে ভাড়া তার চেয়ে ৩/৪ গুন বেশি ভাড়ার বাসায় থাকত।

১৫ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১২:০৬

নূর আলম হিরণ বলেছেন: মানুষ বিকল্প সব উপায় ব্যবহার করবে। এরপর পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে না আসলে হতাশ হয়ে গ্রামে ফিরে যাবে। যাদের গ্রামে ফেরার মত অবস্থা নেই তারা বেশ ভয়ানক কষ্টের মুখোমুখি হবে।

২| ১৪ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১১:৩৬

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: জীবনের কিছু কঠিন চিত্র, যা করোনার কারণে এসেছে, আপনি তুলে ধরেছেন। ভাসমান কিছু মানুষ আছে যাদের নির্দিষ্ট কোনও পেশা নেই এরাই মনে হয় এখন যা পাচ্ছে তাই করছে, সবজি বেচছে। পরিবার গ্রামে পাঠাচ্ছে কারণ আসলে ঢাকাতে একটা বড় অংশ এসেছে শুধু মাত্র আয় রোজগারের জন্য। নইলে এখানে কেউ থাকত না। এখন আয় না থাকলে তাদের আসল যে শিকড় সেখানে যাচ্ছে। কিন্তু এই ফিরে যাওয়া সেই পরিবারের জন্য সম্মানজনক নয়।

১৫ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১২:০৯

নূর আলম হিরণ বলেছেন: “কিন্তু এই ফিরে যাওয়া সেই পরিবারের জন্য সম্মানজনক নয়” এমন বাস্তবতার সম্মুখীন হয় অনেকেই এখন পর্যন্ত শেষ চেষ্টা করে যাচ্ছে।

৩| ১৪ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১১:৪৬

চাঁদগাজী বলেছেন:



আপনার কিসের দোকান?

১৫ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১২:১০

নূর আলম হিরণ বলেছেন: গার্মেন্টস এক্সসরিজ ও সু মেটারিয়াল সাপ্লাই।

৪| ১৪ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১১:৫৩

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




আমাদের দেশের মানুষ সারা জীবন হুজুগে ছিলো হুজুগে আছে। মানুষ এখনো বুঝতে পারছে না দেশে হাটি হাটি পা পা করে করোনার চেয়ে বড় সমস্যা চলে আসতেছে। কর্মহীন সমস্যা।

১৫ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১২:১৩

নূর আলম হিরণ বলেছেন: দেশে কর্মের সংখ্যা এমনিতেই কম ছিল, এখন সেটা আর প্রকোপ হচ্ছে। আসলে দক্ষতার সহিত এই দেশটি কখনো শাসিত হয়নি। নাগরিক এবং তাদের শাসক মোটামুটি সবাই অদক্ষ।

৫| ১৫ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১২:১৯

চাঁদগাজী বলেছেন:


আপনার কাষ্টমার কারা?

১৫ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১২:২৮

নূর আলম হিরণ বলেছেন: গার্মেন্টস এর লোকজন। আমরা ম্যানুফ্যাকচারিং করি। বলতে পারেন সরাসরি গার্মেন্টস ব্যবসার সাথে আমাদের ব্যবসা জড়িত।

৬| ১৫ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১২:৩৯

আকিব ইজাজ বলেছেন: নিয়মের ফাঁকফোকড় এর ব্যবহার সম্ভবত আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে। নিজের প্রয়োজনের সামনে আমরা কোন না কোন একটা উপায় বের করেই নেই নিজের উদ্দেশ্য হাসিল করবার জন্যে।

বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ বাধ্য হয়েই ছোট ছোট কাজে নিজেকে নিযুক্ত করছে। কদিন আগে একটা প্রতিবেদনে দ‌েখলাম বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষক পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে এখন ভ্যানে করে ফল ও সবজি বিক্রি করছেন।

অনেকেই শহর ছাড়ছে। আবার কেউ কেউ নিজে থেকে গিয়ে পরিবারকে গ্রামে পাঠিয়ে দিচ্ছে। সবদিক থেকে কোণাঠাসা হয়েই কাজটা করতে হচ্ছে। আর এইসব নিয়ে নিজেদের মাঝে মনমালিন্য হওয়া খুবই নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাড়িয়েছে।

জানিনা জটিল সময় আর জটিল পরিস্থিতি ঠিক কতদিন আমাদের পিছু করে বেড়াবে। কিন্তু আমাদের পরিস্থিতিটা যে আর আগের মত কখনোই হবে না, তা খুবই প্রকটভাবে দৃশ্যমান।

