নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মাঝে মাঝে মনে হয় জীবনটা অন্যরকম হবার কথা ছিল!

মাঝে মাঝে মনে হয় জীবনটা অন্যরকম হবার কথা ছিল!

শেরজা তপন

অনেক সুখের গল্প হল-এবার কিছু কষ্টের কথা শুনি...

শেরজা তপন › বিস্তারিত পোস্টঃ

রবীন্দ্রনাথের শেষের দিনগুলি ও শেষযাত্রা

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ সকাল ১১:৪৭

গোটা জীবন কবি দেখেছেন ‘মৃত্যুর শোকাযাত্রা’,মৃত্যুলোক বারবার তাঁকে বিধ্বস্ত করতে চেয়েছে,কিন্তু তাকে পরাভূত করতে পারে নি। ১৯০০ সালের নভেম্বরে কলকাতা থেকে স্ত্রী মৃণালিনীকে লিখেছিলেন,‘বেঁচে থাকতে গেলেই মৃত্যু কতবার আমাদের দ্বারে এসে কত জায়গায় আঘাত করবে… মৃত্যুর চেয়ে নিশ্চিত ঘটনাতো নেই – শোকের বিপদের মুখে ঈশ্বরকে প্রত্যক্ষ বন্ধু জেনে যদি নির্ভর করতে না শেখো তাহলে তোমার শোকের অন্ত নেই।’
মাত্র ১৪ বছর বয়সে তাঁর মায়ের মৃত্যু হয়। বিয়ের দিন, তিনি নতুন বৌ নিয়ে জোড়াসাঁকোর বাসায় ঢুকছেন, সে-সময়ই স্বেচ্ছামৃত্যু ডেকে নেন ঠাকুরবাড়ির ঘরজামাই সারদাপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায়, সৌদামিনির স্বামী, যার উপরেই ছিলো জমিদারি দেখাশোনার ভার। কবির বিয়ের চার বছরের মধ্যেই আত্মঘাতী হলেন তাঁর ‘বৌঠান’ কাদম্বরী। রবীন্দ্রনাথের পর আরও এক ভাই জন্মেই মারা যান,দুই ভাই ছিলেন বদ্ধ উন্মাদ। কবির মাত্র আঠাশ বছর বয়স,মারা গেলেন কবিপত্নী মৃণালিনী দেবী। এরপর একে একে প্রিয়তম পুত্রের, কন্যার মৃত্যুযন্ত্রণা তাঁকে সহ্য করতে হয়েছে। এই আঘাত সইতে সইতে একমাত্র দৌহিত্র মীরা দেবীর পুত্রের নিষ্ঠুর শোককে কবি প্রত্যুত্তর দিয়েছেন তাঁর মতো করেই,‘যাবে যদি যাও,অশ্রু মুছে যাও।’
এই রবীন্দ্রনাথকেও শেষ সময়ে সহ্য করতে হল চূড়ান্ত অসহনীয় যন্ত্রণা, তাঁর যাবতীয় ইচ্ছাকে, আবাদনকে পায়ের তলায় দুমড়ে-মুচড়ে কবির মৃতদেহকে দুষ্কৃতিদের মতো ছিনিয়ে নিয়ে চিতায় তোলা হল, সেদিনের সেই দৃশ্য ভাবলে আজও গ্লানিতে মাথা নিচু হয়ে যায়। এমনকী জেনে স্তম্ভিত হতে হয়, তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন যে শয্যাটিতে, সেটি এবং তাঁর চিতাভস্মসহ কলসটিও বেমালুম বেপাত্তা হয়ে গেল!
কবির অসুস্থতা
বীন্দ্রনাথ পরিণত বয়সে মূত্রাশয়ের অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। ‘প্রস্টেট’-এর সমস্যাই শেষ পর্যন্ত আমাদের কাছ থেকে তাঁর চিরবিদায়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই চলে যাওয়াকে স্বাভাবিক বলে মেনে নিতে চান না অনেকেই। রূপে রসে সৃষ্টিকর্মে আশি বছরের পরিপূর্ণ জীবন তাঁর। কিন্তু জরা তাঁকে সম্পূর্ণ গ্রাস করতে পারেনি। জ্ঞান হারাবার আগে পর্যন্ত মন ছিলো ক্রিয়াশীল। এমন অনিন্দ্যসুন্দর দেহকান্তি, প্রশান্ত মুখমণ্ডল, পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে ঠোঁটের ও চোখের কোণে চরম বিরক্তি ও যন্ত্রণা নিয়ে।
তাঁর শেষের দিনগুলো কেমন ছিলো?
রবীন্দ্রনাথ প্রস্টেট সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হন ১৯৪০-এ কালিম্পং থাকার সময়। এর তিন বছর আগে ১৯৩৭ সালে কবিগুরু অসুস্থ হয়েছিলেন, ১০ সেপ্টেম্বর সেই প্রস্টেট গ্ল্যান্ডের সমস্যা মাথাচারা দিয়েছিলো। কিছুটা সুস্থ হয়ে কবি আবার শান্তিনিকেতনে ফিরে এলেন। বিশ্বভারতীর বিপুল কর্মযজ্ঞ, লেখলেখির পাশাপাশি ‘চণ্ডালিকা’ নৃত্যনাট্যের রূপায়ণ, দোলপূর্ণিমায় বসন্ত উৎসব অনুষ্ঠানের পর ‘চণ্ডালিকা’র দল কলকাতা গেল; ডাক্তারের নিষেধে কবির যাওয়া বন্ধ। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে তিনি একজন সঙ্গী নিয়ে কলকাতা চলে গেলেন। ‘ছায়া’ প্রেক্ষাগৃহে হাজির হয়ে দেখলেন ‘চণ্ডালিকা’র নতুন রূপসৃষ্টি। তারপর গ্রীষ্মে কালিম্পং। গেলেন মৈত্রেয়ী দেবীর আমন্ত্রণে মংপুতে। দুমাস থাকলেন। ১৯৩৯ সালে পুরী গেলেন, সঙ্গী এন্ডরুজ।
কবি এসময় শারীরিক দিক দিয়ে ক্রমশ দুর্বল হয়ে উঠছিলেন। দীর্ঘদেহী সুপুরুষ কবি খুঁড়িয়ে চলছিলেন, হাঁটতে তাঁর কষ্ট হচ্ছিলো, ঠেলা গাড়ি বা হুইল চেয়ার নিয়ে চলাফেরায় বাধ্য হচ্ছিলেন। চোখের দৃষ্টিও কমে আসছিলো, কিছুদিন আগে থেকেই কানে কম শুনছিলেন। শান্তিনিকেতনে আর মন টিকছিলো না কবির, কলকাতায় এলেন, কিন্তু চলাফেরার সাবধানতা মানতে চাইলেন না। প্রতিমা দেবী তখন কালিম্পংয়ে। কবি সেখানে যেতে চাইলেন, বিশ্রাম ও পরিবর্তনের জন্য। তখন থেকেই বেশ দুর্বল। কবির স্বাস্থ্যোদ্ধারের জন্য রাজগির বা কালিম্পংয়ে, কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা চলছিলো, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কবির আগ্রহ জয়ী হয়, হিমালয়ের কোলে, এই কালিম্পঙেই আসা ঠিক হয়। যাত্রার আগে অমিয় চক্রবর্তীকে লিখলেন, ‘কিছুদিন থেকে আমার শরীর ক্রমশ ভেঙে পড়ছে, দিনগুলো বহন করা যেন অসাধ্য বোধ হয়। তবু কাজ করতে হয়… তাতে এত অরুচিবোধ যে, আর বলতে পারি নে। ভারতবর্ষে এমন জায়গা নেই যেখানে পালিয়ে থাকা যায়।… বিধান রায় কালিম্পং যেতে নিষেধ করেছিলেন। মন বিশ্রামের জন্য এমন ব্যাকুল হয়েছে যে তাঁর নিষেধ মানা সম্ভব হয় না। চললাম আজ কালিম্পং।’ উল্লেখ করা প্রয়োজন যে ১৮৯৪ ও ১৮৯৬, দু’দুবার ত্রিপুরার রাজা বীরচন্দ্রের সঙ্গে কার্শিয়াং এসেছিলেন কবি। কবির উদ্যোগেই এখানে কোচবিহারের মহারাজা নৃপেন্দ্রনারায়ণের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিলো।
তাঁর কালিম্পং যাত্রার আগে প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশ তাঁর সঙ্গে দেখা করেন, রাণী মহালানবীশকে চিঠিতে লেখেন – ‘জোড়াসাঁকো গিয়ে দেখি কবি লালবাড়ির দক্ষিণের বারান্দায় গম্ভীর মুখে বসে আছেন।… আমাকে বললেন, ‘প্রশান্ত, পাহাড়ে তো যাচ্ছি, কিন্তু কেন জানি না আমার ক্রমাগত মনে হচ্ছে এই যাওয়াটা আমার শুভ হবে না, একটা বিপদ ঘটবে।’ কবি যেন সবটাই আগাম টের পেতেন, এক্ষত্রেও অন্যথা হলো না। কালিম্পং পৌঁছেই কবি রানী চন্দকে লিখলেন : “জীবনের রণক্ষেত্র থেকে ভগ্নদূত এবার বেরিয়ে চলে এসেছি ধ্বজ পতাকা সমস্ত ফেলে দিয়ে। চাকাভাঙা রথে বসে আছি চলৎশক্তিহীন হয়ে।… লেখা প্রায় আমার বন্ধ; চলাফেরা তথৈবচ। অসুস্থদেহী বৌমার ঘাড়ে আমার স্বাস্থ্যের দায় চাপিয়ে বসে আছি – তাঁর সঙ্গিনী আছেন সেই ইংরেজ মেয়েটি।’ প্রতিমাদেবী রবীন্দ্রনাথের শেষজীবনের অভিভাবিকা, যাকে সবচেয়ে বেশি ভরসা করতেন কবি। পুত্র রথীন্দ্রনাথের বৌ।
