নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

কি বলা যায়! কিছু কথায় নিজেকে ব্যক্ত করা সম্ভব না আমার পক্ষে। তাই একটা সিরিজে কিছু কিছু করে সবই বলছি।

সামু পাগলা০০৭

আমি অতিআবেগী, আগে ব্যাপারটা লুকানোর চেষ্টা করতাম। এখন আর করিনা।

সামু পাগলা০০৭ › বিস্তারিত পোস্টঃ

কানাডার স্কুলে একেকটি দিন (পর্ব ১) - বাংলাদেশীদের যেসব বিষয় বিদেশীরা অদ্ভুত মনে করে!

২০ শে মে, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:১৫

অনেকদিন কানাডার স্কুলে একদিন সিরিজের কোন পর্ব লেখা হয়নি। যারা সিরিজটির রেগুলার পাঠক ছিলেন, তাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী যে নানা কারণে পোষ্ট দিতে পারিনি। তবে এখন আবার শুরু করছি। এই শুরুটাকে একটি নতুন শুরুও বলা যায়। কেননা এতদিন আপনারা পড়েছেন; মফস্বলের সাধারণ দু বেনী করা স্কুল গোয়িং কিশোরি মেয়েটি একদিন বৈদেশের পথে পাড়ি দিল। নিজের ছোট্ট মফস্বল যার দুনিয়া ছিল, তাকে টেনে হিচড়ে সত্যিকারের দুনিয়ায় ছুড়ে ফেলা হলো। সেখানে আসলেই পুরো দুনিয়ার নানা প্রান্তের মানুষের মেলা বসে। তার দুনিয়া পাল্টালেও তাকে পাল্টাতে হয়নি। সব দেশের বিনয়ী বন্ধুভাবাপন্ন মানুষ, অসম্ভব হেল্পফুল শিক্ষকেরা সবসময় তাকে সাহায্য করেছে। কদাচিৎ কিছু মানুষ বিব্রতও করেছে। মেয়েটি কৈশোরের বালাই বয়সে, ভিন্ন ভাষা, জাতি ও সংস্কৃতির সম্মুখে পদে পদে হোঁচট খেয়েছে, কেঁদেছে, হেসেছে, পড়েছে, সামলেছে। যারা পড়েননি সিরিজটির কোন পর্ব তাদের জন্যে একটি সামারি দিলাম। মোরাল অফ দ্যা সামারি: আমি নিজের অনুভূতির, দৃষ্টিভংগির কথাই বেশি বলেছি।

কানাডার স্কুলে একদিন (এক থেকে বাইশ): Click This Link পর্ব বাইশে অন্য সকল পর্বের লিংক রয়েছে!

নাও, লেটস টার্ন দ্যা টেবিল আদার ওয়ে এরাউন্ড ! এখন বলব, বিদেশীরা কিভাবে বাংলাদেশের মানুষ ও সংস্কৃতিকে দেখে! আমাদের সংস্কৃতি ওদেরকে কিভাবে ধাক্কা দেয়? ওরা কিইবা ভাবে আমাদেরকে নিয়ে? এছাড়াও, অন্য নানা দেশের মানুষ কানাডায় কতটা কালচার শক পায় সেটিও বলব। মানে আমার নিজের চেয়ে বেশি অন্যদের দৃষ্টিভংগি লেখার চেষ্টা থাকবে। তবে ফাঁকে ফাঁকে আমার নিজের ভাবনা চিন্তা অবশ্যই আসবে যেহেতু আমার জীবনেরই ডায়েরি!

শুরু করার আগে বলি, বাংলাদেশ ও দেশের সংস্কৃতিকে আলাদা করে অনেকেই জানেনা। ইন্ডিয়া, চায়নার মতো এশিয়ান দেশগুলোর ব্যাপারে জানে, এবং সেই স্টেরিওটাইপ নিয়ে বাংলাদেশীদেরও দেখে। যেমন আমরা ওয়েস্টার্ন কালচারকে এক দৃষ্টিতে দেখি। আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ডেনমার্ক, ইংল্যান্ড সব একই মনে হয় আমাদের কাছে। ছোটবেলার সেই ভাবনার মতো, পৃথিবীতে শুধু দুটো দেশ, ১) বাংলাদেশ; ২) বিদেশ! কানাডিয়ানরাও এশিয়া মানে এশিয়াই ভাবে, বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া, জাপান, চায়না আলাদা করে ভাবার সময় অনেকেই পায়না। আমাদের কালচার এবং এশিয়ার অন্যান্য দেশের কালচার সবক্ষেত্রে এক নয়। আমি সেসব বিষয়ে বলব, যেসব ক্ষেত্রে কালচার এক। আবার অন্য এশিয়ান দেশগুলোর কারণে আমাদেরকেও কিছু ভুল স্টেরিওটাইপ নিয়ে দেখা হয়। সেগুলো নিয়েও বলব।

-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

কানাডায় স্কুলে যাওয়ার পথটুকু খুব এনজয় করতাম। আমার বাড়ি থেকে স্কুল প্রায় পনেরো মিনিটের পায়ে হাঁটার পথ ছিল। বাংলাদেশে গাড়িতে বাবার সাথে স্কুলে যেতাম স্কুল দূরে হওয়ায়। কানাডায় একা নিজে হেঁটে হেঁটে স্কুলে যেতে অন্যরকম স্বাধীনতা বোধ করতাম। পাহাড়ি এলাকা ছিল। স্কুলের চারিপাশ সাড়ি সাড়ি পাহাড়ের বেড়াজালে আটকানো। সেই পাহাড়গুলোর ওপরে ছাদ হয়ে আছে ঝকঝকে স্বচ্ছ নীল আকাশ! নানা মাঠ, ঢালু, শ্যামলিমা পেরিয়ে ছবির মতো দৃশ্যবালিতে বাস্তবে পা রেখে স্কুলে যেতাম।

