| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
তারার গতি মাপার সিস্টেম :----
তারার গতির ২ টি উপাংশ।
১) সামনে পিছে অরীও গতি ( radial component)
2) দৃষ্টিরেখার সাথে আড়াআড়ি গতি ( transverse component)
আড়াআড়ি গতি বের করার উপায় হল বিভিন্ন সময়ে আকাশের একাধিক ছবি তোলা আর ফটোগ্রাফিক প্লেটে নিখুতভাবে পর্যবেক্ষণ করা। পেছনের স্থির তারাদের সাপেক্ষে আমাদের এই আলোচিত তারার কৌণিক বিচ্যুতি পর্যবেক্ষণ করে গতিবেগ নির্ধারণ করা হয়। এর নাম তারার সরল গতি।
অরীও গতি নির্ধারণ করা হয় ডপলার ক্রিয়ার মাধ্যমে। যে তারা যত দূরে তার আলো তত লাল , যে তারা যত কাছে তার আলো তত নীল । সিম্পল হিসাব। অনেকটা এ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনের মত , যত কাছে আসে শব্দ তত তীক্ষ্ণ হয়। আর যত দূরে যায় শব্দ তত হালকা হয়ে যায়।
নতুন গ্রহ পাওয়া গেছে :-------
১১ জানুয়ারি ২০১৪ সালে একটি সংবাদ বের হয়েছে। আমাদের এই ছায়াপথে যে পরিমাণ নক্ষত্র বা তারকা আছে , গ্রহ আছে তার চেয়ে বেশী। প্রতি তারায় গড়ে ১.৬ টি করে গ্রহ আছে। কিছু তারার গ্রহ নেই আবার কিছু তারার গ্রহ অনেক গুলো , যেমন সূর্যের ৮ টা গ্রহ ।
একটা ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে যে, দক্ষিন গোলার্ধের চেয়ে উত্তর গোলার্ধে ভালো ভাবে আকাশ পর্যবেক্ষণ করা যায়। পুরো ইউরোপ উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত। তাই এখানে গড়ে উথেছে ইউরোপিয়ান সাউদারন অবজারভেটরি (ESO বা ইসো ) । তবে মূল পর্যবেক্ষণ শিবিরটা আছে চিলির আতাকামা মরুভুমিতে। এই জায়গা সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে উচু এবং তুলনামুলক শুষ্ক
ইসো ৬ বছরে গবেষণা করে করে ফলাফল ব্যক্ত করেছে। গবেষণাটি করা হয়েছে অন্য আরেক পদ্ধতিতে। এটা অরীও পদ্ধতি না আবার ডপলার পদ্ধতিও না। কারণ এই সব পদ্ধতিতে মাতৃতারার খুব কাছের গ্রহ বা অনেক ভারী গ্রহ ধরা পরে । নতুন সিস্টেমটির নাম অণুলেন্সিং পদ্ধতি। অণুলেন্সিং পদ্ধতিতে .৫ থেকে ১০ নভোএকক দূরত্বের গ্রহ মাপা যায়।
১ নভো একক দূরত্ব = পৃথিবী থেকে সূর্যের গড় দূরত্ব অর্থাৎ ১৪৯৬০০০০০ কিমি বা ৯২৯৬০০০০ মাইল
অনুলেন্সিং কিভাবে কাজ করে জানতে চান?
আইনস্টাইনের আপেক্ষিক সুত্র মতে ভারী বস্তু তার আশে পাশের স্থানকাল বাকিয়ে দেয়। আলো স্থানকালের মধ্য দিয়েই চলে। তাই ভারী তারার কারণে পথ বেকে গেলে আলোকে ওই বাকা পথ দিয়েই চলতে হয়। নক্ষত্রের ভর বেশী তাই পথের বক্রতাও বেশী। গ্রহের ভর কম তাই গ্রহ সৃষ্ট পথের বক্রতা কম।
উদাহরণের মাধ্যমে বলি- ধরুন আপনি একটা তারা দেখছেন, দেখার পথের মাঝখানে আরেকটা তারা ঢুকে গেল। তাহলে পটভূমি তারার আলো পুরভুমি তারার কারণে বেকে যাবে। ফলে পটভূমি তারার উজ্জলতা সাভাবিকের চেয়েও বেশী দেখাবে। আর পটভূমি তারায় গ্রহ থাকলে তো কথাই নেই, উজ্জলতা আরও বেশী হবে। এটাই অণু লেন্সিং , হ্যা আপনার চশমার লেন্সের মতই কাজ করে।
অনুলেন্সিং খুবই বিরল ঘটনা। প্রতি ১০ লক্ষ তারার মাত্র একটা তারায় এই ঘটনা ঘটে। বিজ্ঞানিরা লক্ষ লক্ষ তারা পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন। যদি কোনও তারার আলোক বক্রে অণু লেন্সিং এর ছাপ পাওয়া যায় তো সাথে সাথে সেই তারাকে চিহ্নিত করা হয়। এই জরিপের নাম ""অপটিক্যাল গ্র্যাভিটেশনাল লেন্সিং এক্সপেরিমেন্ট"" । কি গালভরা নাম তাই না !!! তো জরিপে কি পাওয়া গেল?
