নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

কি বলা যায়! কিছু কথায় নিজেকে ব্যক্ত করা সম্ভব না আমার পক্ষে। তাই একটা সিরিজে কিছু কিছু করে সবই বলছি।

সামু পাগলা০০৭

আমি অতিআবেগী, আগে ব্যাপারটা লুকানোর চেষ্টা করতাম। এখন আর করিনা।

সামু পাগলা০০৭ › বিস্তারিত পোস্টঃ

মেয়েবেলার স্মৃতিকথন - কোরবানীর ঈদের ৫ টি স্মরণীয় মুহূর্ত!

০১ লা আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪২



১) গরু আনার দিন!

আমাদের পরিবার থেকে বেশ বড়সর একটা দলই যেত কোরবানীর হাটে। বাবা, চাচা, ফুফা, কাজিন ব্রাদাররা সবাই একটা দিন সেট করে একসাথে যেতেন। দলে গেলে বিক্রেতা ঠকাতে পারবে না সেটাই হয়ত কারণ ছিল। ছোটদের নিয়ে যাওয়া হতো কেননা বড় হয়ে ওদেরও এসব করতে হবে, তাই একটু ট্রেইনিং দেওয়া আরকি। আর ওদেরও হাটে যাবার ভীষন আগ্রহ।
দাদু বলতেন, গরু ঈদের বেশ আগেই কেনা উচিৎ, তাহলে মায়া বাড়বে তার প্রতি এবং কোরবানী ত্যাগের হলে আল্লাহর দরবারে কবুল হবে। তার কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হতো।
হাটে যাবার দিন কাজিনগুলোর কি ভাব! স্কুলে পড়ত কিন্তু এমন একটা এটিটিউড যেন পুরুষমানুষ হয়ে গিয়েছে - বাড়ির মুরুব্বী! আমাদের মেয়েদের কোন পাত্তাই দিতনা সারাদিন! বড়দের সাথে "বাজেট" আলোচনায় বসে গম্ভীর মুখে মাথা নাড়ত (এবসোলুটলি কিসসু বুঝত না :P)।
এক কাজিন আবার বলত, "হাত পা একটু টিপে দে রে, কাল হাটে অনেক ঘুরতে হবে!" এমন মেজাজটা গরম হতো! টিপে দেবার নামে দু চারটা কিলও দিয়ে দিতাম। ;)
যাই হোক, একদিকে পুরো দল কোরবানীর হাটে যুদ্ধ জয় করতে বেড়িয়ে যেত। অন্যদিকে কাজিন সিস্টাররা মিলে, বাড়িতে বসে বসে পায়চারী করতাম আর গেস করতাম কেমন গরু হবে, কত বড় হবে, কি রং হবে ইত্যাদি অনেককিছু। ঈদের পুরো আনন্দটাই নির্ভর করবে গরু কেমন তার ওপরে তাই একটু পরে পরে বারান্দা দিয়ে উঁকি মারা আর গরু আসলেই চিল্লানো, "এসেছে এসেছে, ঐ যে ওটা আমাদেরই......

২) প্রিয় রমিজ চাচা!

গরু একবার আসার পরে বাড়ির বাচ্চাদের নাওয়া খাওয়া বন্ধ। এমনকি নানা রকমের দুষ্টুমি করে বড়দের জ্বালানোও বন্ধ। গরুর পিছেই পড়ে থাকত সবাই। মা, চাচীরা টেনে আনতে পারতেন না, আর আনলে গোসলের একটু পরেই সবাই আবার ভ্যানিশ!