তখন কানাডায় আমার এক বছর হয়েছে। মোটামুটি এডজাস্ট করতে শুরু করেছি। এক গ্রীষ্মে এসেছিলাম, আর এখন নানা ঋতু পেরিয়ে পুনরায় গ্রীষ্ম আসি আসি করছে। বরফ পুরোপুরি গলে সবুজ সতেজ ঘাস এবং তার বুকে রং বেরং এর ফুল উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে। মাঝেমাঝে বৃষ্টি হচ্ছে। তখন খুব শীত শীত করছে। আবার সূর্য খেলে যাচ্ছে পরম ঔজ্জ্বল্যে! তীব্র রোদে চারিদিক ছেয়ে যাচ্ছে। ওয়েদারের কোন ঠিক ঠিকানাই নেই। এই মেঘ তো এই রোদ! ভীষন রোদের মধ্যে হুট করে বিজলি চমকে উঠছে। একদিন পুরো রাত জুড়ে বৃষ্টি হলো। আমি সকালে ক্লাসে যাচ্ছি হেঁটে হেঁটে। পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টি আরো কি ভীষন সৌন্দর্য ও কোমলতা যোগ করে তা বলে বোঝানো যাবে না। কি ভীষন স্নিগ্ধ একটা সকাল! ঘাসে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে আমার পায়ের পাতা ভিজে গিয়েছে অনেকটা। আমার বাড়ি থেকে স্কুলে যাবার সময় একটা ঢালু মতো জায়গা ছিল। তার কিছু আগে একটা বিশাল গাছ পরত। সেদিন আমি লাফিয়ে গাছটার একটা বড় ডাল ধরে ঝাঁকালাম নিজের মাথার ওপরে। গাছের পাতায় জমে থাকা বৃষ্টির পানি টপটপ করে পরে, মাথা, মুখ পুরো ভিজে গেল! আমি হাসতে হাসতে ওড়না দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে স্কুলের পথে হাঁটা ধরলাম আবার!

স্কুলে গিয়েই লাইব্রেরীতে গেলাম, ব্যাগটা লাইব্রেরীর তাকে রেখে লাইব্রেরিয়ানের ডেস্কে আসলাম। আমি স্কুল লাইব্রেরীতে প্রচুর সময় কাটাতাম। ভাষা সমস্যায় তেমন বন্ধু ছিলনা বলে লাইব্রেরীতে বসে বই পড়তাম। এসাইনমেন্ট করতাম। লাইব্রেরীর নিয়ম কানুন খুব কড়া ছিলনা। আমাদের লাইব্রেরিয়ান অনেক হাসিখুশি, সুইট একজন মহিলা ছিলেন। আমি সুযোগ পেলে তার সাথে অনেক গল্প করতাম। একবার আমার এই প্রিয় মানুষটি কয়দিনের জন্যে এলেন না। ওনার জায়গায় মিসেস টি. কে দেখলাম। তিনিও বেশ ভালো মহিলা ছিলেন। আমাদের কম্পিউটার এক্সপার্ট, লাইব্রেরীর ভেতরের ছোট্ট একটি অফিসেই কাজ করতেন। লাইব্রেরিয়ান কিছু কাজে অনুপস্থিত ছিলেন বিধায় ওনার জায়গা নিয়েছিলেন।

একদিন আমাদের ইংলিশ ক্লাসের সবাইকে শিক্ষক লাইব্রেরীতে নিয়ে এলেন। কেননা লাইব্রেরীতে অনেক কম্পিউটার ছিল, আর আমাদের একটা এসাইনমেন্ট কম্পিউটারে করতে হতো। একটার পাশে একটা কম্পিউটার গোল হয়ে সেট আপ করা। আমি প্রথম কম্পিউটারটিতে বসে, আমার পাশের চেয়ারগুলোতে আরো স্টুডেন্টরা বসা। সবাই কাজ করছে। আমি তখন ইংলিশ ভালো পারিনা, আর আমাকে বলা হয়েছে ইংলিশে শর্ট স্টোরি লেখো! বেশ কঠিন এসাইনমেন্ট আমার জন্যে। ভীষন মনোযোগ দিয়ে করছি। এমন সময়ে কানের কাছে আসল মিসেস: টি বলছেন: "দিজ টাইপ অফ ক্লোদিং ইজ নট এপ্রোপ্রিয়েট ফর স্কুল!" শুনে আমি চমকে উঠলাম!

কানাডিয়ানরা আমার কালচার নিয়ে কখনোই কিছু বলেনি। ওদেরকে যতোটা জেনেছি, ভীষন বিনয়ী একটি জাতি। কারো পোশাক আশাক নিয়ে মন্তব্য করার মতো মানুষই না এরা! আমি ওনার দিকে থ হয়ে তাকালাম কম্পিউটার থেকে চোখ সরিয়ে। দেখি ওনার চোখ আমার দিকে না, আমার পাশের কানাডিয়ান মেয়েগুলোর দিকে! তিনি বলছেন, "গাইস দিস ইজ আ স্কুল, নট আ বিচ! ওপর এবং নিচের থেকে আরেকটু বাড়াও, থাই যেনো ঢাকা থাকে!" আমি তখন খেয়াল করলাম ওরা অনেক ছোট ড্রেস পরে আছে। উনি স্কুলে সেটা এপ্রোপ্রিয়েট না এটিই বোঝাচ্ছিলেন। আমি কম্পিউটারে চোখ থাকায় বুঝিনি আমাকে বলছেন না, আর আমার পাশে দাড়িয়েই বলছিলেন যেহেতু আমি লাইনের সামনে ছিলাম। মেয়েগুলো তখন প্রায় একসাথে বলল, "বাট ইটস টু হটটটটট মিসেট টিইইই!" উনি কোমল গলায় বললেন, "আমি বুঝি, তবে স্কুলের নিয়ম আছে কিছু। ভাইস প্রিন্সিপাল এসবের দিকে খেয়াল রাখতে বলেছেন আমাদের! চোখ টিপে আবারো বললেন, ফর বিচ, নট ফর স্কুল!" ওরা হা হুতাশ করা শুরু করে দিলো। কানাডিয়ানরা গরমে অনেক হাঁফিয়ে ওঠে। আর গরমে পোশাক পরার ব্যাপারটি বুঝতেই পারে না। ছেলেরা হালকা টি শার্ট ও হাফ প্যান্ট পরে স্কুলে আসত, আর মেয়েরা ছোট টপস, এন্ড মিনি শর্টস অর স্কার্ট। শুধু সেদিনই নয়, এরপরেও প্রায় দিনই ছেলেমেয়েদের (বিশেষ করে মেয়েদের) বেশী রিভিলিং কাপড় পরিধানের জন্যে শিক্ষকদের কাছ থেকে ওয়ার্নিং পেতে দেখেছি!

