নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

চারুশিল্পী , লেখক

শাহ আজিজ

চারুশিল্পী , লেখক

শাহ আজিজ › বিস্তারিত পোস্টঃ

মেটে তেলের গড়াগড়ি , নিরবতার গর্জন

২১ শে এপ্রিল, ২০২২ দুপুর ২:০৪






গ্রাম দেশে কাঠের খুঁটিকে ঘুন পোকা থেকে রক্ষা করতে মেটে তেল যা আলকাতরা আর কেরোসিন মেশানো মিশ্রন ব্যাবহার হয় । তো ইংরেজিতে বার্নট সিয়েনা বা গাড় বাদামি রঙের ছড়া ছড়ি বেবুলের ছবির প্রায় সর্বত্র লক্ষিত । বেবুল নিরব হয়েছে ২০২০ সালে । আমরা খবরে পড়েছি । বেবুলের সাথে দেখা হয়না দেড় যুগের বেশি সময় । কিডনি নষ্ট হয়ে বেবুল চিকিৎসাধীন ছিল অনেকদিন । দেখা হয়নি কথা হয়েছে । আমাদের খিস্তি খেঁউড় বেশিই হতো , তো তাই হয়েছিল টেলিফোনে । তারপর বেবুলের আত্মা অপেক্ষমাণ ট্রেনে উঠে আমাদের পরিচিত জগত থেকে হারিয়ে গেল । ২০১৫ থেকে ২০ পর্যন্ত অসুস্থ শরীরে একপ্রকার নিরব গর্জন করেছে ক্যানভাসে । বাদামি রঙের খেলায় মত্ত বেবুল কি খুজছিল ক্রমস আঁধার হয়ে যাওয়া হরাইজেনটাল ফর্মে , ঘরের কোনে , মাঠে , চরাচরে আর আধো চাদের মধ্যে । একটা বিশাল ঘড়ি কোন সময়ের নির্দেশ করছে জানা হয়নি । ঘড়ির পেছনে ট্রেন দৃশ্যমান , ট্রেন সময়মত এসেছে কি আসবে , যাত্রীরা সবাই কি চড়েছে বা প্লাটফর্মে দণ্ডায়মান । খুব চাপা স্বভাবের বেবুল কাউকে সম্ভবত বলেনি , যা প্রকাশ তা ক্যানভাসে , বুঝে নেবার দায়িত্ব আপনার নিজের । আমি কোন কোন ছবিতে যীশুর ক্রুশ দেখতে পাচ্ছি , কি যন্ত্রনায় ক্রুশ একেছিল , জানা নেই । চতুষ্কোণ লম্বাটে ফর্ম কি ঘর বাড়ি , কুড়ে ঘরে , দরজা , কি জানালা , কি খোলা প্রান্তে , বৃক্ষের অবয়বে, দুহাত ছড়িয়ে কবি অর্জন করে তার কাব্য উৎসব । গোটা দুই ছবিতে চীনাদের জলরঙের এফেক্ট দৃশ্যমান । বেবুল ,আমি , সাইদ একসাথে ৮২ সালে প্লেনে চড়েছিলাম চীনাদের দেওয়া স্কলারশিপে পড়াশুনা করতে । আমার ধারনা ছিল বেবুল ক্ষীণ হলেও চীনা ধারায় ছবি আকবে । নাহ , বেবুল একেবারে সেমি বিমূর্ত ধারায় পশ্চিমকে অনুসরন করল কিন্তু তাও উজ্জ্বল হয়েছে । আকিয়ে স্বাধীন তার চিন্তা চেতনা আর ভাব প্রকাশে । বেবুল তার গুরু কিবরিয়াকে এড়াতে পারেনি বিবিধ ফর্ম আর রঙে । স্কুল অফ কিবরিয়া একারনেই বিখ্যাত তার ভাব শিস্য দের মাঝে ।

দি এজ গ্যালারি , গুলশানে ( বারিধারা যাওয়ার ব্রিজের বা হাতে ) দি সাউনড অফ সাইলেন্স শিরোনামে শিল্পী গোলাম ফারুক বেবুলের একক প্রদর্শনী চলবে আরও চারদিন - সকাল ১১টা থেকে রাত আটটা ।

























মন্তব্য ১৪ টি রেটিং +৫/-০

মন্তব্য (১৪) মন্তব্য লিখুন

১| ২১ শে এপ্রিল, ২০২২ দুপুর ২:২০

সোনাগাজী বলেছেন:


বয়স কতো হয়েছিলো?