*** ১৭% তারার বৃহস্পতি সদৃশ গ্রহ আছে ( ভর বৃহস্পতির ভরের ০.৩ থেকে ১০ গুন )
*** ৫২% তারার নেপচুন সদৃশ গ্রহ আছে (ভর পৃথিবীর ভরের ১০ থেকে ৫০ গুন)
*** গড়ে প্রতিটি নক্ষত্রে ১.৬ টি করে গ্রহ আছে
পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্ব প্রমাণ :-------
আমাদের মিল্কিওয়ে ছায়াপথে তারার সংখ্যা ৩০ হাজার কোটি, সেই হিসেবে গ্রহের সংখ্যা দাড়ায় ৪৮ হাজার কোটি। এত গ্রহের কোনটিতেই প্রাণ নেই কেবল পৃথিবীতে প্রাণ আছে -- এটা কি বিশ্বাসযোগ্য কথা ??? পরিংখানের সাধারণ সূত্রানুযায়ী প্রাণ বান্ধব পরিবেশের অপ্রতুলতা অগ্রহণযোগ্য।
প্রাণ হল যার বিপাকীয় ক্ষমতা (metabolic function) এবং বংশ বিস্তারের ক্ষমতা (reproduction) আছে। এর আরেক নাম বস্তা ভর্তি রাসায়নিক বস্তু (a sac of chemicals)। বিশ্বে প্রাণের উপস্থিতি বুঝার জন্য ২ টা আলাদা মান দণ্ড আছে।
১) সরলতম প্রাণের উদ্ভব
২) জটিল তম সভ্যতা নির্মাণ করে আমাদের নজরে আসা।
দ্বিতীয়টা সুদূরপরাহত । তবে প্রথমটা আমাদের সৌরজগতেই সম্ভব। পৃথিবীর মহাসমুদ্রের তলদেশে ছিদ্র দিয়ে পানি জলন্ত ম্যাগমার সংস্পর্শে এসে সুপারহিটেড হয়। সেই পরিবেশেও প্রাণের উপস্থিতি দেখা যায়। 240 কোটি বছর আগে আদি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলীও বাতাবরণে অক্সিজেন ছিল না, তখনও আদিম এক কোষী প্রাণীরা বেচে থাকত অবাত শ্বসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। তাই পৃথিবীর বাইরের বন্ধুর পরিবেশে প্রাণ তৈরি খুবই সম্ভব।
১৯৬১ সালে সার্চ ফর এক্সট্রা টেরেস্ট্রিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা SETI এর কনফারেন্সে পৃথিবীর বাইরে প্রাণ থাকার ব্যাপারে একটা ফর্মুলা দেন যা ড্রেক সমীকরণ নামে পরিচিত।
ড্রেক সমীকরণ :-------
N = R * Fp * Np * fe * f1 * fi * fc * L
N = আমাদের ছায়াপথে বুদ্ধিমান সভ্যতার সংখ্যা
R = আমাদের ছায়াপথে তারা তৈরির হার
fp = গ্রহ আছে এমন তারার সম্ভাবনা
Np = প্রতিটি গ্রহে গড় গ্রহের সংখ্যা
fe = প্রানবান্ধব অঞ্চলে গ্রহ থাকার সম্ভাবনা
fi = উক্ত fe সংখ্যক গ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা
fc = উক্ত fi সংখ্যক গ্রহে প্রযুক্তি উদ্ভাবনের সম্ভাবনা
L = সভ্যতার আয়ুষ্কাল (বছরে)
ড্রেক তার সমীকরণ এভাবে ব্যবহার করেছিলেন
১০০০০ = ৫ * ৫০% * ২ * ১০০% *২০% * ১০০% * ১০০০০
অন্যগুলোর মান বদলে আপনারা দেখেন কত পান ।
©somewhere in net ltd.