দাদার বাড়ির সামনে বিশাল একটা উঠান ছিল। প্রথমে লম্বা বারান্দা, সেই বারান্দার দরজা খুললেই উঠান। উঠানের একপাশ ঘেঁষে গাছ আর গাছ - নানা রকম ফুল, ফল, মেহেদীরই কয়েক প্রকার গাছ। একটি কর্নারে ছোটখাট ঘরও ছিল যাতে আসবাব বলতে একটা খাট আর টেবিল ফ্যান। সেখানে রমিজ চাচা বিশ্রাম নিতেন ঈদের সিজনে। ওহ রমিজ চাচা কে সেটাই তো বললাম না।
গরুর খেয়াল রাখার জন্যে সার্বক্ষনিক একজন থাকতেন যার নাম ছিল রমিজ চাচা। খুবই পাতলা, কাঁচা পাকা দাড়ি, রুগ্ন স্বাস্থের, হাসিখুশি এক মানুষ ছিলেন তিনি। রমিজ চাচা খড়, ঘাস ইত্যাদি ব্যবহার করে গরুর জন্যে ঠিকঠাক খাবার বানাতেন। কিন্তু এসব স্বাভাবিক জিনিসে তো আমাদের বাড়ির বিচ্ছুদের ভালো লাগত না। কাজিন ব্রাদারগুলো লুকিয়ে লুকিয়ে ঘরের রান্না (ভাত, ডাল, মাছ, মাংস, চিপস) গরুকে খাওয়াতে নিয়ে যাবার প্ল্যান করত।

এখানেও ছেলে ভার্সেস মেয়ের ঝগড়া হতো। খাবার চুরি করার প্ল্যানটা আমাদের মেয়েদের ভালো লাগত না। আমাদের ক্লিয়ার লজিক ছিল, রমিজ চাচা অবশ্যই আমাদের চাচাকে জানাবেন আমাদের বাদরামীর কথা, যেহেতু তিনি ওনার লোক। আর মা চাচীরা যদি জানেন রান্নাঘরের খাবার এমন "মহৎ উদ্দেশ্যে" গায়েব হচ্ছে তাহলে আর বাঁচার উপায় থাকবেনা।
ছেলেরা বলত, রমিজ চাচাকে ম্যানেজ করে নেবে। আমরা সায় দিতাম না কেননা ওরাই যে প্রতিবারের মতো উল্টো ম্যানেজড হয়ে চলে আসবে জানতাম। আমরা শুধু দূরে দাড়িয়ে মজা দেখতাম।

যখন ওরা উল্টোপাল্টা খাবার নিয়ে যেত, রমিজ চাচা হৈ হৈ করে উঠে মানা করতেন। ওরা বোঝানোর চেষ্টা করত, গরুরও তো নানা রকম খাবার খেতে ইচ্ছে করে। ওসব খাবারের পুষ্টিগুণ নিয়ে লেকচার দিত রীতিমত। তার কথা কেউ শুনছে না দেখে চাচা শুধু একটা কথাই বলতেন, "আইচ্চা দাও, বৈকালবেলা তোমাগো চাচা আইবো, তহন.....।" উনি বাক্য শেষ করার আগেই সবগুলো পালাত!

ছেলেদের এই একটা জিনিস আমরা মেয়েরা কোনভাবেই বুঝে উঠতে পারতাম না। নিশ্চিত ফেইলড প্রজেক্ট জেনেও ট্রাই করবে! সবকিছুতে বীরত্ব দেখাতে হবে। প্র্যাক্টিক্যাল, লজিক্যাল রিজনিং এসব ওদের ডিকশনারিতে থাকেইনা। কি আজব এক নমুনা! ;) :)

৩) প্রতিবেশী বাচ্চাদের সাথে তেড়িবেড়ি!

আমাদের এক প্রতিবেশী বিশাল যৌথ পরিবারে থাকতেন এবং তাদের ছিল বড় ব্যবসা। তারা বেশ সম্মানী মানুষ ছিলেন পুরো পাড়ায়।স্বাভাবিকভাবেই তাদের গরুর সাইজ আমাদের চেয়ে বড় হতো। ঐ বাড়ির বাচ্চাগুলো মাটিতে পা ই ফেলত না গর্বে। পাড়ার সবচেয়ে বড় গরুটা ওদের!
দুইজন বেশি টগরা ছিল, একটা শ্যামলা মতোন মেয়ে, সবসময় হর্সটেইল করে রাখত। আর একজন ভাইয়া (মেয়েটির কাজিন ছিল সম্ভবত), তিনি বেশ বড়ই ছিলেন আমাদের চেয়ে। তবুও মজা করতেন সবার সাথে। ওরা একটা দল নিয়ে আমাদের গরুটা দেখতে আসত আর বলত, "ওমা এটা ছাগল না গরু!?"
আমরাও তো কম যাইনা। এক কাজিন বলত, "ছাগল দেখতে হলে আয়নায় দেখ। ভালো জাতের গরুর সাইজ এমনই হয়। এখন আমরা ব্যস্ত, পরে আসিস!"
ওরা বলত, "হ্যাঁ তাতো হবেই, এই পিচ্চি গরুটাকে খাইয়ে খাইয়ে আমাদেরটার মতো মোটা করার চেষ্টা করছ না!"
কাজিন: আমাদের ফ্যামিলিতে কেউ মোটা হয়না, মোটা হলে কত রোগ হয় জানিস না!? (বলে রাখা ভালো ওদের পরিবারে সবার একটু মোটার ধাত ছিল)। ;)
এর কোন শেষ ছিলনা, কোনদিন আমরা ওদের গরু দেখতে যেয়ে, সেই গরুর গায়ে কত দাগ, কত বিশ্রী দেখতে ইত্যাদি বলতে যেতাম। মানে পুরোই মাথা খারাপ অবস্থা।