২১ শে এপ্রিল, ২০২২ বিকাল ৩:১৬

শাহ আজিজ বলেছেন: ৬২ , আমার থেকে ১ বছর ছোট ।

২| ২১ শে এপ্রিল, ২০২২ সন্ধ্যা ৬:০১

অর্ক বলেছেন: বেশ ক'বছরে আমার একমাত্র দেখা এরকম চিত্র প্রদর্শনী। পনেরো ষোলো দিন আগেই দেখলাম। এসব ছবি গণ্ডীর বাইরে নিঃসন্দেহে! সেভাবে বুঝতে না পারলেও বোঝা যায় যে, আঁকাআকিতে অতিশয় পরিপক্ব বুদ্ধি এর পিছনে। প্রত্যেকটা ছবির পাশে মূল্য লেখা। এসব সম্পর্কে ধারণা না থাকলে মানুষ মাত্রেরই চোখ কপালে উঠবে। সবমিলিয়ে উপভোগ্য। বাংলাদেশের সেরা গ্যালারীর মধ্যে শুরুতে থাকবে বে’র এই গ্যালারীটা। পরিপাটি টিপটপ। একটা বালুকণাও পাওয়া যাবে না। রক্ষণাবেক্ষণে প্রচুর ব্যায় করে থাকে কর্তৃপক্ষ। কারও ইউজ করার পরই স্টাফ এসে চেক করে যায় ওয়াশরুম।
তবে বিরক্তিকর হলো, ভিতরে প্রবেশে অনেক ঝামেলা। এদিক ওদিক হয়ে যাও। মোবাইল মানিব্যাগ চাবির রিং রাখো গামলায়। আবার পকেট শরীরেও হাতাহাতি করে চেক করে গার্ডরা। যা নেহাতই বাড়াবাড়ি।
ভালো লাগলো লেখাটি। দেখা শেষে ফেরার সময় বিশেষ এক পোস্টারে শিল্পীর মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে কষ্ট পেয়েছি। আপনার নিজের কি এরকম একক কোনও প্রদর্শনী ঢাকার কোথাও হচ্ছে বা হতে যাচ্ছে? জানালে খুশি হবো। দেখার ইচ্ছে আছে। আপনার আঁকা ছবি দেখা হয়নি!

ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা।

২১ শে এপ্রিল, ২০২২ সন্ধ্যা ৬:১৪

শাহ আজিজ বলেছেন: আমি বৈশাখের প্রথম দিনে এটা উপভোগ করতে চাইলাম কিন্তু সিকিউরিটির কড়াকড়ি ভাল লাগেনি । পরে জানলাম ৬ টি বিদেশী রাষ্ট্রের দুতাবাস ঐ দালানে তাই এতো কড়াকড়ি । নিচে টয়লেটের সাথেই ব্রাজিল দুতাবাস । শিল্পী বেবুল শেষ দিকে বেশ কাজ করেছে এবং একসময় এজ এর সাথে তার কথা হয়েছিল এক্সজিবিশনের । মারা গেলে এই দুবছর পর তার পরিবার ময়লা ধুলো মাখা ক্যানভাস তুলে দিল এজ এর হাতে । সাফ ছুতোর করে এজ খাড়া করেছে তার কাজ গুলো । বেবুল ছাত্র জীবনে ভাল কাজ করত ।