আমি মনে মনে নিজের বোকামিতে হেসে ফেললাম। কোন কানাডিয়ান আমাকে এমন কিছু বলতে পারে না সেটা এতদিনে বোঝা উচিৎ ছিল। আর সেই মেয়েগুলোর ন্যাকামিতেও হাসি পাচ্ছিল। মনে মনে বলছিলাম, হট না ছাই! গরমের দেশেই মানুষ বোরখা, কামিজ পরে কূল পায় না। আর শীতের দেশের মানুষের ন্যাকামি দেখো! নিজের সাথে ফাজলামি করে এসব ভাবছি আর মুচকি হাসতে হাসতে কাজ করছি!

এমন সময়ে পাশে বসে থাকা কানাডিয়ান মেয়েগুলো আমার নাম ধরে ডেকে বলল, আচ্ছা, তোমার গরম লাগে না এমন পোশাকে (সালোয়ার কামিজে)? আমি বললাম না। ওরা যে কি ভীষননন অবাক হলো! এই প্রশ্নটি পুরো গ্রীষ্মজুড়ে আরো অনেকের কাছে নানা ভাবে শুনলাম। আমি না বললেই, ওরা বলত কিভাবে?! ওদের চোখ কপালে উঠে যেতো। শুধু তাই নয়, প্রথমদিনেই দুজন ব্রাজিলিয়ান মেয়ে জিগ্যেস করেছিল, তোমদের দেশে বিচেও এই পোশাক পরো? আমি কয়েকবার হ্যা বললাম, কিন্তু ওরা অবাক হয়ে বেশ কয়েকবার জিগ্যেস করেই গেল, বিচেও?!
না না, এটাকে রেসিজম মনে করবেন না। ওরা জেনুইনলি শকড হতো। একদম কৌতুহল থেকেই জানতে চাইতো। ওরা শুধু ফেসটিভালেই আমাদের এদিকের মানুষদের সালোয়ার কামিজ, শাড়ি পরতে দেখতো। আমি রেগুলারলি সব ঋতুতে পরতাম বলে, ওদের মনে এই প্রশ্ন আসত। ওরা ছোট কাপড়েও যে গরমে কাবু হয়ে যাচ্ছে, আমার কিছুই হচ্ছে না কি করে?

আমার বেশ মজা লাগত এসব শুনে। দেশে শুধু শুনতাম, ঠান্ডার দেশের মানুষ সব ছোট ছোট পোশাক পরে কি করে? একটু লজ্জাও তো লাগার কথা! আর এখানে ওরা ভাবে আমরা গরমের দেশের মানুষ শরীর এতটা ঢাকি কি করে? হাহাহা।

ওহ, আরেকটি মজার জিনিস বলি। কাপড় শুকানো! আমাদের দেশে তো কাপড় যেখানে সেখানে শুকানো হয়। প্রত্যেক বাড়ির মহিলাদের প্রতিদিনের যাবতীয় নানা কাজের একটি কাজ ছাদে/বারান্দায় কাপড় শুকাতে দেওয়া এবং শুকালে উঠিয়ে নেওয়া। বৃষ্টি পরলে তো আরো বাড়তি কাজ। ঘরের মধ্যে বেডরুমে, ড্র‌য়িং রুমে দড়ি টানিয়ে পর্যন্ত কাপড় শুকানো হয়!

আমি তখন প্রথমবার টিএ হলাম স্কুলে E.S.L. ক্লাসে এক জার্মান টিচার এর আন্ডারে। তিনি অনেক ছোট বয়স থেকে কানাডায় মুভ করেছিলেন। তিনি বয়স্কা, মোটাশোটা, কেয়ারিং স্বভাবের ছিলেন। প্রথমবার টিএ হিসেবে অতি উৎসাহে ক্লাসের সবাইকে অনেক হেল্প করতাম এবং সবাই আমার ওপরে অনেক নির্ভর করত। টিচার আমার ওপরে খুবই খুশি ছিলেন এজন্যে।

যাই হোক, একবার উনি গল্প করছেন যে থাইল্যান্ডে গিয়েছিলেন বেড়াতে। ওখানে দেখেছেন কাপড় ঝুলিয়ে রাখা হয় বারান্দায় ড্রাই করার জন্যে। ওনার ভাষায় কথাগুলো ছিল, "আমি ওখানে একদিন রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে খেয়াল করে দেখি যে প্রতিটি এপার্টমেন্টের বারান্দায় কাপড় ঝুলিয়ে রাখা। নট প্রিটি গাইস, নট প্রিটি!" এটা বলে মুখ বিগড়ালেন। যেন এরচেয়ে অসুন্দর আর কিছু হতে পারে না! আমি দাড়িয়ে ছিলাম, কোন একটা কাজ করছিলাম। ওনার কথা শুনে কানাডায় প্রথম দিন আসার ফ্ল্যাশব্যাকে চলে গেলাম।

আমাদের এপার্টমেন্টের ওনার বা মালিক কানাডিয়ান ছিলেন। বেশ গুরুগম্ভীর একজন বয়স্ক মানুষ। প্রথমদিনেই আমাদেরকে নানা নিয়ম কানুন বলে দিয়েছিলেন। যার একটি ছিল, বারান্দায় যেন কাপড় না শুকানো হয়। কাঠের ফ্লোর, পানি পড়লেই ড্যামেজ হয়ে যাবে। আমরা তাই বারান্দায় কাপড় শুকাতাম না। মা এটা নিয়ে অনেক কথা বলত, "আজব দেশ। বারান্দায় না শুকালে আর কোথায় কাপড় শুকাবো? এইটুকু ব্যাপারে মেশিন ব্যাবহার করে টাকা নষ্ট!"
একদিন দেখি কি আমাদের একদম সামনের এপার্টমেন্টে নতুন এশিয়ান ভাড়াটিয়া এসেছেন। চেহারা দেখে মনে হলো চায়না/কোরিয়ার হবে। একজন ২৮/৩০ বছরের মহিলা, পরম সুখে কাপড় শুকাতে দিচ্ছিলেন বারান্দায়। মাকে ডেকে এনে দেখালাম, মা বলল, "ওমা, বাড়িওয়ালা ওদেরকে বলেনি? এখানে মানা? দেখিস এর কপালে দুঃখ আছে।" আসলেই, মাত্র আধা বা এক ঘন্টার মধ্যে দেখি কাপড়গুলো আর নেই বারান্দায়, নিশ্চই ওয়ার্নিং পেয়ে গিয়েছিল!
টিচার এর কথা শুনে আমার কেন যেন মনে হলো, আমাদেরকে বাড়িওয়ালা প্রথমদিনেই কাপড় শুকাতে মানা করেছিলেন আমরা এশিয়ান বলে। ওরা জানে যে আমরা বারান্দায় কাপড় শুকাই!