আমি ওদেরকে ডাইরেক্টলি কখনো কিছু বলতাম না, কেননা আমার অন্য কাজিনরা ঢাকায় থাকত, দাদির বাড়িতে অথবা আশেপাশে। কিন্তু আমি বাবার চাকরির সুবাদে দূর শহরে থাকতাম, আর ঈদে যেতাম। তাই অস্বস্তি হতো পায়ে পায়ে লাগিয়ে ঝড়া করতে। আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে, আমি শান্ত এবং ভীতু ছিলাম কাজিনদের তুলনায়। তো ওরা মারামারি কত, আমি মজা করে দেখতাম। ;)

৪) ঈদের দিন!

খুবই ব্যস্ত একটা দিন, কোরবানীর ঈদে বড়দের মজা করার জায়গা খুব কম থাকে। পুরোটা দিনই কাজে কাজে চলে যায়।

আমাদের লম্বা একটা বারান্দা ছিল। সেটা খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করা হতো। বাইরে থেকে একেক ব্যাচ মাংস প্রসেসড হয়ে আসত আর বাড়ির মহিলারা গোল হয়ে বসে মাংস ভাগবন্টন করতেন। আত্মীয়দের, গরীবদের ভাগ প্যাকেটে করে গ্রুপে রেখে দেওয়া হতো। দাদি গাইড করতেন সবাইকে।

এই কাজটায় আমাদের মেয়েদের স্পেসিফিক্যালি ডাক পড়া শুরু হলো যখন আমরা সবে কিশোরী হতে শুরু করেছি। শুধু এই কাজই নয়, মা চাচীরা খাবার হাতে দিয়ে টেবিলে রেখে আসতে বলতেন। মেহমান আসবে বলে ঘরে ঘরে নতুন কুশন, বেডশিট, ফুলদানী দিয়ে ঘর সাজাতে বলতেন। মোটকথা, বাড়ির কাজে আমাদেরকে সামিল করতে চাইতেন যেহেতু ভবিষ্যতে আমাদেরকেও এসব করতে হবে!

তখন আমাদের ভাব আর দেখে কে? কাজিন ব্রাদারদের বলতাম, উফফ! একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ আমাদের ছাড়া হয়না। কেউ কেউ তো হাটে বেড়াতে গিয়েই ঝাড়া হাত পা, আর বাকি সব জরুরী কাজ করতে করতে হাত পা সব ব্যাথা হয়ে গেল........ ;)

৫) রাতের অন্ধকারে চোখের জল!

কোরবানীর সময়ে বারান্দা থেকে জবাই দেখতে দেখতে আমরা মেয়েরা একপ্রস্থ কেঁদে নিতাম কিন্তু ছেলেরা কাঁদত না সবার সামনে। বিশেষ করে হালকা গোঁফ গজানো শুরু করেছে এমন "বড় পুরুষমানুষ!!" দের তো সবার সামনে কান্না মানায় না।

ব্যস্ত একটা দিন শেষে যখন মেহমানেরা চলে যেতেন, পুরো বাড়ি নিস্তব্ধ মনে হতো। সারাদিনের হৈ হল্লার পরে অদ্ভুত একটা নীরবতা। এই নীরবতায়, বড়দের বিশেষত বাড়ির বউদের চোখে মুখে একটা প্রশান্তি দেখতে পেতাম যেটা বলত "যাক সারাদিনের এত দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন হলো।" অন্যদিকে ছোটদের শুন্যতা ভর করত, এতদিন যেই গরুটাকে নিয়ে মেতে ছিল সবাই, তাকে আজ চোখের সামনে চলে যেতে দেখলাম।