২৭শে সেপ্টেম্বর ১৯৪০, কালিম্পঙেই কবি আবার আসুস্থ হন। প্রতিমা দেবীর বয়ানে ঘটনাটি যেমন জানা যায়, ‘রবীন্দ্রনাথ জ্বরে বেহুঁশ,… ডা. শরৎচন্দ্র বসাকের বাড়ি থেকে টেলিফোনে খবরটি কলকাতায় পাঠানোর চেষ্টা চলছে,টেলিফোনের কি ভাগ্যি সহজেই প্রশান্তচন্দ্রকে কলেজে পেয়ে গেলাম। তাঁকে প্রথমেই বললাম, কোনো প্রশ্ন করে সময় নষ্ট করো না। আগে শুনে নাও কি খবর , কারণ তিন মিনিট সময় এখনই ফুরিয়ে যাবে। বাবামশাই খুব অসুস্থ,অজ্ঞান হয়ে গেছেন,আজই ডাক্তার নিয়ে কলকাতা থেকে রওনা হওয়া দরকার।… যা ব্যবস্থা করবার সব তুমি করো এখনই, নাইলে বাবামশাইকে বাঁচানো যাবে না।’ সেদিন রাতের দার্জিলিং মেলে ডাক্তার সত্যসখা মৈত্র, ডা. স্যার নীলরতন সরকারের ভ্রাতুষ্পুত্র ডা. জ্যোতিপ্রকাশ সরকার ও ডা. অমিয়নাথ বসুকে সঙ্গে করে প্রশান্তচন্দ্র মহালানবিশ রওনা দেন। ঐদিনই সবাই মিলে তৎক্ষণাৎ কবিকে শান্তিনিকেতন নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যদিও এর মধ্যেই আর একটি খুব গুরুত্বপুর্ণ ঘটনা ঘটে যায়। কালিম্পঙে দার্জিলিং থেকে এক ইংরেজ সিভিল সার্জন ডাক্তার কবিকে দেখতে আসেন, ২৭ সেপ্টেম্বর। তিনি প্রতিমা দেবীকে বলেন, ‘Young Lady, do you know the risk you are taking, he may not last twelve hours।’
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
মৈত্রেয়ী দেবীর প্রথম যে বইটি তার জন্য স্থায়ী আসনের ব্যবস্থা করে দেয় বাংলা সাহিত্যের আসরে ,তার নাম ‘মংপুতে রবীন্দ্রনাথ। দার্জিলিং জেলার এই মংপু অঞ্চলে ছিল সিঙ্কোনার চাষ এবং সিঙ্কোনা গবেষণা কেন্দ্র। সেখানে তার স্বামী রসায়নবিদ ডঃ মনমোহন সেন ছিলেন গবেষণা কর্মে নিযুক্ত । স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে গিয়ে মৈত্রেয়ী দেবী সেই পার্বত্য অঞ্চলে বড় নিঃসঙ্গ বোধ করতেন । দর্শন - সাহিত্য - মুখর সেই পিতৃগৃহের অভাব খুব বড় করে বাজত ,তা ছাড়া কলকাতার একটি কন্যা ঐরকম দু - চার ঘর মানুষের মাঝখানে যে নির্বাসিত বোধ করবে এতো স্বাভাবিক!
যদিও মংপু ছিল অত্যন্ত দুর্গম এবং মনে মনে চিরনবীন হলেও রবীন্দ্রনাথ তখন সত্তর – উত্তীর্ণ। তবু তিনি চারবার মংপুতে মৈত্রেয়ী দেবীর আতিথ্য গ্রহণ করেছিলেন । তার সঙ্গে সঙ্গে আরো বহু গুণীজনের সমাগম হতাে সেখানে । সেই সময়ে রবীন্দ্রনাথের কথাবার্তা আলাপ - আলোচনা যথাসম্ভব লিপিবদ্ধ করে রাখতেন মৈত্রেয়ী দেবী । সে তো টেপ - রেকর্ডারের যুগ নয় , ধরে রাখতে হতো মনে আর কলমে — আবার সামনে বসেও তো লিখে নেওয়া চলত না । কৃপণের ধনের মতন করে প্রতিদিনের কথাগুলি তিনি সঞ্চয় করে রাখছিলেন, রবীন্দ্রনাথ চলে এলে সেই কথাগুলো নিয়ে নাড়াচাড়া করেও অনেকটা সময় কাটানো যাবে এই আশায় । কিছুকাল পরে রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর অল্পদিনের মধ্যেই তার একটা বড় অংশ তিনি প্রকাশ করেছিলেন ‘মংপুতে রবীন্দ্রনাথ ' বইটিতে । রাজশেখর বসুর মতন উন্নাসিক মানুষ থেকে শুরু করে অতি সাধারণ পাঠকেরও কৃতজ্ঞতা অর্জন করেছেন তিনি এই বই লিখে । রবীন্দ্রনাথের এমন সরস প্রাণবন্ত স্মৃতিচারণা আর বিশেষ নেই ।-গোরী আইয়ুব
মৈত্রেয়ী দেবীর বয়ানে গোটা ঘটনাটা জানা যায়। ‘রোগশয্যার পাশে নির্নিমেষ তাকিয়ে বসে আছি, রুগীর দেহে কোনো সারা নেই, – নিঃশ্বাস ধীরে ধীরে পড়ছে, মাঝে মাঝে পা একটু নড়ছে, চোখ বন্ধ, – বাহিরের বিশ্বপ্রকৃতিতে যেন বিসর্জনের বাজনা বাজছে। প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ের শোঁ শোঁ শব্দে আকাশে বাতাসে গাছের মাতামাতিতে চলছে তাণ্ডব। ভিতরের আবছা অন্ধকারে মৃত্যুময় স্তব্ধতা, শুধু ঘড়ি বাজছে টিক টিক টিক। এক একটি মুহূর্তে আছে অনন্তের অনুভূতি, সীমাহীন সময় তার সমস্ত পরিমাপের গণ্ডি লুপ্ত করে মনকে নিয়ে গেছে কুলহারা সমুদ্রে। এ ঝড় যে থামবে, এ রাত্রি যে শেষ হবে, সুপ্রভাতের প্রসন্নতায় আবার যে কখনো পাওয়া যাবে জীবনের আনন্দবাণী সে আশ্বাস কোথাও নেই। ছিন্নপাল তরণীর মতো আমাদের বিভ্রান্ত মন নানা চিন্তায় ঘুরপাক খাচ্ছে, তাকিয়ে আছি বন্ধ জানালার কাচের বিতর দিয়ে অবিশ্রান্ত বর্ষণের দিকে।’ (বাইশে শ্রাবণ/ রাণী মহানলবিশ)
সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ ডাক্তার এলেন। রবীন্দ্রনাথকে পরীক্ষা করলেন, ‘আশি বছরের পুরাতন দেহে চামড়া কোথাও এতটুকু কুঞ্চিত নয়,… মসৃণ সুন্দর পেলব অথচ দৃঢ় সেই শালপ্রাংশু বয়স্ক দেহের দিকে তাকিয়ে বিস্ময়পূর্ণ একটু হেসে সিভিল সার্জন বললেন, what a wonderful body। রবীন্দ্রনাথ প্রায় অচৈতন্য দেখে তিনি নির্দেশ দিলেন অবিলম্বে হাসপাতালে নিয়ে যেতে। কিন্তু তা সম্ভব নয় দেখে প্রতিমা দেবীকে উল্লিখিত কথাগুলি বলেন। কিন্তু আমাদের ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৌভাগ্য যে প্রতিমাদেবী এই অপারেশনে তখন রাজী হননি। তিনি জানতেন কবির অপারেশন ভীষণ অপছন্দের। পরদিন ডা. সত্যসখা দেখে বললেন যে অপারেশন না করতে দিয়ে খুব ভালো হয়েছে। তিনি গ্লুকোজ ইঞ্জাকসান দিলেন এবং একটু পরে অনেকখানি ইউরিন বের হয়ে গেলো। সেই অসুস্থ অবস্থায় প্রতিমা দেবী একা যে সিদ্ধান্ত নিয়ে কবিকে রক্ষা করেছিলেন এর এক বছরের মাথায় কলকাতা, শান্তিনিকেতনের কেউ তেমন দৃঢ় সিদ্ধান্তে আসতে পারলেন না। ফলে. হয়ত ত্বরান্বিত হল কবির শেষযাত্রা।