সেই স্মৃতি মনে করতে করতে কানে এলো টিচার এর আওয়াজ, "ব্যাংলাদেশেও তাই করা হয় না?" আমি কি বলব? হ্যা বললে উনি বিরক্ত মুখে তাকাবেন আবার। নিজের দেশ নিয়ে কাউকে তেমন ফেইস করতে দেখতে কারোরই ভালো লাগবে না। আর এতো দেশের মানুষ থাকে E.S.L. ক্লাসে, ৩০ টা স্টুডেন্ট মিলে ছোটখাট একটি দুনিয়া! সেখানে নিজের দেশকে ছোট হতে দেখলে আরো খারাপ লাগে। না বললেও মিথ্যে হবে! ধরা পরে যাবার মতো মিথ্যে!
আমি বললাম, আমাদের পরিবারে বারান্দায় শুকাত না কাপড়! উনি বললেন, ওহ আচ্ছা আচ্ছা। ভেবেছিলাম উনি আরো প্রশ্ন করবেন যে কোথায় শুকাত, দেশে অন্যরা কি করে, এই সেই। কিন্তু না, পড়ানোয় মনোযোগ দিলেন। আমি হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম।
আমি পরিবারের কাঁধে বন্দুক দিয়ে দিলাম। আর মিথ্যে তো বলিনি। বারান্দায় না আমাদের ছাদে কাপড় শুকাতে দেওয়া হতো! ;)

কানাডিয়ানরা বেশ শৌখিন এবং সৌন্দর্য সচেতন। বেশিরভাগ উঠান এবং বারান্দা নানা রং বেরং এর ফুল দিয়ে সাজানো থাকে। বারান্দায় ছোটখাট বারবিকিউব মেশিন, দুটো চেয়ার, ছোট্ট টেবিল, তার ওপরে কিছু ডেকোরেশিন পিসও দেখা যায়। উঠানে তো এলাহি কারবার করে রাখে। নানা ফলমূলের বাগান করে গরমের দিনে। উঠান যত ছোটই হোক না কেন গাছ লাগাবেই। ঘাস ছোট ছোট করে ছেঁটে রাখবে। নানা টব, টেবিল, সোফা ও কুশন সহ বসার সুন্দর পরিপাটি ব্যবস্থা, বারবিকিউব মেশিন এসব থাকে। বন্ধুরা আসলে মজা করে বারবিকিউব করতে করতে আড্ডা দেয়। গরমের দিনে এসব করে। আর শীতের দিনে উঠানের বরফ পরিষ্কার করে রাখে নিয়মিত। বেশ পরিচ্ছন্ন ও সাজিয়ে রাখে সবকিছু। যারা একটু কম শৌখিন তাদের বারান্দা/উঠান খালি থাকে বড়জোর। কিন্তু সেখানে কাপড় শুকানোর কথা ওরা ভাবতেই পারে না!

এমন ছোট ছোট বিষয়ও যে ওদের চোখে পরে, সেটি ভেবেই অবাক হতাম। আমাদের কাছে যেকোন ওয়েদারেই পরিপূর্ণ কাপড় পরিধান করা জরুরি। আমরা ভাবতেই পারিনা যে গরম অনেক, তাই শর্টস পরে কলেজে চলে যাব বা বিকিনি পরে সমুদ্রে ঝাপ দেব! আর কাপড় শুকাতে দেওয়া খুবই কমন একটা ব্যাপার। এটা নিয়েও ওদের এত ভাবনা! সত্যিই, আমরা যেমন ওদেরকে অনেক রীতিনীতি আজব ভাবি, ওরাও তাই ভাবে। আমার খুবই হাসি পেত ওদের কৌতুহল ও চমকে যাওয়া দেখে। মনে মনে বলতাম, ওয়েলকাম টু মাই ওয়ার্ল্ড গাইজ! হাহা।

-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

আজকের পর্বটি ভূমিকা ছিল নতুন শুরুর! এজন্যেই পর্বের নাম এক! হালকা টপিক দিয়ে শুরু করেছি, আস্তে আস্তে গুরুত্বপূর্ণ স্টেইরিওটাইপগুলোর দিকে এগিয়ে যাব! আশা করি বরাবরের মতোই পাশে পাব আপনাদের।

মন্তব্য ৪৪ টি রেটিং +১৫/-০

মন্তব্য (৪৪) মন্তব্য লিখুন

১| ২০ শে মে, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৩৭

নয়ন বিন বাহার বলেছেন: আমি পরিবারের কাঁধে বন্দুক দিয়ে দিলাম। :)
দারুন উত্তর দিয়েছেন।
উপস্থিত বুদ্ধি..........

২০ শে মে, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৪১

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: হাহা, ততদিনে একটু আকটু শিখে গিয়েছিলাম যে কিভাবে এদের এসব কৌতুহলী প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে? তবে আমি লাকিও ছিলাম যে উনি আর বেশি ডিটেইলে প্রশ্ন করেন নি।

আপনাকে পাঠ ও মন্তব্যে অনেক ধন্যবাদ।
শুভকামনা জানবেন।

২| ২০ শে মে, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৫২

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: শীতের দেশের মানুষের গরমের অনুভূতি বেশি, আর গরমের দেশের মানুষের শীতের অনুভূতি বেশি। আমাদের এখানে ১৫/ ১৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় আমরা হু হু করি, কিন্তু ঐ তাপমাত্রায় ওরা কাপড় চোপড় খুলে ফেলতে চায়। তা' ছাড়া ওরা তো আর আমাদের মতো লজ্জা শরম নিয়ে মাথা ঘামিয়ে সময় নষ্ট করে না।