অন্ধকার ড্রয়িংরুমে সবাই মন খারাপ করে বসে থাকতাম। আমাদের গরুটার মায়াবী চোখের কথা মনে পড়ত, কোরবানীর দৃশ্যটা বারবার মনে ভেসে উঠত। আমরা যখন ওর এত দেখভাল করতাম, মনে একবারো আসত না যে ওকে কদিন পরেই মেরে ফেলা হবে! হাউমাউ করে কান্না আসত। গরুটাকে ভালোবেসেছি সমানে, তার চলে যাওয়ায় সবাই কাঁদতামও একই সুরে। বড়রা দেখে বলতেন, ওরা যেভাবে কষ্ট পাচ্ছে তাতে মনে হয় ওদের কোরবানীটা কবুল হবে!

ঈদের সেই একটা সময়ে, ছেলে মেয়ের দ্বন্দটা একেবারে মিটে যেত........

শেষ কথা: নিচের কথাগুলো অন্য পোস্টেও বলেছি, আবারো বলছি কেননা আমি চাই বেশি মানুষের কাছে এই কথাগুলো পৌঁছাক। এবারের ঈদ অন্যবারের চেয়ে আলাদা সেটা আমরা সবাই জানি, কিন্তু মানতে কি পারব? ভীড় থেকে দূরে থাকা, বারবার হাত স্যানিটাইজ করা, বাইরে গেলে মাস্ক/গ্লভস এর ব্যবহার ইত্যাদি সবাইকে করতে হবে - ঈদের মধ্যেও! ধর্মীয় আচারগুলো যতটা সম্ভব সোশ্যাল ডিস্ট্যান্স রেখে পালন করতে হবে। ইসলাম সরল ও সুন্দর, জীবন বাঁচানো ফরজ আমাদের ওপরে। পরিচিত হুজুরদের সাথে কথা বলে জেনে নিন ইসলামের আলোকে কিভাবে জীবনকে নিরাপদে রেখে ধর্মপালন করা যায়?
তারচেয়েও দরকারি কথা - এবারে নাহয় ঈদ শপিংটা নাই করলেন। কিছু সেভিংস হলো টাকা ও জীবনের! আত্মীয়দের বাড়ির দাওয়াত, পার্ক/চিড়িয়াখানায় বেড়ানো, ঈদ মোবারক বলে প্রতিবেশীদের সাথে কোলাকুলি নাহয় পরের বছরের জন্যে তোলা থাক? মনে রাখবেন, আপনার ভুলে শুধু আপনিই নন, আপনার আপনজন থেকে শুরু করে আশেপাশের অনেক গরীব মানুষও আক্রান্ত হতে পারেন। তাই নিরাপদে থাকুন, নিরাপদে রাখুন - সুস্থতাই হোক এবারের ঈদের লক্ষ্য। ঈদ মোবারক সবাইকে!


ছবিসূত্র: অন্তর্জাল।

মন্তব্য ২২ টি রেটিং +৫/-০

মন্তব্য (২২) মন্তব্য লিখুন

১| ০১ লা আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:০৬

ঢুকিচেপা বলেছেন: এতক্ষণ মনে হয়নি যেন কোন লেখা পড়ছি।
কারণ "বড় পুরুষমানুষ!!" এই অবস্থা থেকে সব কাজই করতে হয়েছে।

স্মৃতিচারণ ভাল লেগেছে।

০১ লা আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:১৭

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: ঈদ মোবারক!