কালিম্পং থেকে কবিকে কলকাতায় আনা হয়, প্রায় অচৈতন্য অবস্থা তাঁর। অসুস্থ রবীন্দ্রনাথকে কালিম্পং থেকে বেশ কশরত করে কলকাতা আনা হয়, সঙ্গে ছিলেন কলকাতা থেকে যাওয়া ডাক্তার ও স্বজনেরা। একটা স্টেশন ওয়াগনের সিট খুলে ফেলে বিছানা পাতা হয় কবির জন্য। ড্রাইভারের পাশে পালা করে প্রশান্ত মহলানবিশ ও সুরেন কর বসেছিলেন। ভেতরে ছিলেন মৈত্রেয়ী দেবী। ‘মাঝে মাঝে জল খাওয়াতে খাওয়াতে ও অর্ধ-অচৈতন্য দীর্ঘ শরীরকে সেই পাহাড়ের পথে ঝাঁকুনি থেকে বাঁচিয়ে রক্ষা করবার চেষ্টা করতে করতে সে তিন ঘণ্টা খুব কাজেই কাটলো। দীর্ঘ দুর্গম পথ, কিন্তু একজন সহায় থাকতে আগের ক’দিনের মতো ভয় শঙ্কা কিছু ছিলো না, শুধু সেই পরমপ্রিয় আরাধ্য নরোত্তমের সেবার দুর্লভ সৌভাগ্য মনকে স্নিগ্ধ করে রেখেছিলো। পথে মাঝে মাঝে আমাদের বাগানের মজুরের দল দেখা গেল, একহাঁটু জল-কাদায় ডাক্তার সেন তাদের দিয়ে রাস্তা ঠিক করাচ্ছেন। গাড়ি একটু একটু করে সাবধানে অগ্রসর হচ্ছে, তিনি এসে গাড়ির পাশে দাঁড়ালেন। আমাদের তখন মনে হচ্ছিল কবির হয়ত একেবারেই চেতনা নেই। কিন্তু তা ঠিক নয়, – পরে জোড়াসাঁকোয় আমায় একবার জিজ্ঞাসা করলেন, – দেখো, ডাক্তার তো কালিম্পং আসেনি, কিন্তু নামবার সময় একবার তাকে দেখলুম, সে কি স্বপ্ন?’
এই কোমা ও বিষক্রিয়ার তন্দ্রা ভারি অদ্ভূত – বেশ লক্ষ করে দেখেছি বাইরে যখন চেতনার লক্ষণ নেই ভিতরে তখন যথেষ্ট জ্ঞান রয়েছে।
রাত্রি ন’টা নাগাদ আমাদের পাঁচ ছ’খানা গাড়ির ক্যারাভান শিলিগুড়ি পৌঁছল।এই সময় রবীন্দ্রনাথকে শিলিগুড়ি রেলস্টেশন থেকে কলকাতাগামী ট্রেনে তোলা হয়। এটাই ছিলো উত্তর বাংলায় কবির শেষ বিদায়। এই বিদায়ের ক্ষণে ‘শিলিগুড়ি স্টেশন লোকে লোকারণ্য।’
মৈত্রেয়ই দেবী আরও লিখেছেন,‘দুই কি তিনটে কামরা রিজার্ভ করা হল। একটা কামরায় ডা. অমিয় বোস, ডা. জ্যোতিপ্রকাশ সরকার,শ্রী সুরেন্দ্রনাথ কর ও আমি রোগীর পরিচর্যায় রইলুম। অন্য কামরায় আর সকলে চলে গেলেন। শ্রীযুক্ত প্রশান্ত মহলানবীশ আমাদের কামরায় ছিলেন না কিন্তু প্রায় প্রতি স্টেশনেই তাঁকে নেমে আসতে দেখেছিলুম। কারণ,খবর ছড়িয়ে পড়েছিলো,স্টেশনে গাড়ি আসলেই লোকের ভিড় উৎকণ্ঠিত হয়ে কুশল প্রশ্ন করছিল,রেলিঙের উপর চড়ে চড়ে ঘরের ভিতর দেখবার চেষ্টাও করছিল।
গভীর রাত পর্যন্তও স্টেশনে স্টেশনে এই স্নেহব্যাকুল জনতার উচ্ছ্বাস থামেনি। প্রশান্তবাবু ভয় পাচ্ছিলেন পাছে কোনো গোলমাল হয়। তাই হাত জোড় করে অনুনয় করে করে ভিড় সরাবার চেষ্টা করছিলেন। আমি জানালায় বসে বসে সে দৃশ্য দেখে নিজের অসীম সৌভাগ্যে লজ্জা বোধ করছিলুম। আমার চেয়ে যোগ্যতর ভক্ত,আমার চেয়ে অধিক উৎকণ্ঠিত,অধিক আগ্রহশীল আরো অনেকেই নিশ্চয়ই ওই ভীড়ের মিধ্যে ছিলেন,যারা এ নিশিথ রাত্রে উড়োখবর পেয়ে ভিড় ঠেলাঠেলি করে দাঁড়িয়ে আছেন,কখন এপথ দিয়ে ট্রেন যাবে,কখন একটুখানি দেখতে পাবেন সেই আশায়,– তাঁরা এ ঘরে ঢুকতে পাবেন না। তাঁদের ও পরম আত্মীয়ের চিরবিদায়ের মুহূর্তে স্নেহস্পর্শটুকু পাবার, মনের আর্তিটুকু পৌঁছে দেবার উপায় নেই।’
একমাস শয্যাশায়ী থাকার পর ১৮ নভেম্বর রবীন্দ্রনাথকে শান্তিনিকেতন আনা হয়। শরীর অশক্ত,কিন্তু সৃষ্টির কাজে বিরাম নেই। কিছুদিনের মধ্যেই তাঁকে ত্রিপুরার রাজদরবার থেকে এসে ‘ভারতভাষ্কর’ উপাধি প্রদান করা হয়।
তখন ‘যোগাযোগ’-এর ২য় পর্ব লেখার কথা ভাবছেন কবি,এছাড়াও অনেক লেখার ভাবনা কবির মাথায় ছিলো, কিন্তু সেগুলো আর বাস্তবে রূপ পেলো না! কবি ক্রমশ আরো অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন। বুদ্ধদেব বসু লিখেছেন, ‘চলে আসার দিন রবীন্দ্রনাথকে দেখলুম রোগশয্যায়। ভাবিনি এমন দৃশ্য দেখতে হবে। বাইরে বিকালের উজ্জ্বলতা থেকে হঠাৎ তাঁর ঘরে ঢুকে চমকে গেলুম। অন্ধকার; এক কোণে টেবল-ল্যাম্প জ্বলছে। মস্ত ইজিচেয়ারে অনেকগুলো বালিশ হেলান দিয়ে কবি চোখ বুঁজে চুপ। ঘরে আছেন ডাক্তার, আছেন সুধাকান্তবাবু। আমরা যেতে একটু চোখ মেললেন, অতি ক্ষীণস্বরে দু-একটি কথা বললেন, তাঁর দক্ষিণ কর আমাদের মাথার উপর ঈষৎ উত্তোলিত হয়েই নেমে গেলো। বলতে পারবো না তখন আমার কী মনে হলো, কেমন লাগলো। হঠাৎ আঘাত লাগলো হৃৎযন্ত্রে, গলা আটকে এলো, কেমন একটা বিহ্বলতায় তাঁর দিকে ভালো করে তাকাতেও যেন পারলুম না। বাইরে এসে নিঃশ্বাস পড়লো সহজে। আমর কবি এই উজ্জ্বল আলোর চির সঙ্গী , রুদ্ধ ঘরে বন্দী হয়ে আছে ভঙ্গুর মৃৎপাত্র।’
ক্রমশ গুরুতর অসুস্থ কবির চিকিৎসা নিয়ে দ্বিমত দেখা দিচ্ছলো। এক পক্ষ অশতিপর কবির জন্য কবিরাজি চিকিৎসার পক্ষে ছিলেন,অন্যদিকে ডা. বিধানচন্দ্র রায় প্রমুখ বলছিলেন অপারেশানের মাধ্যমে নিরাময় ছাড়া অন্য পথ নেই। কবি নিজে কবিরাজির পক্ষে ছিলেন। ড. নীলরতন সরকারও অপারেশনের বিপক্ষে ছিলেন। তাঁর অভিমত ছিল, কবি এই বয়সে অপারেশনের ধকল সহ্য করতে পারবেন না। শান্তিনিকেতনে কবির কবিরাজি চিকিৎসা চলছিলো, করছিলেন শ্যামাদাশ বাচস্পতির ছেলে বিমলানন্দ কবিরাজ। কবির দেহ এই চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছিলো ধীরে ধীরে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অপারেশানের সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত হলো। ২৫শে জুলাই কবিকে কলকাতা নিয়ে যাওয়া হবে। শান্তিনিকেতন থেকে রবীন্দ্রনাথকে জোড়াসাঁকোয় নিয়ে আসার তোড়জোড় শুরু হয়।
কবিকে বাসে করে বোলপুর নিয়ে যাওয়া হয়, তার পেছনে রথীবাবুর গাড়িতে ছিলেন রানী ও মীরা। রবীন্দ্রনাথকে স্টেচারে শুইয়ে নেওয়া হয়েছিলো, সঙ্গে ছিলেন ডা. জ্যোতি সরকার ও নাতনি নন্দিতা (বুড়ি)। বোলপুর স্টেশনে পৌঁছে কবিকে সেলুনে তোলা হল। সঙ্গে ছিলেন কবিরাজ মশাই, তাঁর নির্দেশে চিড়ের মণ্ড তৈরি করে আনা হয়েছিলো কবির খাদ্য হিসাবে। মাঝে মাঝে তাই তাঁকে খাওয়ানো হচ্ছিল। তাঁর অসুস্থতাজনিত ক্লান্তি বোঝা যাচ্ছিল। তবুও কৌতুকবোধ হারাননি তিনি। বর্ধমান এলে ‘কেমন আছেন?’ জিজ্ঞাসার উত্তরে মজা করে বলেন, ‘না, বেশ আছি, দিব্যি মুণ্ডু খেতে খেতে চলেছি।’ হাওড়া স্টেশনে নিউ থিয়েটার্স-এর বাস তাঁর জন্য হাজির ছিলো। দেবকী বসু এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