বারান্দায় কাপড় শুকানো আমারও পছন্দ নয়। দেখতে খারাপ লাগে।

ধন্যবাদ সামু পাগলা০০৭।

২০ শে মে, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৫৯

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: শীতের দেশের মানুষের গরমের অনুভূতি বেশি, আর গরমের দেশের মানুষের শীতের অনুভূতি বেশি।
ঠিক বলেছেন হেনাভাই। একদম ঠিক।

কিন্তু আমার কাছে বারান্দায় কাপড় শুকানো এত বড় ইস্যু নয়। এটুকুর জন্যে মেশিন ব্যবহার করে ইলেক্ট্রিসিটি নষ্ট করার চেয়ে প্রাকৃতিক সূর্যের তাপ ব্যবহার করা অনেক সাশ্রয়ী একটি জাতির জন্যে। আমাদের দেশের জন্যে তো অবশ্যই এই পন্থাই বেস্ট দেখতে ভালো লাগুক আর না লাগুক। প্রতি জাতি নিজের সুবিধামতো জীবনধারণ করেন। এজন্যে প্রত্যেক জাতির জীবনধারা আলাদা হয়, আর সবাই একে অপরকে অদ্ভুত মনে করে। আসলে কিছুই অদ্ভুত নয়!

পাঠ ও সুন্দর মন্তব্যে আন্তরিক ধন্যবাদ।
অনেক ভালো থাকুন হেনাভাই।

৩| ২০ শে মে, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৫২

নয়ন বিন বাহার বলেছেন: তবে বাঙ্গালীর মত প্যাঁচ মার্কা প্রশ্ন সাধারনত ওরা করে না। (নাকি?)
আর আপনি তো ভাল মানুষি উত্তর দিয়েছেন। :#) :#)
সন্দেহ করে উঠতে পারেনি।

২০ শে মে, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:০১

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: বাঙ্গালীরা প্যাঁচ মার্কা প্রশ্ন করে কিনা বলতে পারব না। তবে হ্যা, কৌতুহলী আমরা জাতি হিসেবে, এবং যেকোন কিছু ডিটেইলে জানতে চাই হয়ত!

হাহা, সন্দেহ করতে পারেনি সেটাই ভাগ্য।

পুনরায় আগমনে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।
শুভকামনা!

৪| ২০ শে মে, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৪৭

নাঈম জাহাঙ্গীর নয়ন বলেছেন: ভালো লাগলো আপু, দেশপ্রেমে শ্রদ্ধা রইল।
স্কুলে যাওয়ার সময়টুকু দারুণ বর্ণনা করেছেন, ভালো লাগলো খুব।
পোষাক নিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন। মুগ্ধতা রইল আপু।

পরের পর্ব পড়বো আশা রেখে গেলাম।
শুভকামনা আপনার জন্য সবসময়।

২০ শে মে, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৫১

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: আরেহ নয়ন সাহেব!

আমার স্কুলে যাবার পথটুকু ছিলোই এত সুন্দর, যেভাবেই বর্ণনা করিনা কেন ভালো লাগবে। :)
আমিও আশা করি পরের পর্বে আপনাকে পাবো।

ভীষন কৃতজ্ঞ আপনার আন্তরিক ও সুন্দর মন্তব্যে।
পরিবার পরিজন নিয়ে অনেক ভালো থাকুন।

৫| ২০ শে মে, ২০১৭ রাত ৮:০০

নাঈম জাহাঙ্গীর নয়ন বলেছেন: আপনার প্রতিউত্তর গুলোতে শ্রদ্ধা না জানিয়ে যেতে পারলাম না আপু।

শুভ হোক আপনার প্রতিটি ক্ষণ।

২০ শে মে, ২০১৭ রাত ৮:০২

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: আপনাকে আবারো পোষ্টে পেয়ে ভীষনই খুশি হলাম।

এত সুন্দর শুভকামনায় আপ্লুত হয়েছি।
আপনার জন্যেও অনেক শুভকামনা!

৬| ২১ শে মে, ২০১৭ সকাল ১১:৪২

শুভ_ঢাকা বলেছেন: ছোট ছোট দুতিনটা বিষয় নিয়ে এই পর্বের ওয়ার্ম আপ লেখাটি ভালই ছিল।

ভালো লাগলো এক অভিনব কায়দায় নিজের কানাডা সিরিজের পুরানো লেখাগুলো সাথে পাঠকদের পরিচয় করে দিলেন।

২১ শে মে, ২০১৭ বিকাল ৫:৫৭

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: ওয়ার্ম আপ লেখা! হাহা, তা ভালোই বলেছেন।

আপনার ভালো লাগা আমাকে আনন্দিত করেছে।
শুভকামনা শুভসাহেব!

৭| ২১ শে মে, ২০১৭ রাত ১১:৫৮

নীল-দর্পণ বলেছেন: আপনার প্রতিটি লেখাই খুব ভাল লাগে। সুন্দর করে ফুটে ওঠে সব।

২২ শে মে, ২০১৭ রাত ২:৫১

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: প্রতিটি লেখাই ভালো লাগে জেনে ভীষনই অনুপ্রাণিত হলাম।
প্রতি লেখায় পাঠক হিসেবে পাশে থাকার জন্যে ধন্যবাদ।

অনেক ভালো থাকুন এবং সবাইকে ভালো রাখুন!

৮| ২২ শে মে, ২০১৭ রাত ৩:০৭

উম্মে সায়মা বলেছেন: প্রবাসে আপনার অভিজ্ঞতার কথা পড়তে ভালো লাগল আপু।

২২ শে মে, ২০১৭ রাত ৩:১০

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: সায়মা আপু! ভালো আছেন আশা করি।

ভালো লেগেছে জেনে আনন্দিত হলাম ভীষন।
ভীষন ভীষন ভালো থাকুন।

৯| ২২ শে মে, ২০১৭ রাত ৩:১৬

উম্মে সায়মা বলেছেন: প্রতিমন্তব্যেরর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আমি ভালো আছি। আশা করি আপনিও ভালো আছেন।

২২ শে মে, ২০১৭ রাত ৩:২০

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: পুনরায় পোষ্টে পেয়ে খুশি হলাম সায়মা আপু।

হ্যা, আল্লাহর রহমতে ভালোই আছি।
আপনিও ভালো থাকুন সবসময়েই। :)

১০| ২২ শে মে, ২০১৭ সকাল ১০:১৫

নাদিম আহসান তুহিন বলেছেন: যেহেতু আগে মিস করেছি তাই নতুন করে সব কিছু পড়তে হবে।

২২ শে মে, ২০১৭ সকাল ১০:১৯

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: হুমম, সামারি টা খুব একটা হেল্প করেনি তাহলে! হাহা।

সব পর্ব পড়লে অবশ্যই কৃতজ্ঞ থাকব। আর সামনের পর্বে পাশে পেলেও আনন্দিত হবো। :)
শুভকামনা অনেক অনেক!