প্রথম মন্তব্যে ধন্যবাদ। ছোট কিন্তু চমৎকার একটি মন্তব্য করলেন।

২| ০১ লা আগস্ট, ২০২০ রাত ৮:২৯

রাজীব নুর বলেছেন: ঈদ এন্ড ঈদ এন্ড ঈদ মোবারক।

০১ লা আগস্ট, ২০২০ রাত ৯:০৪

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: আপনাকেও জানাই ঈদ মোবারক। সুস্থ ও সুন্দর একটি ঈদ কাটান। :)

৩| ০১ লা আগস্ট, ২০২০ রাত ৮:৪২

মনিরা সুলতানা বলেছেন: ১- হাহাহা সত্যি সত্যি ই নব্য কৈশরে পা দেয়া মানে যারা প্রথমবারের মত অনুমতি পায় হাটে যাবার, তারা এমন ই করত। আমরা অবশ্য ঘাস পাতা বেশি খাইয়ে ওদের উপর বাহাদূরী দেখাতাম। অনেক সময় দেখা যেতো প্রথমদিন হাটে গিয়ে গরু বা ছাগল না নিয়েই ফিরেছে। আহা সেদিন টা যেনো ফুরাতই না।

২- আমাদের অবশ্য আলাদা রমিজ চাচা টাইপ কেউ ছিলেন না । মোটামুটি বড় দলের দায়িত্ব ছিলো খাওয়ানো।

৩- ইশশ এই সময়গুলোতে প্রাণের বন্ধু বান্ধবী’রা যেনো হিংসুটে হয়ে যেতো। একেকবার অবশ্য একেক গ্রুপ দান মারত। সে হিসেবে বাহাদূরী করার সুযোগ সবারই আসত।

৪- রোজার ঈদ যেমন সারাদিনের ঘুরাঘুরি , কোরবানী ঈদের সকাল টা একেবারেই ঝড়ের বেগে চলে গিয়ে সত্যিই সন্ধ্যাটা নামায়
নিরবতায়।

৫- এ ব্যাপার টা খাসি / ছাগল কোরবানী তে বেশি হত।
আমার ছোটবোন তো শেষে মাংস ই খেতে পারত না কষ্টে।


খুব খুব ভালোলাগা তোমার স্মৃতিকথায় সামু!
আর শেষের কথাগুলো ও এ সময়ের জন্য গুরুত্বপূর্ন!


ঈদ মোবারাক ! ভালোবাসা নিও

০১ লা আগস্ট, ২০২০ রাত ১১:২১

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: বাপরে মনিরা আপু! কি করেছেন! দারূণ একটা মন্তব্য! লেখার প্রত্যেকটা পয়েন্টকে নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্যে থ্যাংকস এ লট। এধরণের পোস্টের জন্যে এমন স্মৃতিঘেরা মন্তব্যই সবচেয়ে উপযোগী। আপনার মন্তব্যে লাইক।

আপনি আমার তরফ থেকে প্রচুর শুভকামনা ও ভালোবাসা নেবেন। ঈদ মোবারক আপনাকেও!

৪| ০১ লা আগস্ট, ২০২০ রাত ৯:২৫

আকন বিডি বলেছেন: তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম। ঈদ মোবারক।
আসলেই ছোট বেলার ঈদ এর আমেজ ছিল অন্য রকম। এর এখন অনেক দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হয়।
লেখাটা সুন্দর হয়েছে। এখন না হয় বড়বেলার ঈদ বিষয় লিখুন।

০১ লা আগস্ট, ২০২০ রাত ১১:২৩

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: ঈদ মোবারক আপনাকেও! নিরাপদ ও সুন্দর একটু ঈদ কটান আপনজনদের নিয়ে।

তাতো বটেই। ছোটকালে বড়রা যতোই কাজ দিক না কেন, আমরা জানতাম যে আমরা দুধভাত, আসলে কোন দায়িত্ব নেই। কিন্তু বড় হলে ব্যাপারটা পাল্টে যায়। পোস্টেও লিখেছি যে কোরবানীর ঈদে বড়দের আনন্দ করার মতো সময় থাকেনা। সারাটা দিন কাজে কাজেই কেটে যায়। তবে হ্যাঁ পরিবারের সবাই মিলে এসব ধর্মীয় ও দানের কাজে একটা আলাদা আনন্দ থাকে।

পাঠ ও মন্তব্যে কৃতজ্ঞতা।
শুভকামনা!