পরদিন, ২৬ জুলাই, কবি গুরুতর অসুস্থ হলেন, জ্বর এলো ধুম। এর মধ্যেই লিখলেন, ‘প্রথম দিনের সূর্য / প্রশ্ন করেছিল / সত্তার নূতন আবির্ভাব – কে তুমি? / মেলে নি উত্তর।’ ২৯ জুলাই বিকেলে কবি রচনা করলেন – ‘দুঃখের আঁধার রাত্রি বারে বারে / এসেছে আমার দ্বারে; … ভয়ের বিচিত্র চলচ্ছবি – / মৃত্যুর নিপুণ শিল্প বিকীর্ণ আধারে’।’ এ কোন রবীন্দ্রনাথ? গোটা জীবন যিনি পরাজয়কে জয় করার মন্ত্র উচ্চারণ করেছেন, সঞ্চারিত করেছেন, তিনি আজ ‘অনর্থ পরাজয়’-এর কথা বলছেন!
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
শেষ বিদায়-বিশ্বকবির চুড়ান্ত অপমান ও ভয়ঙ্কর বিশৃঙ্খলা
৩০ জুলাই, অপারেশানের দিন ঠিক হয়। চিকিৎসকেরা ঠিক করেছেন কবিকে অজ্ঞান করা হবে না। ‘লোক্যাল এনেস্থেশিয়া’ দেয়া হবে। জোড়াসাঁকোর বাড়ির পূর্বদিকের বারান্দায় অপারেশান করা হবে। তাই সাদা কাপড়ে জায়গাটা ঘিরে দেওয়া হয়েছে। সকাল সাড়ে ন’টায় রাণিকে কবি তিনটে কবিতার লাইন বললেন – ‘অনায়াসে যে পেরেছে ছলনা সহিতে / সে পায় তোমার হাতে / শান্তির অক্ষয় অধিকার।’ কবিতাটি সকালে লেখা ‘তোমার সৃষ্টির পথ’ কবিতার সঙ্গে জুড়ে দিতে বললেন।
এগারোটার সময় স্ট্রেচারে করে বাইরে এনে টেবিলে শুইয়ে দেওয়া হল। ললিতমোহনের সঙ্গে ছিলেন ডা. অমিয় সেন ও সত্যসখাবাবু। অজ্ঞান করার গ্যাস তৈরি থাকলেও তা ব্যবহার করা হয়নি। প্রস্টেট কাটা নয়, তলপেটে একটা ফুটো করে ইউরিন বেড় করে দেওয়ার রাস্তা করে দেওয়া। চিকিৎসার পরিভাষায় ‘সুপ্রা পিউবিক সিস্তোস্কোপি’। কবি সমস্তটাই টের পান, সহ্য করেন যন্ত্রণাকে। অপারেশানের পর ১২টা নাগাদ তাঁকে বিছানায় আনা হয়। ১ আগস্ট থেকে আরো অবনতি, প্রবল হিক্কা উঠতে থাকল। ৩ আগস্ট থেকে কিডনিটাও ঠিকঠাক কাজ বন্ধ করে দিলো।
সন্ধ্যায় শান্তিনিকেতন থেকে প্রতিমা দেবী এলেন,সঙ্গে কৃষ্ণ কৃপালিনি ও বাসন্তী। ৫ আগস্ট প্রায় কোমায় চলে গেলেন কবি। ডেকে আনা হলো ড. নীলরতন সরকার ও ডা. বিধানচন্দ্র রায়কে। ৬ তারিখ শেষ আশা হিসাবে কবিরাজ বিমলানন্দকে ডাকার কথা বললেন মীরা দেবী কিন্তু রুগী তখন তাঁর হাতের বাইরে, তবুও বললেন এমবি ৬৯৩ ওষুধটি বন্ধ করলে শেষ চেষ্টা করতে পারেন,কিন্তু বিধান রায় তাতে রাজী হলেন না।
রদিন রাখী পূর্ণিমা,অন্যদিকে কবির মহাপ্রস্থানের প্রস্তুতি চলছে। চিনা ভবনের অধ্যক্ষ এম্বারের জপমালা হাতে তাঁর মাথার সামনে ইষ্টনাম জপছেন। রামানন্দবাবু খাটের পাশে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করছেন। পণ্ডিত বিধুশেখর শাস্ত্রী ‘পিতা নোহাসি’ মন্ত্র পাঠ করছেন। শেষ রাত থেকে ব্রহ্মসঙ্গীত গাওয়া হচ্ছে।
ওদিকে আকাশবাণী থেকে কবির এই মৃত্যু পথযাত্রার খবর প্রচারিত হওয়ায় তাঁকে শেষ দেখার জন্য অজস্র মানুষ ছুটে আসতে শুরু করেছে। জমা হওয়া ওই ভিড় দোতলায় উঠবার জন্য উন্মাদ হয়ে ওঠে। ভেঙে পড়ে সমস্ত শৃঙ্খলা। জনতার চাপে কিছুক্ষণের মধ্যেই কোলাপসিবল গেট ভেঙে পড়লো। কেঊ কেউ জল নিকাশি পাইপ বেয়েও উঠতে লাগলো। স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে থকা শ্যামাপ্রসাদসহ প্রত্যেকে তখন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে অসহায় ভাবে দেখছেন।
১২টা নাগাদ কবির ডান হাতটা একটু উঠেই নেমে এল, একটা তীব্র আর্তস্বর ভেসে এলো ঘর থেকে, ‘গুরুদেব আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন।’ তাঁকে যে ঘরে রাখা হয়েছিলো তার দুটো দড়জাই বন্ধ করে দেওয়া হলো।
কবির প্রাণহীন দেহটাকে শেষযাত্রার জন্য তৈরি করা হচ্ছে, তখনো উচ্ছৃঙ্খল জনতার বাঁধভাঙা চাপ আছড়ে পড়ছিলো সেই ঘরের দিকে। একদল জনতা টান মেরে দরজার ছিটকানি খুলে ফেললো। তখন নিরাভরণ, প্রাণহীন দেহটিকে স্নান করানো হচ্ছিলো। কবির শবদেহও কৌতূহলী মানুষের এই অপমান থেকে নিস্তার পেলো না। রাণী মহালানবিশের বয়ানে, ‘যে মানুষের মন এত স্পর্শকাতর ছিল, যে মানুষ বাইরের লোকের সামনে নিজের ব্যক্তিগত প্রয়োজনের কথা কখনও প্রকাশ করতে পারতেন না, সেই মানুষটার আত্মাহীন দেহখানা অসহায়ভাবে জনতার কৌতূহলী দৃষ্টির সামনে পড়ে রইল।’ কবির শেষ ইচ্ছা ছিলো, ‘তুমি যদি আমার সত্যি বন্ধু হও, তাহলে দেখো আমায় যেনো কলকাতার উন্মত্ত কোলাহলের মধ্যে ‘জয় বিশ্বকবি’, ‘জয় রবীন্দ্রনাথের জয়’, ‘বন্দেমাতরম’ এরকম ধ্বনির মধ্যে সমাপ্তি না ঘটে। আমি যেতে চাই শান্তিনিকেতনের উদার মাঠের মধ্যে উন্মুক্ত আকাশের তলায়, আমার ছেলেবেলার মাঝখানে।’ সেখানে জয়ধনি থাকবে না, উন্মত্ততা থাকবে না। থাকবে শান্ত স্তব্ধ প্রকৃতির সমাবেশ। কলকাতার উন্মত্ত কোলাহল, জয়ধ্বনির কথা মনে করলে আমার মরতে ইচ্ছা করে না।’ এই কারণেই হয়তো শেষজীবনে পাহাড়ের নীরব শান্তির কাছে আসতে চেয়েছিলেন, থাকতে চেয়েছিলেন শান্তিনিকেতনে। কিন্তু কবির অন্তিম ইচ্ছাগুলোকে সম্মান জানানোর কেউ ছিলেন না। বেলা ৩টা নাগাদ একদল লোক ঘরের মধ্যে ঢুকে ঠাকুরবাড়ির স্বজনদের চোখের সামনে দিয়েই কবির মরদেহ কাধে তুলে নিয়ে চলে গেলো, জয়ধ্বনি দিতে দিতে। অনিয়ন্ত্রিত সেই জনতার কাঁধে কবির দেহ, কেওড়াতলা নয়, চললো নিমতলার ঘাটে, যখন ঘাটে দেহ পৌঁছালো তখন আমাদের প্রাণের ঠাকুরের মুখমণ্ডল বিকৃত, চুল দাড়ি ছিঁড়ে নিয়েছে উন্মত্ত জনতার কেউ কেউ। সুন্দর ও শান্তির সাধকের চিরবিদায় নিতে হলো অসুন্দরের হাতে, উচ্ছৃঙ্খল জনতার মাঝে। যে ঈশ্বরপ্রতিম মানুষটি চিরকাল শান্তির মন্ত্র উচ্চারণ করে গিয়েছেন। যার নিজের ভাষ্য ছিলো, ‘চিরকাল জপ করেছি শান্তম। এখান থেকে বিদায় নেবার আগে যেন সেই শান্তম মন্ত্রই সার্থক হয়। কলকাতার উন্মত্ত কোলাহল, জয়ধ্বনির কথা মনে করলে আমার মরতে ইচ্ছে করে না।’ সেই কবিকে এক অশান্ত জনতার হাতে শেষ বিদায় নিতে হলো।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
* কবির সেই মত্যুর সময়কালের ঘটনা আমার প্রত্যক্ষদর্শন কোনভাবেই সম্ভব নয়- এর ব্যাখ্যা নিষ্প্রয়োজন! লেখার পুরো অংশটুকু প্রত্যক্ষদর্শীদের লিখিত বয়ান থেকে নেয়া। এখানে এই সকল তথ্যের সত্য মিথ্যা যাচাই করা আমার কম্মো নয়। লেখার কিছু অংশ অন্য সু্ত্র থেকে নেয়া কিছু অংশ আমার সাজানো ও সংযোজন করা। তথ্যগত সামান্য ভুলত্রুটি মার্জনীয়।- শেরজা তপন