১১| ২২ শে মে, ২০১৭ সকাল ১০:৩৬

নতুন নকিব বলেছেন:



হেই,
কাল আমার ব্লগে আপনার পদচারনা দেখে মুগ্ধ হলাম। কিন্তু, চুপি চুপি চলে এলেন। কোন কথা বার্তা ছাড়াই। ভাবসাব কি?

যাক, তবু আপনি খোঁজ নিতে গেলেন বলে কৃতজ্ঞতা।

নতুন পোস্ট দারুন।

ভাল আছেন নিশ্চয়ই!

২২ শে মে, ২০১৭ সকাল ১০:৫৪

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: হেই! কেমন আছেন?

ইশ! "সাম্প্রতিক যারা ব্লগ দেখেছেন" যে কে আবিষ্কার করেছে! প্রতিবেশিদের বাড়িতে চুপিচুপি শান্তি করে উঁকিঝুঁকিও দেওয়া যাবে না! :D
ভাবসাব কিছুই না। ভুলে ক্লিক করে চলে গিয়েছিলাম বোধহয়। ইচ্ছে ছিল না যাবার। --- ভাব নিলাম আরকি! হাহা।

জ্বি আছি ভালোই।
পাঠ ও আন্তরিক মন্তব্যে কৃতজ্ঞতা।
শুভকামনা রইল!

১২| ২২ শে মে, ২০১৭ সকাল ১১:১০

নতুন নকিব বলেছেন:



কঠিন রাগ করব কিন্তু! ভুলে ক্লিক!

ভাল থাকবেন।

২২ শে মে, ২০১৭ বিকাল ৪:২৬

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: হেই নকিব সাহেব! পুনরায় পেয়ে খুশি হলাম।

কঠিন রাগ আপনার আগে আমার করা উচিৎ। কেমন আছেন জিগ্যেস করেছিলাম, আবার আসলেন যখন উত্তর তো দিতেন। এটাতো সাধারণ ভদ্রতা! :D ;)

পরের কমেন্টে যাচ্ছি.....

১৩| ২২ শে মে, ২০১৭ সকাল ১১:২০

নতুন নকিব বলেছেন:



ওহ! সরি, শেষে গিয়ে আবার যে 'ভাব নিলাম' বলেছেন, তা তো খেয়ালই করি নি!

ধুত্তোরি, এখনতো দেখছি, আমাকে আপনার জরিমানা করা উচিত।

আচ্ছা, জরিমানা মেনে নিচ্ছি, আর রাগ করাকরি হবে না।

অনেক শুভকামনা আবারও, আন্তরিক প্রতিমন্তব্যে।

২২ শে মে, ২০১৭ বিকাল ৪:২৮

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: আপনি তো বড্ড বেরসিক মানুষ। একটু হাসি ঠাট্টা সেটা খেয়াল করতেও কত সময় নিলেন! রাগ করাকরি পর্যন্ত চলে গেলেন! ;)
জরিমানা মেনে নিয়েছেন ঠিক আছে। তবে কি জরিমানা হবে সেটা আমি ঠিক করব। হাহাহা।

আপনাকেও আন্তরিক মজার সব কমেন্টে অনেক ধন্যবাদ।
অনেক অনেক শুভকামনা!

১৪| ২২ শে মে, ২০১৭ বিকাল ৫:৫৬

নতুন নকিব বলেছেন:



আচ্ছা, মেনে নিলাম। আপনিই ঠিক করে দিবেন জরিমানাটা।

অনেক শুভকামনা। ভাল থাকবেন প্রিয় সহব্লগার। আবারও সরি, প্রিয় 'হেই' বলা উচিত ছিল।

২২ শে মে, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:০৩

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: হেই! জরিমানাটা বেশ ভালোভাবেই আদায় করে নেব সময় এলে। ভুলের জন্যে পস্তাবেন আপনি! হাহাহা।

আপনিও ভালো থাকুন প্রিয়!
শুভকামনা!

১৫| ২২ শে মে, ২০১৭ রাত ৮:১২

আলভী রহমান শোভন বলেছেন: আহ ! অনেক দিন পর তোমার কানাডার সিরিজের লেখা ! সেই মাপের শান্তি পেলাম তোমার লেখা পড়ে, আপুনি। পরবর্তী সিরিজের অপেক্ষায় রইলাম। ভালো থেকো, সুস্থ থেকো। :)

২২ শে মে, ২০১৭ রাত ৮:৩০

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: ভাইয়ুউউউ! তোমাকে দেখে আমিও সেইরাম শান্তি পেলাম! সত্যিই! প্রিয় মানুষদের মন্তব্য যেকোন পোষ্টে অনেক আনন্দ দেয়। :)

আশা করি জলদিই পরের পর্ব লিখতে পারব, এবং তুমি পড়তে পারবে! :)
তুমিও অনেক অনেক ভালো থেকো।
দোয়া করি অনেক।

১৬| ২৪ শে মে, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:১২

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: ওয়েলকাম ব্যাক :)

হোক নতুন সিরিয়ালে বা নতনু উপস্থাপনায়, বিষয় বৈচিত্রে সবসময়ই তা আকর্ষনীয়।

একটা ভীন্ন দেশী কৃষ্টি কালচারের সাথে নিজেক খাপ খাইয়ে নেয়ার এমন দারুন কথনিকা দ্বিতীয়টি
নেই। হৃদয় দিয়ে সাথে দেশ, ধর্ম, পারিবারিক, সামাজিক শিক্ষা, বোধ, চেতনাকে দুমড়ে মুচড়ে না দিয়ে
পুরাই উল্টো কালচারে নিজেকে এডপ্ট করার হৃদয় উৎসরিত সাবলীল প্রকাশ- সত্যিই অনন্য, মুগ্ধকর।
সাথে আছে অসাধারন দেশপ্রেম। হিউমার। এবং স্বকীয় বিশ্লেষন।