৫| ০১ লা আগস্ট, ২০২০ রাত ৯:৫৪

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: চমৎকারভাবে স্মৃতি রোমন্থন করেছেন।
হাটে যাওয়া সদ্য কিশোরদের জন্য বীরত্ব প্রকাশের কাজ। একই সাথে সে যে এখন ছোট না সেটা সবাইকে জানানোর মাধ্যম। সদ্য কিশোরী মেয়েরা অনুরুপ আচরণ করে বিয়ে বাড়িতে। ছোট একটা কিশোরী মেয়েও শাড়ি পরে, শেজেগুজে এমন আচরণ করে যে মনে হয় সে কত বড় হয়ে গেছে। এই বয়সের ছেলে বা মেয়ে উভয়ের কাজকেই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতে হয়। এই বয়সটাই এরকম। অভিভাবকদের এই সময় সতর্কভাবে আচরণ করা উচিত।

সমাজের সর্বস্তরের মানুষ যেন ঈদে আনন্দ করতে পারে সেটা সামর্থ্যবানদের দেখা উচিত। আনন্দ বাটলে বাড়ে আর দুঃখ বাটলে কমে।

০১ লা আগস্ট, ২০২০ রাত ১১:৩৩

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: বাহ! বেশ সুন্দর, সাবলীল একটা মন্তব্য তো। :)

প্রথমেই জানাই ঈদ মোবারক!

আসলেই, আমার কাজিন ব্রাদারগুলো যা বীরত্ব দেখানোর চেষ্টা করত, মেজাজটা গরম হতো। এখন অবশ্য ভাবলেও হাসি পায়, হাহা।
সদ্য কিশোর ও কিশোরীদের নিয়ে সুন্দর কিছু কথা লিখেছেন। বিশেষত অভিভাবকদের সতর্কতার ব্যাপারটি। মানুষ জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলগুলো তো সেই আবেগপ্রবণ বয়সটাতেই করে। বাবা মায়েরও সমস্যা - বাচ্চা নেই তাই বকা যায়না, বড় হয়নি তাই ছেড়েও দেওয়া যায়না। কিন্তু বন্ধুর মতো পাশে থেকে টিনেজারদের প্রবলেমস যেমন - স্কুল/সাইবার বুলিং, সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট, সিগারেটস/ড্রাগস, পিয়ার প্রেশার, চেহারা নিয়ে হীনমন্যতা সহ সকল বিষয়ে কথা বলতে হবে খোলাখুলি।

আনন্দ বাটলে বাড়ে আর দুঃখ বাটলে কমে।
একদম, বহুল প্রচলিত কথাটির মূল্য বোধহয় কখনোই কমবেনা।

কৃতজ্ঞতা রইল সুন্দর মন্তব্যটিতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় তুলে আনার জন্যে।

৬| ০১ লা আগস্ট, ২০২০ রাত ১০:০৩

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
সত্যি খু্ব মজার স্মৃতি !!

০১ লা আগস্ট, ২০২০ রাত ১১:৩৪

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: ঈদ মোবারক, আপনার এবারের ঈদটি কাটুক সুস্থ ও সুন্দরভাবে।

ধন্যবাদ পাঠ ও মন্তব্যে।

৭| ০১ লা আগস্ট, ২০২০ রাত ১০:২৫

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: কিশোর বেলার ইদটা নির্ভেজাল আনন্দ আর হইচইয়ে কেটেছে আপনার। লেখা খুব সাবলীল এবং হৃদয়গ্রাহী। লেখার ভেতর দিয়ে আপনার একটা ভনিতাহীন নির্মল মনের পরিচয় ফুটে উঠেছে।

০১ লা আগস্ট, ২০২০ রাত ১১:৩৬

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: জ্বি সেটা ঠিক, অবশ্য শুধু আমারই না, বেশিরভাগ মানুষেরই শৈশব/কৈশোরের ঈদগুলো ভালোই কাটে। বড় হলে অনেককিছু পাল্টে যায়.....

লেখার এবং ব্যক্তি আমার প্রশংসা করার জন্যে আপনাকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।

প্রতিমন্তব্যের শেষে অবশ্যই ঈদ মোবারক জানাচ্ছি। নিরাপদ ও চমৎকার একটি ঈদ কাটান নিজের আপনজনদের নিয়ে।

৮| ০২ রা আগস্ট, ২০২০ দুপুর ১:৪৯

রাজীব নুর বলেছেন: আপনার এই পোষ্ট টি আমারও ছোটবেরলার অনেক ঘটনা মনে করিয়ে দিয়েছে।

০৩ রা আগস্ট, ২০২০ রাত ৩:৩৫

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: তাই নাকি? কোন ঘটনা? শেয়ার করুন না!