মন্তব্য ৪৬ টি রেটিং +১১/-০

মন্তব্য (৪৬) মন্তব্য লিখুন

১| ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ১২:১৮

রাজীব নুর বলেছেন: জনাব, সুন্দর ও সত্য লিখেছেন।
আজকাল অনেককেই দেখছি সত্যের সাথে মিথ্যা মিশিয়ে দেয়।

রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে লেখা আমার একটা বই আছে। তা কি জানেন?

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ২:৫৬

শেরজা তপন বলেছেন: কষ্ট করে এতবড় একটা লেখা পড়ে সুন্দর একটা মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
ভাল লাগল জেনে ।

তাই নাকি!! না ভাই আমি জানি না- রকমারিতে আছে? পড়ার ইচ্ছে রইল

২| ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ১:০৭

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন: পোস্টে +
বিশাল বড় লেখা মাঝের সবটা পড়া হলোনা যদিও।
রবীন্দ্রনাথের জীবনী পড়া হয়নি পুরটা। সত্যি বলতে কারো জীবনীই সেইভাবে পড়িনি আমি।

‘প্রস্টেট’-এর সমস্যাই শেষ পর্যন্ত আমাদের কাছ থেকে তাঁর চিরবিদায়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বয়সও হয়েছিলো যথেষ্ট।

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ২:৫৯

শেরজা তপন বলেছেন: হ্যা বয়সতো হয়েছিল বেশ- তবুও বয়সের তুলনায় তিনি বেশ শক্ত সামর্থ ছিলেন। প্রস্টেট-এর এই সমস্যাটাই তাকে বেশ
ভুগিয়েছে- দ্রুত কাহিল করে ফেলেছিল।
পুরোটা না পড়তে পারার কারন বেশ বড় লেখা - নিশ্চিতভাবে সেটা সত্যি। সত্য কথনের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।
ভাল থাকুন- সুস্থ্য থাকুন। ভালবেসে পছন্দে টোকা দেবার জন্য ভালবাসা রইল।

৩| ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ১:৫১

মোঃমোস্তাফিজুর রহমান তমাল বলেছেন: তাঁর মতো এতবড় মানুষের মৃত্যুতে কলকাতা ভেঙে পড়বে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু জনতার শিষ্টাচার বহির্ভূত কর্ম নিন্দনীয়। কবির শেষ ইচ্ছার প্রতি সম্মান দেখানো উচিৎ ছিলো। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর জন্য প্রোস্টেট গ্রন্থির সংক্রমণ দায়ী এটা স্বীকৃত ও প্রমাণিত সত্য। তবুও কিছু বিদগ্ধ!! লোক একে সিফিলিস বলে অপপ্রচার চালায়। জনতার এই উন্মত্ততার একটু আভাস পাও্য়া যায় সত্যজিৎ রায় নির্মিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নামক ডকুমেন্টারি তে।
Rabindranath Tagore

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৩:০৪

শেরজা তপন বলেছেন: জ্বী ডকুমেন্টারির কিছু অংশ দেখেছিলাম আগেই- আপনার সৌজন্যে ফের দেখা হোল।
আপনি বেশ পড়াশুনা করেন ও রবিন্দ্রনাথ-কে নিয়ে বেশ ভাল জানেন বা আমার থেকে বেশ খানিকটা বেশী জানেন বলে আমার ধারনা।
অনেক আগে শুনেছিলাম উনার পাইলস এর সমস্যা ছিল- তবে কিছু মানুষ কেন যেন কুৎসা রটিয়ে মজা পায়, আমোদিত আহ্লাদিত হয়। কেউ কেউ কোন কারন ছাড়াই- কেউ কেউ বিশেষ স্বার্থে। উভয়ের প্রতি আমাদের ঘৃনা।
ধন্যবাদ আপনাকে দারুন একটা মন্তব্যের জন্য। ভাল থাকুন

৪| ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৩:৫৭

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: বড় লেখা সময় নিয়ে আবার আসছি.....

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৪:৫৫

শেরজা তপন বলেছেন: জ্বী অধির আগ্রহে আপনার অপেক্ষেয় রইলাম...

৫| ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৪:১৯

আমারে স্যার ডাকবা বলেছেন: বেশ বড় লেখা। তিন বারে পুরোটা পড়লাম। শবদেহের চুল দাড়ি কেন ছেড়া হয়েছিলো? অতি অন্ধ ভক্তিতে?
আর সারদাপ্রসাদের স্বেচ্ছামৃত্যু ব্যাপারটা বুঝিনি। তিনি আত্মহত্যা কেন করেছিলেন?