আবারও অপেক্ষার উপলক্ষ্য পাওয়া গেল ;) ধন্যবাদ অনেক অনেক অনেক।

২৫ শে মে, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:১৮

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: বাবাহ! এত প্রশংসা? আমার পা তো মাটিতে থাকবে না কবিসাহেব! হাহাহা।
আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।

এত সুন্দর করে বলতে পারেন বলেই তো সখা হয়েছেন! আশা করি পরের পর্বগুলোও ভালো লাগবে এবং আপনার অপেক্ষা সার্থক হবে। :)

দুঃখের তপ্ত রোদ সরে গিয়ে সুখের শীতল বৃষ্টি আসুক নেমে জীবনে।
শুভকামনা অনেক অনেক।

১৭| ২৫ শে মে, ২০১৭ বিকাল ৩:২২

হাসান মাহবুব বলেছেন: পছন্দ হয়েছে টপিকটা। ফলোয়িং।

২৫ শে মে, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:১৯

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: জেনে খুশি হলাম। পরের পর্বেও পাচ্ছি তাহলে! :)

পাঠ ও মন্তব্যে অনেক ধন্যবাদ।
ভালো থাকুন।

১৮| ২৫ শে মে, ২০১৭ বিকাল ৪:১৩

গড়ল বলেছেন: আপনি বলতে পারতেন আমরা ছাদে বা উঠানে কাপড় শুকাই, এটাই আসলে আমাদের প্রচলন। শহরে যায়গা নঐ বিধায় বারান্দায় শুকায়।

২৫ শে মে, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:২২

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: এটা কেন বলিনি তা পোষ্টেই লেখা।

"ব্যাংলাদেশেও তাই করা হয় না?" আমি কি বলব? হ্যা বললে উনি বিরক্ত মুখে তাকাবেন আবার। নিজের দেশ নিয়ে কাউকে তেমন ফেইস করতে দেখতে কারোরই ভালো লাগবে না। আর এতো দেশের মানুষ থাকে E.S.L. ক্লাসে, ৩০ টা স্টুডেন্ট মিলে ছোটখাট একটি দুনিয়া! সেখানে নিজের দেশকে ছোট হতে দেখলে আরো খারাপ লাগে।

থাইল্যান্ডে বারান্দায় কাপড় শুকানো হয় এই কথাটি বলে উনি মুখ চোখ বিগড়ালেন। আমিও যদি বলি আমাদের দেশে জায়গার অভাবে একই কাজ করা হয়, তবে উনি আবারো তেমনই মুখ করতেন।
এজন্যেই ঘুরিয়ে এমন কথা বলা।

পাঠ ও মন্তব্যে অনেক ধন্যবাদ।
শুভকামনা জানবেন।

১৯| ২৬ শে মে, ২০১৭ দুপুর ১২:৫৫

নিওফাইট নিটোল বলেছেন: কানাডার প্রত্যাবর্তনকে দেখতেছি এবার মনে রাখতেই হবে- নতুন করে শুরু হল বলে......কানাডায় কই যে থাকেন-নিজেও হারিয়ে যান, কানাডাকেও ভাগিয়ে নিয়ে যান.......ওকে, এই খুশিতে ট্রাম্পরে কমু যে পরের ওয়ার্ল্ড ট্রিপে যেন কানাডায় যায় :D

তবে নতুন সিরিজের শিরোনামটা অামার ঠিক পছন্দ হল না.....অাগের সিরিজের শিরোনাম যথার্থ ছিল- ধারাবাহিকের জন্য ওরকম টাইটেল অার ভিতরকার বর্ণনা পারফেক্টই......স্কুলের প্রত্যেকটা 'একক' দিন তুলে ধরতেন- দিনগুলোর কাহিনিতো অালাদা হতই.......কিন্তু নতুন করে "একেকটি দিন" বেশি সাদামাটা অার রসহীন লাগছে অামার কাছে.......যেহেতু এখন অন্যের চোখে মানে ভিনদেশীর চোখে অাপনাকে দেখাবেন, তাই অন্যরকম কিছু একটা আশা করতেই পারি শিরোনামে, না কি? ;)

ওরা ছোট কাপড়েও যে গরমে কাবু হয়ে যাচ্ছে, আমার কিছুই হচ্ছে না কি করে?
কিন্তু দেশে বেটাছেলেরা গরমে একলা ঘরেও তো অত ছোট কাপড় পড়ে না বোধহয়- ওরাই-বা তারপরও এত্তগুলা কাবু হয় কেমন করে? জাতির লুলিয় বিবেকের কাছে প্রশ্ন থেকেই যায় :P

বাট ইটস টু হটটটটট মিসেট টিইইই!
এই একখান কতাই গেবনেও এমনকি কলেজের ম্যাডামরেও বুজাইতে ফারলাম না...... কতবার কইছি যে ম্যাডাম, গরমে বইবার পারতাছি না.....চাইরধারে বাতাস পর্যন্ত নাই......ফ্যান ঘুরে না- কারেন্টের মায় মারা গ্যাছে......এট্টু ছুডিডা দ্যান......নাহ, কেউ কুনুদিন কতা শুনে নাই.......আর হাফপ্যান্ট পইড়া ক্লাসে যাবার কথা আমরা শুধু গরমের গুষ্টি উদ্ধার করার সময়ই ভাবতে পারি!!