১৫ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১:২১

নূর আলম হিরণ বলেছেন: এই পরিস্থিতি অনেক দিন বয়ে বেড়াতে হবে আমাদের। পরিস্থিতি ভালো হতে হলে বাণিজ্যিক সম্পর্ক যেসব দেশের সাথে বেশি তাদেরও পরিস্থিতি ভালো হতে হবে।

৭| ১৫ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১২:৩৯

নেওয়াজ আলি বলেছেন: সমাধানের পথ কি নাই

১৫ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১:২৩

নূর আলম হিরণ বলেছেন: আপাতত কৃষিতে মনোনিবেশ করতে হবে। যেসব লোকজন শহর ছেড়ে চলে গিয়েছে তাদের গ্রামে কিছু করার মত সহযোগিতা করতে হবে। সরকার দক্ষতা দেখালে অনেক কিছুই করা সম্ভব।

৮| ১৫ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১:১৫

চাঁদগাজী বলেছেন:


লেখক বলেছেন, " গার্মেন্টস এর লোকজন। আমরা ম্যানুফ্যাকচারিং করি। বলতে পারেন সরাসরি গার্মেন্টস ব্যবসার সাথে আমাদের ব্যবসা জড়িত। "

-তৈরি কাপড় চোপড় কি শীপমেন্ট হচ্ছে কোন দেশে?

১৫ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১:২৬

নূর আলম হিরণ বলেছেন: হ্যাঁ, সীমিত পরিসরে কিছু শিপম্যান্ট হচ্ছে। বায়াররা বেশিরভাগ অর্ডারই বাতিল করেছে তবে গার্মেন্টস মালিকরা রিকোয়েস্ট করে ৫০% পণ্য নিতে কিছু বায়ারদের রাজি করিয়েছে। আমি যাদের সাথে কাজ করি তারা করোনার আগের অর্ডার নিয়ে কাজ করছে তবে একটু আশার কথা বায়াররা অনেক স্যাম্পল বানাচ্ছে হয়তো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এসব অর্ডার প্লেস করতে পারে।

৯| ১৫ ই জুলাই, ২০২০ রাত ২:০২

চাঁদগাজী বলেছেন:


ভালো, আপনার থেকে সটিক তথ্য পাবো।

আপনাদের ব্যবসায় কতজন মানুষ কাজকরেন?

১৫ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ৮:৫৪

নূর আলম হিরণ বলেছেন: আসলে এই কাজে বেশিরভাগই মজুরিভিত্তিক কাজ হয়, যখন কাজ থাকে তখন দেখা যায় ২০,৩০ জনও একটানা কাজ করে। তবে স্থায়ী ভাবে দোকান ও কারখানা মিলে ১২ জন কাজ করে।

১০| ১৫ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৩:৫৬

নুরুলইসলা০৬০৪ বলেছেন: কোথায় যে শেষ হবে কেউ জানে না!

১৫ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ৮:৫৬

নূর আলম হিরণ বলেছেন: পরিস্থিতি অবনতি হচ্ছে, বৈশ্বিক অবস্থা স্বাভাবিক হলেও আমাদের অবস্থা স্বাভাবিক হতে অনেক সময় লাগবে, যদি না সরকার সঠিক কর্মপরিকল্পনা ঠিক না করে।

১১| ১৫ ই জুলাই, ২০২০ দুপুর ২:১২

রাজীব নুর বলেছেন: দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে না এটা এখন প্রমানিত। মানুষ সীমাহীন কশোহটে আছে। যাদের চাকরি চলে গেছে তারা চোখে অন্ধকার দেখছে।

শীর্ষ ইন্ডস্ট্রিয়ালিস্ট দের মৃত্যুতে প্রতিষ্ঠানের তেমন কোন ক্ষতি হ্যয়েছে বলে মনে হয় না- সেটাই হোক। কর্মসংস্থান বেঁচে থাকুক!

১৫ ই জুলাই, ২০২০ বিকাল ৩:৩৮

নূর আলম হিরণ বলেছেন: দেশে উন্নয়ন হয়েছে অপরিকল্পিতভাবে। তাই এসব উন্নয়নের ফল সবাই সমান ভাবে পাচ্ছে না।

১২| ১৫ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১০:০০

সাহাদাত উদরাজী বলেছেন: বোঝা যাচ্ছে, সামনে ভয়াবহ সময়। আমি নিজেও গ্রামে চলে যাবার কথা চিন্তা করছি।

১৫ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১০:১৮

নূর আলম হিরণ বলেছেন: গ্রামে গিয়ে যদি মোটামুটি চলার মত অবস্থা করে নিতে পারেন তাহলে সিদ্বান্ত নিয়ে ফেলুন। উৎপাদনশীল কিছু করতে পারলে আশেপাশের পরিচিত অসহায় লোকদের কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.