নতুন কিছু জানলাম। ধন্যবাদ শেরজা তপন ভাই।

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৫:০০

শেরজা তপন বলেছেন: বেশ কষ্ট করেছেন-নিজের পোষ্টে এত এত মন্তব্যের উত্তর দেবার পাশাপাশী এতবড় পোষ্ট পড়া মোটেই সহজ ব্যাপার নয় :)

রবীন্দ্রনাথের বোন জামাই সারদাপ্রাসাদ মাত্র পঞ্চাশ বছর বয়সে আত্মহত্যা করেন। আত্মহত্যার কারন অজানা। সৌদামনি মাত্র ত্রিশ বছর বয়সে দুই সন্তান নিয়ে বিধবা হন।
আমার ধারনা ভক্তি নয় সেগুলো স্যুভেনির হিসেবে রাখার জন্যই ছিড়েছিল-সম্ভবত।
অনেক ধন্যবাদ আপনাকে- ভাল থাকুন নিরন্তর।

৬| ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:০৯

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: বরাবরের মতো খুব ভালো লিখেছেন। আমি পুরোটা পড়েছি একবারে। অনেক অজানা জিনিস জানলাম। অনেক সময় ও শ্রম দিতে হয়েছে এই লেখার জন্য। আপনাকে এই কারণে অনেক ধন্যবাদ।

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১০:৫১

শেরজা তপন বলেছেন: আপনার ব্যাপক ধৈর্য!
আপনি যেমন বিশাল পরিসরে লিখতে পারেন, তেমনি বড়সড় মন্তব্য করতে পারেন, তেমনি বড় লেখা পড়ার ধৈর্যশক্তিও আছে।
তবুও অনেক ধন্যবাদ পুরো লেখাটা একবারে পড়ার জন্য।
এসব লেখায় একটু শ্রম দিতে হয়- খানিকটা এদিক ওদিক হলে কিংবা ভুল তথ্য সংযোজন করলে তীব্র বিদ্রূপাত্মক ও তীর্যক মন্তব্যের স্বীকার হতে হয়।
অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা বরাবরের মত সাথে থাকবার জন্য।

৭| ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৩০

ইসিয়াক বলেছেন: শ্রমসাধ্য পোস্টের জন্য অশেষ ধন্যবাদ। পুরো পোস্টটি পড়তে বেশ সময় লাগলো। জানা ছিল কিছু কিছু অজানা।
ভালো থাকুন প্রিয় ব্লগার। শুভ কামনা রইলো।

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১০:৫৫

শেরজা তপন বলেছেন: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ প্রিয় ভাই( ভাল লেখক ও কবি তো বটেই)
ইন্টারনেটের কল্যানে তথ্য সংগ্রহ বেশ সহজতর হয়ে গেছে-তারপরেও কিছু ছাপার লেখা বই এর সাহায্য নিতে হয়। কষ্ট খানিকটা হয় বৈকি-কিন্তু ব্লগারদের আন্তরিকতা, ভালবাসা ও ভাল মন্তব্য পেলে সেই কষ্টটা উপভোগ্য হয়।
আপনি ভাল থাকুন নিরন্তর- শুভ কামনা রইল আপনার প্রতি ও।

৮| ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ৮:৩২

ইন্দ্রনীলা বলেছেন: আমি পুরোটাই পড়েছি।

আগেও পড়েছিলাম এই মৃত্যুযাত্রার কথা।

কিন্তু আমার কেনো যেন বিশ্বাস করতেই মন চায় না।

এমন আশ্চর্য্য উন্মাদনা মানুষও করতে পারে?


এতই বুদ্ধিহীন হয় কি করে মানুষ?

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১০:৫৯

শেরজা তপন বলেছেন: আপনাকে পেয়ে ভাল লাগল- পুরোটা পড়েছেন জেনে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
একটানে এতবড় একটা লেখা আজকের দিনে পড়া চাট্টিখানি কথা নয়। ধৈর্য ধরা সময় দেবার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।
আসলেই ন্যাক্কারজনক ও ভয়ঙ্কর ছিল কবির শেষযাত্রার সময়কাল।
জড়বুদ্ধির কিছু বিবেকহীন মানুষের উপস্থিতি ছিল সেখানে যা বলাই বাহুল্য।
ভাল থাকুন, সুস্থ্য থাকুন সব সময়।

৯| ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১০:১৯

*আলবার্ট আইনস্টাইন* বলেছেন: বাঙ্গালী রবীন্দ্রনাথকে ভালোভাবে চিনতে পারলে এমন করত কিনা তা সত্যিই চিন্তা-ভাবনার বিষয়।

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১১:০১

শেরজা তপন বলেছেন: যারা তার লাশ ছিনতাই করেছিল- ও লাশকে এমন ভয়ঙ্কর অবমাননা ন্যাক্কারজনক কান্ড ঘটিয়েছিল- তারা আর যা-ই হোক রবীন্দ্রপ্রেমী বাঙ্গালী নয়- সহমত।
ধন্যবাদ আপনাকে- মন্তব্যের জন্য।

১০| ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১১:২১

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: মূল্যবান এবং শ্রমসাধ্য একটা পোস্ট। ফেভারিটে রাখলাম। পুরোটা সময় নিয়ে পড়বো।

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১১:২৯

শেরজা তপন বলেছেন: আমার সোনাবীজ ভাই, কতদিন পরে আসলেন।
আপনাকে ভীষন অনিয়মিত দেখে মনঃকষ্টে আছি। মাঝে মধ্যে এসে ঢুঁ দিয়ে যাইয়েন আর ব্লগে ফের নিয়মিত হউন। আপনার মন্তব্যগুলো ও লেখা ভীষন মিস করি।

১১| ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১১:৫৩

কামাল১৮ বলেছেন: আপন জনের অনেক মৃত্যু কবি খুব কাছ থেকে দেখেছেন।মৃত্যু চিন্তা নিয়ে তার কিছু লিখাও আছে।দুঃখিত না পড়ে মন্তব্য করলাম।

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ সকাল ৮:৪৩

শেরজা তপন বলেছেন: আপনার সহজ সরল স্বীকারোক্তির জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। আমরা অনেকেই পুরোলেখা না পড়ে অনেক হামবড়া ভাবে মন্তব্য করি- কিন্তু কেউ সেটা স্বীকার করতে লজ্জাবোধ করি।
যত বেশীদিন যে বাঁচবে তত বেশী দুঃখ বিচ্ছেদ বেদনা নিয়ে মরতে হবে। খুব বেশীদিন বেঁচে থাকা একটা অভিশাপ!

১২| ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ ভোর ৫:০১

চাঁদগাজী বলেছেন:



মানুষ কবিকে ভালোবাসতো; তবে, কলিকাতার মানুষ কুসংস্কারে ভুগতো, এখনো ভোগে।

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ সকাল ৮:৫৬

শেরজা তপন বলেছেন: পৃথিবীর সব দেশের মানুষই কম বেশী কুসংস্কারে ভোগে- আমরা অত্যাধিক বেশী ভুগি। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যু সময়কালে - পুরা কুসংস্কারের খনি ছিল দুই বাংলায়।

১৩| ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ সকাল ৭:২৬

সোহানী বলেছেন: ও মাই গড! আমি জানতামই না এতো কিছু। এত বড় অপমানের মাঝে উনি পড়েছিলেন তাহলে রাজ্য সরকার কি করছিল?? সামান্য ক'জন ফালতু লোকতে সামাল দিতে পারেনি? খুব খুব খারাপ লাগলো লিখাটা পড়ে, এতো বড় অপমান এমন একজনের তা রীতিমত অবিশ্বাস্য।

ধন্যবাদ আপনাকে কষ্টসাধ্য লিখাটির জন্য।

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ সকাল ৮:৫৯

শেরজা তপন বলেছেন: সত্যিই জানেন না? অবাক হলাম!
যাক আমার লেখা সার্থক- আপনার মত বোদ্ধা সাহিত্যিককে রবীন্দ্রনাথের মত অতি বিখ্যাত কারো বিষয়ে নতুন কিছু জানাতে পেরে।

খারাপ লাগার ই কথা । রবীন্দ্রনাথ আমাদের মন ও মননে প্রোথিত! তার যে কোন অসম্মান আমাদের ভীষনভাবে নাড়া দেয়।