আমি পরিবারের কাঁধে বন্দুক দিয়ে দিলাম
কিন্তু নলটা তাদের দিকে ঘুরিয়ে দিতে পারতেন বোধহয়......বলতে পারতেন যে- আমরা ওভেনে শুধু খাবার গরম করি, কাপড় না!!
নতুন করে সিরিজটা যে আবার শুরু করেছেন- এতেই শরবতের মতো শান্তি পেলাম........নিয়মিত বিরতিতে কানাডার খেরোখাতার লেখা আশা করছি :D

****************************************
বানানেতো মেলা উন্নতি হয়েছে দেখছি- ম্যাগনিফাইং গ্লাস দিয়েও আর খুঁজে পাচ্ছি না কোন কাঁকর.......দু-একটা ‘চন্দ্রবিন্দু’ মিসিং হলে কিছু হয়না যদিও- কারণ যাকে আমরা নাক দিয়ে এমনিতেও টানি না, তাকে ব্লগে না টানলেও বিশেষ ক্ষতি হয় না =p~

২৬ শে মে, ২০১৭ রাত ৮:৩৭

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: আরেহ আরেহ মাস্টারসাহেব দেখি! মিসড ইউ এ লট! ভালো আছেন আশা করি।
আপনার পদচারনায় নতুন সিরিজের প্রথম পর্বটি পূর্ণতা পেলো! :)

আমি দ্বিমত পোষন করছি। আগের শিরোনাম ছিল একদিন। এক পড়লে মনে হয় সকাল থেকে দুপুর স্কুল শুরু থেকে শেষ হয়ে দিনলিপি লিখছি। কিন্তু কখনোই আমি দিনলিপি লিখিনি, বরং একটি টপিক ঠিক করে সেটি নিয়ে সকল ঘটনা জড়ো করেছি। সেটা হাই স্কুলের প্রথম দিন থেকে শেষ দিনের মধ্যে যেকোন রেইন্জে পরতে পারে। একেকটি দিন আরো লার্জার স্কেইলে বিষয়টিকে দেখাচ্ছে যেভাবে আমি লিখি। আমি একেকটিকে বেশি যথাযথ মনে করি। আই ইভেন রিগ্রেইট নট হ্যাভিং ইট অন দ্যা প্রিভিয়াস ওয়ান! আর এই সিরিজিটি সাদামাটা নামেই সার্থকতা বহন করবে কেননা এটি সাদামাটা একজন কিশোরির স্কুল জীবনের সাধারণ গল্পগুলোর ওপরে বেইসড। দ্যা সিম্পলার দ্যা মোট সুইটেবল ইন মাই অপিনিওন! :)

কিন্তু নলটা তাদের দিকে ঘুরিয়ে দিতে পারতেন বোধহয়......বলতে পারতেন যে- আমরা ওভেনে শুধু খাবার গরম করি, কাপড় না!!
নারে, এটা বলে লাভ হতো না! ওনাকে যতোটা চিনি, এই কথাটির মধ্যে সূক্ষ্ম বিদ্রুপটি তিনি ধরতে পারতেন না। ভাবতেন কিসের মধ্যে কি, পান্তা ভাতে ঘি! হাহা। ওনাকে আমার এভাবে বলা উচিৎ ছিল,

"আমাদের দেশে সূর্যশক্তি ব্যবহার করে কাপড় শুকানো হয়। আমরা এনভায়রনমেন্ট ফ্রেন্ডলি লাইফ লিড করার চেষ্টা করি। ইন সাম পার্টস অফ দ্যা ওয়ার্ল্ড পিপল আর ওয়েস্টিং টু মাচ অফ রিসোর্চেস। উই আর ট্রাইিং টু মেইক আপ ফর ইট!" :D ;)

তখন আমি এতকিছু জানতাম না। কানাডিয়ানরা বেশ গিল্টি বোধ করে। ভাবে গ্লোবাল ওয়ার্মিং সহ পৃথিবীর নানা প্রাকৃতিক সমস্যা ওদের ল্যাভিস জীবনধারণ ও লার্জ ইনডাস্ট্রির কারণে হচ্ছে। এটাকেই পিনচ করা উচিৎ ছিল। তাহলে উনি পরে আমাকে আরো যে ১০০ প্রশ্ন করেছিলেন বাংলাদেশের অন্য নানা বিষয় নিয়ে সেগুলো করার সাহস পেতেন না।
কিন্তু হুট করে অনেককিছু মাথায় আসেওনা। জীবন তো স্ক্রিপ্টেড না, যে পড়ে আগে থেকেই সিনটি কি হতে যাচ্ছে জানব। যা হবার হুট করেই হয়!

চন্দ্রবিন্দু নিয়ে যা বললেন তা পড়ে হেসে ফেলেছি। আপনি পারেনও!

বানানেতো মেলা উন্নতি হয়েছে দেখছি-
অল ক্রেডিট গোস টু মাস্টারসাহেব! আগে অনেককিছু আলসেমীতে ঠিক করতাম না। কিন্তু আপনি বানান ভুল ধরিয়ে দেবেন বলে আমি লিটারেলি চন্দ্রবিন্দু নিয়েও অনেক কশাস! থ্যান্ক ইউ ভেরি মাচচচচ।

জ্বি চেষ্টা করব নিয়মিত দেবার। পাশে থাকবেন সবসময়ের মতো!

অনেককক ধন্যবাদ এত সুন্দর ও রসালো একটি কমেন্টের জন্যে।
আমার সকল শুভকামনা ও দোয়া রইল আপনার জন্যে।

২০| ২৬ শে মে, ২০১৭ রাত ১০:৩২

প্রামানিক বলেছেন: অনেক কিছু জানা হলো

২৬ শে মে, ২০১৭ রাত ১০:৫১

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: আরেহ প্রামানিক ভাই! সিরিজে পেয়ে খুব খুশি হলাম।

জানাতে পেরে আনন্দিত।
পাঠ ও মন্তব্যে ধন্যবাদ।
ভীষন সুখে থাকুন।

২১| ২৩ শে জুলাই, ২০১৭ বিকাল ৪:৩৬

অপেক্ষায় নাজির বলেছেন: যাক,অনেক দিন পর। ভালো লাগলো। জানি বলবেন না, আপনি কালগেরি থাকেন, না?

২৬ শে মে, ২০১৮ সকাল ১১:০৩

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: আপনার মন্তব্যটি কোন কারণে আমার চোখে পরেনি। প্রতিমন্তব্য করতে দেরী হলো সেজন্যে। মাফ করবেন।

ভালো লাগায় আনন্দিত হলাম।
শুভকামনা।

২২| ২৬ শে মে, ২০১৮ সকাল ৭:৪৭

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: আপনার লেখা পড়ে কানাডা সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারছি। সুন্দর লেখা।

২৬ শে মে, ২০১৮ সকাল ১১:০৪

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: পুরোন লেখায় কেউ কমেন্ট করলে বেশি ভালো লাগে, মনে হয় লেখাটি এখনো বেঁচে আছে! আপনার মন্তব্যে অনুপ্রাণিত হলাম।
ধন্যবাদ আপনাকে।

শুভেচ্ছা অজস্র।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.