আমি এখনো একক কোন প্রদর্শনী করিনি তবে ইচ্ছা আছে ।

৩| ২১ শে এপ্রিল, ২০২২ রাত ৮:৪২

সোবুজ বলেছেন: ছবি আর কবিতা দুটোই আমার কাছে জটিল লাগে।কবিতা তবু পড়া যায় ছবি পড়া কঠিন কাজ।ছবি সম্পর্কে কিছু পড়া শুনা না থাকলে বুঝা মুসকিল।সুধু এটুকু বলা যায় ছবি ভালো লাগলো কি লীগলো না।রিকশার পেছনের ছবি দেখতে ভালই লাগে।পিকাসোর ছবি অত ভালো লাগে না।আমরা হলাম চটকদার কমর্শিয়াল ছবির দর্শক।মাঝে মাঝে আর্ট কলেজের গ্যালারিতে ছবির প্রদর্শনী দেখতে যেতাম।

২১ শে এপ্রিল, ২০২২ রাত ৮:৪৭

শাহ আজিজ বলেছেন: দেখতে দেখতে অভ্যাস গড়ে ওঠে । কিছু শিল্প সমালোচনার বই আছে যা পড়লে কিছুটা আত্মস্থ করা যায় ।

৪| ২১ শে এপ্রিল, ২০২২ রাত ১১:০৭

শ্রাবণধারা বলেছেন: অনেকদিন পরে পেইন্টিং বিষয়ক এমন চমৎকার একটা লেখা পড়লাম । প্রথমে শুধু ছবিগুলো দেখে তেমন কিছুই বুঝতে পারিনি, কিন্তু আপনার লেখাটা পড়ার পর একটু হলেও বুঝলাম।

শিল্পীর জন্য বিনম্র শ্রদ্ধা।

২২ শে এপ্রিল, ২০২২ সকাল ১০:০১

শাহ আজিজ বলেছেন: শিল্পী বেবুল প্রয়াত , সবশেষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলার অধ্যাপক ছিলেন ।

বিমূর্ত ধারা নানাজন নানাভাবে বোঝেন । এখানে রঙ , বিবিধ আকার বা শেপ , কম্পোজিশন ভাল লাগে কিনা , মনে ধরে কিনা সেটাই আসল । তার পরেও এর পেছনে একটি গল্প থাকে যা ক্যাটালগে এবং ছবির টাইটেলে বিবৃত হয়েছে ।

৫| ২২ শে এপ্রিল, ২০২২ রাত ১২:৫৮

গরল বলেছেন: ছবিগুলো চমৎকার লেগেছে যদিও দুর্বোধ্য আমার কাছে। পেইন্টিং দেখতে আমার ভালো লাগে বুঝি আর না বুঝি। আপনার পেইন্টিং কখনও ব্লগে পোষ্ট করেন নাই কেন?

২২ শে এপ্রিল, ২০২২ সকাল ১০:০৩

শাহ আজিজ বলেছেন: আমি ভাস্কর । আমার ভাস্কর্যের ছবি ব্লগে ছাপা হয়েছে বেশ আগে ।

৬| ২২ শে এপ্রিল, ২০২২ রাত ২:২০

অধীতি বলেছেন: ছবিগুলো মনে ধরেছে। ওনার সম্পর্কে জানতাম না। ধন্যবাদ।

২২ শে এপ্রিল, ২০২২ সকাল ১০:০৩

শাহ আজিজ বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ ।

৭| ১৬ ই জুলাই, ২০২২ দুপুর ১২:৩৯

ঈশ্বরকণা বলেছেন: অনেক দিন পরে দেখলাম আপনার এই পোস্ট। ফারুক ভাইয়ের সাথে আমার অনেক স্মৃতি আছে । সে সব স্মৃতি মনে হয়ে খানিকটা অন্যমনাও হলাম ।

১৬ ই জুলাই, ২০২২ দুপুর ১২:৪৭

শাহ আজিজ বলেছেন: পিকিং থেকে ফিরে ফারুকের সাথে দুবার মাত্র দেখা হয়েছিল । কিডনি অসুখের সময় ফোনে খিস্তি খেঁউড় করে ওকে হাসিয়েছি । আমরা কিন্তু একই সাথে পিকিং গেছি , একই ফ্লাইটে । ওর প্রথম বিয়ের সাক্ষী আমি ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.