অনেক অনেক ধন্যবাদ আপু কষ্ট করে লেখাটা পড়ার জন্য- ভাল থাকুন।

১৪| ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ১২:৫৪

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: আমার মতে আপনি একজন আদর্শ ব্লগার। কারণ আপনি বহুদিন ব্লগিং করলেও ব্লগের নিয়ম কানুন খুব সুন্দরভাবে মানেন। কি বলা উচিত, কি বলা উচিত না এই বোধগুলি আপনার মধ্যে আছে। আপনি আলতু ফালতু পোস্ট দেন না। প্রত্যেকটা পোস্ট অনেক সময় নিয়ে গুছিয়ে লেখেন। আপনার ধৈর্যও অনেক। আমি কটু কথা সহ্য করতে পারি না। অনেক খারাপ লোক আপনাকে দুই এক সময়ে অন্যায্যভাবে কটু কথা বলেছে, কিন্তু আপনি অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে সেগুলি মোকাবেলা করেছেন। আপনার লেখা যে অনেক উন্নত মানের এটা আমি না বললেও সবাই জানে। আপনি সম্ভবত বেশ মেধাবী ছাত্র। আপনার লেখা আমি যতটুকু পড়েছি তাতে মনে হয়েছে আর কি। ভালো থাকবেন যা বললাম এগুলি আমার পর্যবেক্ষণ মাত্র, ভুল হলে তার জন্য আমি দায়ী।

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:২৬

শেরজা তপন বলেছেন: আপনার মন্তব্যের উত্তর দেবার মত কোন কথা খুঁজে পাচ্ছিনা।
যেরকম আছি যেটুকু সম্মান ও আত্মমর্যাদা ও ব্লগের সবার ভালবাসায় জড়িয়ে আছি- দোয়া রাখবেন অন্তত অবনমন যেন না হয়।
সময় আপনাকে আপনিতেই শিখিয়ে দিবে কিভাবে ধৈর্য ধারন করতে হয়(সবার জন্য নয় আপনাকে- কেননা আপনি ধৈর্যশীল হতে চান)

ভাল থাকুন সব সময়।
* ছেলেবেলায় আমার চারপাশের পরিবেশ ভিন্নরকম ছিল- তাই আমি নিজেকে প্রতিমুহুর্তে প্রাণপণে পাল্টাতে চেয়েছি। সুযোগ পেলে লিঙ্কের লেখাটি পড়বেন;
Click This Link

১৫| ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:২৬

আহমেদ জী এস বলেছেন: শেরজা তপন,




ভক্তি-শ্রদ্ধায় ভাসতে গিয়ে মানুষ বেশীর ভাগ সময়টাতেই ব্যাখ্যাহীন উন্মত্ততায় ‌উজবুকের মতো কাজ করে বসে। রবীন্দ্রনাথের শেষযাত্রার যে ছবি তা এরই প্রমান রেখে গেছে নিদারুন ভাবে।

রবীন্দ্রনাথের শেষের দিনগুলি ও শেষযাত্রার নিপুন ছবি এঁকেছেন দারুন পরিশ্রম সাধ্য দক্ষতায়।

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৩৫

শেরজা তপন বলেছেন: দারুন কথা বলেছেন- পুরোপুরি সহমত!
তবে কবি ও বাংলা সংস্কৃতি- সাহিত্যের, বিশেষকরে বাঙ্গালী জাতির জন্য চরম লজ্জাজনক হলেও- ভালবাসার অত্যাচার~ বলে যে
কথাটা আছে সেটার সঠিক চিত্র ফুটে উঠেছে।

আপনার মন্তব্য সবসময়ই আমাকে দারুনভাবে অনুপ্রাণিত করে।
বরাবরের মত আন্তরিক ধন্যবাদ। ভাল থাকুন

১৬| ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৩৫

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: আপনার দেয়া লিঙ্কে সমস্যা আছে।

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৩৮

শেরজা তপন বলেছেন: Click This Link

হ্যা তাইতো দেখি সমস্যা। ফের দিলাম একটু দেখবেন।

১৭| ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৪১

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: জী পেয়েছি। টাইটেলটা ভালো। নটী মানে যে নাচে। এখনও ভিতরে পড়ি নাই। আপনি নাচ পছন্দ করেন এটা বুঝতে পেড়েছি।

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৫৪

শেরজা তপন বলেছেন: এই নটী সেই নটী না রে ভাই। এই নটী মানে পতিতা! না পড়লে সমস্যা নেই- তবে সময় করে পড়বেন আশা করি। এই ঐতিহাসিক ঘটনা একবারই লেখা হয়েছে :)
দ্বীতিয় পর্বে ধাক্কা খাবেন নিশ্চিত

১৮| ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৪৩

হাবিব বলেছেন: এই পোস্টটি আমার চোখে এড়িয়ে গিয়েছিলো........... :(

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ৮:১১

শেরজা তপন বলেছেন: সবসময় সানগ্লাস পরে থা্কলে এই রকম সমস্যা হইতেই পারে :)
যাক এখনতো নজরে এসেছে- দ্রুত পড়ে একটা মন্তব্য করেন স্যার( আপনার নামের সাথে স্যার-টাই এসে যায় বার বার)
অপেক্ষায় রইলাম...

১৯| ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ৮:২৬

হাবিব বলেছেন:





শেষ অংশটুকু পড়ে মনটা খারাপ হয়ে গেলো। কবিকে এমন ভাবে বিকৃত করা কোন ভাবেই কাম্য ছিলো না। আরো একটি বিষয় অমানবিক মনে হলো। অজ্ঞান না করেই কেন অপারেশন করা হলো??

লেখার ফ্লো পাঠক ধরে রাখার মতো। একটানে পড়ে ফেললাম। অনেক অজানাই জানা হলো।

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১০:৩৩

শেরজা তপন বলেছেন: শুধু মন খারাপ নয়- বিবেককে ভয়ঙ্করভাবে নাড়া দিয়ে যায়।
ভাবতে অবাক লাগে ওপরে যতই পান্ডিত্য আর শৈল্পিক আচরন করিনা কেন আমরা ~সুযোগ পেলে কি দুস্কর্মই না করতে পারি।

তখন অজ্ঞান করে অপারেশন করার মত কবির শারিরিক পরিস্থিতি হয়তো ছিল না -নয়তো তখন এত নিখুঁত এনেস্থেশিয়া করার পদ্ধতি হয়তো আবিস্কার হয়নি।
ফের আপনাকে পেয়ে ভাল লাগল ভ্রাতা। অনেক অনেক ধন্যবাদ। ভাল থাকুন

২০| ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ৮:৪০

জুন বলেছেন: রবীন্দ্রনাথের জীবনটা বড় নাটকীয়তায় ভরপুর ছিল। এক দিকে বৌদির সাথে প্রনয় সেই সাথে ছিল বিদেশীনি ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো ।
স্ত্রী মৃনালীনি দেবীর অকাল মৃত্যু সাথে ছেলেমেয়েদের একে একে মৃত্যু দেখা বিশেষ করে ছোট ছেলে শমীর মৃত্যু তাঁর বুকে শেলের মত বিধেছিল । তারপরও তাঁর কাব্য চর্চা বা সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা এক বিন্দুও কমে নি শেরজা তপন । আমি শান্তিনিকেতনে দুদিন থেকে ঘুরে ঘুরে দেখে এসেছি কবির স্মৃতি বিজড়িত তপোবন । কিন্ত তাঁর করুন মৃত্যু ও তাঁর পরের ঘটনাগুলো রীতিমত ন্যাক্কারজনক । খুব সুন্দর সাবলীল ভাবে লিখে গেছেন বিশ্বকবির শেষ মুহুর্তগুলোকে ।
অনেক অনেক শুভকামনা রইলো সাথে ভালোলাগা। এমনি আরও লিখে যান আমাদের জন্য ।
+

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১০:৪০

শেরজা তপন বলেছেন: বৌদির সাথে প্রণয় নিয়ে এখনো কিঞ্চিৎ দ্বিধান্বিত আমি। তেমন কোন নির্ভরযোগ্য প্রমান হয়তো নেই-তবে হলে হতে পারে, এমনটা অহরহই ঘটছে সবখানে। অল্পবয়েসী কবির তখন মানসিক পরিপক্কতা কতটুকুই বা ছিল। সেই বয়সে মানুষ হৃদয় আর শরিরের তাড়নায় অনেক ভুল বা অপকর্ম করে ফেলে।
তবে ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর সাথে তার প্রণয় বাস্তবিক ছিল। কবির সারা দেহ জুড়েই এক আবেগী প্রেমময় হৃদয় ছিল :)
আপনার দারুন তথ্যসমৃদ্ধ সাবলীল মন্তব্য আমাকে নতুন কিছু ভাবতে বা জানতে সাহায্য করে সব সময়।
ভাল থাকুন।