৯| ০২ রা আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪৯

মিরোরডডল বলেছেন:



পিচ্চু তোমার স্মৃতি রোমন্থন ভালো লেগেছে ।

শেষের কথাগুলো পড়ে মনে হয় পিচ্চুউ মাঝে মাঝেই বড়দের মতো কথা বলে মনে করিয়ে দেয়, এখন আর সে ছোটটি নেই । অনেক ভালোলাগা ।

০৩ রা আগস্ট, ২০২০ রাত ৩:৩৬

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: ইশ! সাচ আ সুইট কমেন্ট আপু! আমার আপন বড়বোন থাকলে বোধহয় এমন কিছুই বলত! থ্যাংকস এ লট।

না আমি বড় হতে চাইনা, পিচ্চুই ভালো। :)

ভালো থাকবেন আপু!

১০| ০২ রা আগস্ট, ২০২০ রাত ৯:৩৮

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন:
দিন গেল পথ চেয়ে
আমার রাক গেল কান্দিতে কান্দিতে
হায়রে সোনালী কৈশোর
কই হারালি রে . . .

দারুন মেয়েবেলার স্মৃতিকথনে স্মৃতিকাতরতায় নষ্টালজিক হয়ে গেলাম!
আহা, সদ্য গোফ গজানোর সেই অনুভব! ফিরবেনা আর কোনদিন ;)
কিশোরীদের সামনে নিজেকে তুলে ধরার সুবর্ণ সময়!

আত্মীয়, বন্ধু, স্বজনদের বাড়ী বাড়ী গোশত পৌছে দেয়া ছিল আনন্দের
বিশেষ করে যেই বাড়ীতে সমবয়স্কা ;) কিশোরী থাকতো :P সেখানে যাবার আগ্রহ ছিল দেখার মতো!

ঈদ মোবারক সখি
স্মৃতিতেই মাখামাখি
থাকেনা সময় বসে, হেসে
কেবল স্মৃতিতেই আঁকাআঁকি।।

শুভেচ্ছা আর শুভকামনা অন্তহীন।


০৩ রা আগস্ট, ২০২০ রাত ৩:৪১

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: সখা, সেরা মন্তব্যকারির প্রাইজ থাকলে আপনিই জিততেন! ছড়া, কথা, আবেগ, অনুভব মিলিয়ে একেকটা যা মন্তব্য করেন! জাস্ট এমেইজিং। আপনার মন্তব্যে লাইক!

ঈদ মোবারক জানিয়েছি অনেকবারই নানা পোস্টে, আবারো বলছি, ঈদ মোবারক।

ঈদ মোবারক সখি
স্মৃতিতেই মাখামাখি
থাকেনা সময় বসে, হেসে
কেবল স্মৃতিতেই আঁকাআঁকি।।

এই অংশটুকু ভীষন রকম সুন্দর, সুন্দর কারণ কথাগুলো চরম সত্য। সময় চলে যায়, শুধু স্মৃতিটুকু রয়ে যায়......

১১| ০৩ রা আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:১৪

মূর্খ বন মানুষ বলেছেন: আপনার লেখা সাথে মন্তব্যগুলো পড়ে মনে হচ্ছে মোটামুটি একটা দুইটা পয়েন্ট ছারা সবার ছেলেবেলা/মেয়েবেলার ঈদ আনন্দ আর উদযাপন একি রকম নির্ভেজাল আনন্দময়। আমার তো আজকাল ঈদ বলতেই কিছু নেই, শুধু আছে ছেলেবেলার সেই মধুর স্মৃতি চিহ্ন গুলোই রয়ে গিয়েছে।

০৪ ঠা আগস্ট, ২০২০ রাত ১:০৪

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: জ্বি আমিও তাই দেখলাম। সবার শৈশবের ঈদ অভিজ্ঞতাগুলো একই রকম - আনন্দ, হৈ হুল্লোর, সারল্য ও ভালোবাসাময়! আপনার ভাষায় বলতে গেলে নির্ভেজাল আনন্দ।

আমারো অনেকদিন হলো ঈদ/উৎসব বলতে কিছু নেই। এই তো জীবন!

সুন্দর মন্তব্যে ধন্যবাদ।
ভালো থাকবেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.