২১| ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১০:১৪

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় তপন ভাই,

কবিগুরুর জীবনব্যাপী অসম্ভব জীবনযন্ত্রণার মধ্যে কাটিয়েছেন। ওনার শ্মশান যাত্রার অমানবিকতার কথা আগে জানতাম। গোটা জাতির এ লজ্জায় মুখ দেখানোর যায়গা নেই। ছেলে রথীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর ভাগ্যহীনা পিতা নিজের অন্তরের হাহাকারের কথা লিখেছিলেন,
- আজ জ্যোৎস্নারাতে সবাই গেছে চলে, গানটি রচনার মধ্যে।
শত কষ্টতেও নিজের সাহিত্যানুরাগের মধ্যে যেন সেসব কে প্রবেশ করতে দেননি। ওনার জীবনদশায় একে একে আপন জনদের চলে যেতে দেখেছিলেন। আপনি সুন্দরভাবে, সংক্ষিপ্তাকারে যেটা উল্লেখ করলেন।।এত মৃত্যু এত দুঃখ কষ্টেও কবি থেমে থাকেননি। অসম্ভব রসবোধ ছিল ছবির মধ্যে। জীবনের শেষ দিকে উপুড় হয়ে লিখতেন।তা দেখে কেউ প্রশ্ন করলে উনি বলতেন,
- কলসির জল ফুরিয়ে আসছে।কাত না হলে জলতল পাওয়া যাবে না।
ওনার জোড়াসাঁকোর বাড়িতে সাহিত্য সভার আড্ডা হতো। সেখানে একে অপরের সাথে জুতো পাল্টে যেতো। একবার শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নিজের চটিজোড়া খবরের কাগজ মুড়ে নিজের যত্নে রেখে দেন।সভামধ্যে একজন প্রশ্ন করতেই কবি বলে ওঠেন,
- ওটি শরতের পাদুকা পুরাণ।
উল্লেখ্য শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় খুব লুকিয়ে যে কাজটি করেন সেটাও কবির দৃষ্টিগোচরে ধরা পড়েছিল।

কমেন্টের এখনো শেষ হয়নি। আবার আসছি।

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১০:৪৫

শেরজা তপন বলেছেন: প্রিয় পদাতিক ভাই,
আপনার অপেক্ষায় ছিলাম।
বেশ বড় মাপের তথ্যবহুল মন্তব্য যে পাব আপনার কাছ থেকে সেটা নিশ্চিত ছিলাম।
শরৎ চাটুয্যের গল্পটা জানতাম না। দারুন মজা পেলাম জেনে।
তিনি যে আমৃত্যু লিখে গেছেন বা লিখে যেতে পেরেছেন সেটা আমাদের জন্য বাংলা সাহিত্যের জন্য অনেক বড় পাওনা।

ফের আসবেন জেনে দারুন আপ্লুত হলাম। অপেক্ষায় রইলাম আপনার ফিরে আসার ও অনেক অনেক নতুন কিছু জানবার

২২| ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ৮:৩১

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় তপন ভাই,

আশা ব্যক্ত করেছিলাম এই পোস্টে আবার আসবো।সেই আসা যে আপনার শেষ পোস্টের সঙ্গে এতোটা সম্পৃক্ত হবে তা নিজেও ভাবতে পারিনি। এক্ষেত্রে আমার এই কমেন্টটি হবে আপনার শেষ দুটি পোস্টে দুই শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিকে স্মরণে-

সৈয়দ মুজতবা আলী রচনাবলীর প্রথম খণ্ড 'পঞ্চতন্ত্রে'র বিশ্বভারতী অংশে।

1921 সালে বিশ্বভারতীর প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে দেশ-বিদেশ থেকে জ্ঞানী গুণী ব্যক্তিবর্গকে এখানে আনা হতো। সেই মর্মে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমন্ত্রণ জানালেন প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতনামা পন্ডিত অধ্যাপক সিলভা লেভিকে। শান্তিনিকেতনের সেসময় পণ্ডিতদের অভাব ছিল না। শ্রীযুত বিধুশেখর শাস্ত্রী, শ্রীযুত ক্ষিতিমোহন সেন শাস্ত্রী, শ্রীযুত হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়, স্বর্গীয় এন্ড্রুজ এবং পিয়ারসন, শ্রীযুত নিতাই বিনোদ গোস্বামীর মতো বিদগ্ধ পণ্ডিতরা শান্তিনিকেতন অলংকৃত করলেও ছাত্র ছিল না। কারণ বিশ্বভারতী তখন পরীক্ষা নিত না, উপাধিও দিত না। সৈয়দ মুজতবা আলীর কথায়,
-এখনো আমার স্পষ্ট মনে আছে, তখনকার দিনে বিশ্বভারতীর অন্যতম প্রধান নীতি ছিল:"দা সিস্টেম অফ এক্সামিনেশন উইল হ্যাভ নো প্লেস ইন বিশ্বভারতী নর উইল দ্যার এনি কনফারিং অফ ডিগ্রীজ।"
এই অবস্থায় বিশ্বভারতীতে অধ্যায়ন করতে আসবে কে? যে অর্থ ব্যয় করে বিদেশ থেকে পৃথিবীবরেণ্য পন্ডিত লেভিকে আনানো হচ্ছে,ইনি বক্তৃতা দেবেন কাজ সামনে, ইনি গড়ে তুলবেন কোন ছাত্রকে?

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শান্তিনিকেতনের কোনো যোগসূত্র ছিল না। তবু রবীন্দ্রনাথ ব্যবস্থা করলেন যাতে করে কলকাতার ছাত্ররা শান্তিনিকেতনে এসে সপ্তাহে অন্তত একটি বক্তৃতা শুনে যেতে পারে। শান্তিনিকেতনে রবিবার অনধ্যায় নয় কাজেই শনিবার বিকেল কিংবা রবির সকালের ট্রেন ধরে যে কোন ছাত্র কলকাতা থেকে এসে লেভির বক্তৃতা শোনবার সুযোগ পেল।
যেদিন প্রথম বক্তৃতা আরম্ভ হওয়ার কথা সেদিন রবীন্দ্রনাথ খবর নিয়ে জানতে পারলেন কলকাতা থেকে এসেছেন মাত্র দুটি ছাত্র। তারও একজন রসায়নের ছাত্র আর পাঁচ জন যেরকম বোলপুর দেখতে আসে সেই সুযোগে সেও সেই রকম এসেছে।
বিশ্বভারতীর ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা তখন বারো জনও হবে না। তারমধ্যে সংস্কৃত পড়তেন জোর চারজন।
এই ছটি ছাত্রের সামনে (অবশ্য পণ্ডিতরাও উপস্থিত থাকবেন) বক্তিতা দেবেন সাত সমুদ্র তেরো নদী পার হয়ে এসে ভুবনবিখ্যাত পন্ডিত লেভি! রবীন্দ্রনাথ বড় মর্মাহত হয়েছিলেন।
তাই প্রথম বক্তৃতায় ক্লাসের পুরোভাগে খাতা-কলম নিয়ে বসলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ।
লেভির আর কোনো খেদ না থাকারই কথা।।




১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১১:২০

শেরজা তপন বলেছেন: বাপরে পারেন বটে!!!
এইটের উত্তর কালকে দাদা- ফের কথা দিয়ে ফিরে এসেছেন সেই জন্য কৃতজ্ঞতা

২৩| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ সকাল ১১:২৫

জুল ভার্ন বলেছেন: ভাই, আপনি যা কিছু লিখেন-তা সম্পূর্ণটাই লিখেন-যা পড়ে কোনো প্রশ্ন করার সুযোগ থাকেনা। রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের জীবন সত্যিই পরিপূর্ণ একটা জীবন ছিলো। যে জীবনে আনন্দ, সুখ, বেদনা, যন্ত্রণা সম্মান এবং অপমান-সবই পেয়েছেন।

মৈত্রেয়ী দেবী-মর্চা এদিয়েদ নিয়ে আমারও বেশ কয়েকটা লেখা ফেসবুকে শেয়ার করেছিলাম।

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ সকাল ১১:৪৩

শেরজা তপন বলেছেন: মৈত্রেয়ী দেবী-মর্চা এদিয়েদ নিয়ে আপনার লাখাটা পড়ার ইচ্ছে রইল - পারলে লিঙ্ক দিয়েন।
আপনার মত ঋদ্ধ ব্লগারের কাছ থেকে এমন দারুন কমপ্লিমেন্ট পেয়ে আমি অভিভুত।

ঠিক বলেছেন- মানুষ যত বেশীদিন বাচবে তত বেশী আনন্দ, সুখ, বেদনা, যন্ত্রণা সম্মান এবং অপমান- এর স্বাদ পাবে। তবে দুঃখ বেদনা, হতাশার ভাগটাই বেশী। তবু বেঁচে থাকা আনন্দের- জীবনাটা বড়ই সুন্দর।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.