নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মাঝে মাঝে মনে হয় জীবনটা অন্যরকম হবার কথা ছিল!

মাঝে মাঝে মনে হয় জীবনটা অন্যরকম হবার কথা ছিল!

শেরজা তপন

অনেক সুখের গল্প হল-এবার কিছু কষ্টের কথা শুনি...

শেরজা তপন › বিস্তারিত পোস্টঃ

বাবনিক-৫ম পর্ব (দ্বিতীয় খন্ড)

০৬ ই অক্টোবর, ২০২১ বিকাল ৫:১৪


আগের পর্বের জন্যঃ Click This Link
শেষ প্রণয়
মাঝে মধ্যেই ওর মায়ের প্রেমিক আসলে আমাদের পায়ের কাছের ছোট্ট একটা ডিভানে নাদিয়া এসে শুয়ে পড়ত। প্রথম প্রথম আমি ভীষণ অবাক হতাম, বিব্রত বোধ করতাম! খানিকটা লজ্জা যে এলিনা পেত না তা নয়- কিন্তু আমরাতো কিছুই করছিনা ছোট বোন থাকলে সমস্যা কি এমন ভাব করে সে সহজ হয়ে যেত।
আমি কিন্তু প্রথম প্রথম অত সহজে সহজ হতে পারতাম না। মাঝে-মধ্যেই ঘাড় উঁচু করে দেখতাম নাদিয়া এদিকে তাকিয়ে আছে কি-না। কিন্তু কি আজব মেয়ে; উল্টো দিকে ফিরে গুটিসুটি মেরে ভোর অব্দি ঘুমিয়ে থাকত।
একসময় ব্যাপারটা সহজ হয়ে গেল! ওকে আর পাত্তা দেইনা তেমন, ও থাকলেও যা না থাকলেও তা।
সকাল হতেই সে বেরিয়ে যেত স্কুলে পড়াতে। আমি ঘুমোতাম প্রায় বারোটা’তক সে ফিরে এসে আমাকে আদর করে ঘুম থেকে তুলে খাইয়ে দাইয়ে ফ্রেস করে বাসায় পাঠাত। ও চাইত যে প্রতিদিনই ওর সাথে থাকি কিন্তু আমি ইচ্ছে করেই সপ্তাহে দু’য়েকদিন যেতাম। এজন্য কত মান অভিমান।
দিন চলে যায়- ভালবাসা ফিকে হয়ে আসে। অতি সহজে পাওয়া বিষয়গুলো মনে হয় এ আর এমন কি? এমন-ইতো হবার কথা ছিল।মানুষের সেরা দান আদর ভালবাসাকে একসময় মনে হয় অত্যাচার ‘Like Bitter Moon’!!!!!
এক সময় তার এই আদর কেন যেন আমার কাছে একঘেয়ে মনে হল।
তাছাড়া সে প্রায়ই বিয়ে করার জন্য চাপ দিচ্ছিল। কিন্তু আমিতো বাবনিকে’র জিগার দোস্ত। আধা বাবনিক। আমরা মদ খেয়ে পুরো মাতাল হলে শপথ করেছিলাম- বিদেশী নারীকে বিয়ে করব না। সব মৌজ মাস্তি করে দেশে গিয়ে স্বতী-সাধ্বী, সুপার কিউট টাইপের একটা মেয়েকে বিয়ে করে কোমায় যাব! এজন্য প্রেম খানিকটা এগোলেই তাকে বলে দিয়েছিলাম যাই হোক না কেন আমি বিয়ে করতে পারবনা- আমার বাবা মায়ের বারণ আছে।
সুযোগ বুঝে প্রতিজ্ঞা করিয়ে ছিলাম সে কখনো আমাকে বিয়ে করতে বলবে না। কিন্তু গান্ডু মেয়ে সে প্রতিজ্ঞা ভুলে সেই কথাটাই বারবার বলে। সেজন্য সে ধর্ম পরিবার জাতীয়তা থেকে কত কিছুই না পাল্টে দিতে রাজী ছিল।
তবুও হপ্তায় দু-চার দিন বিরতি তাঁর আদর সোহাগ ভালবাসা আর পার্টি -সার্টিতে দীর্ঘ শীতকালটা বেশ কেটে গেল।
ববি তখন রোমানিয়ায়- রুশ মুল্লুক ছেড়ে সে রোমানিয়ান মেয়ের প্রেমে মজেছে! এবার যাকে কব্জা করেছে তাঁর হাত থেকে সহজে নিষ্কৃতি মিলেছে বলে মনে হয়না। বেশ কয়েকমাস তাঁর সাথে একদম যোগাযোগ নেই- মনে হচ্ছে এতদিনে রোমানিয়া ছেড়ে ভেনিস অব্দি চলে গেছে- সেখানে নিশ্চিত ফরাসী মেয়েকে বগলদাবা ঘুরে বেড়াচ্ছে!

গ্রীষ্মের শুরুতেই কেন যেন বেশ করে বিয়ের ভুত মাথায় চাপল এলিনার। আমার তখন নেহায়েত চ্যাংড়া বয়স। বিয়ে শাদীর কথা এই বয়সে ভুলেও মাথায় আনি না। তাছাড়া অকৃত্রিম বেকার তখন।
বিয়ে নিয়ে ক্যাচর-ম্যাচর একঘেয়েমি ছাড়াও অন্য নারীর আসক্তিতে তার সাথে যোগাযোগ ধীরে ধীরে কমিয়ে দিলাম।
সে ফোন করে ইনিয়ে বিনিয়ে তার কাছে যেতে বলে। আমি মজে আছি তখন নতুনে- পুরনোতে কি আর সোয়াদ মেটে।

গ্রীষ্মকাল- ওডেসার শীত রাশিয়ার মত দীর্ঘস্থায়ী নয়। খানিকটা ট্রপিক্যাল কান্ট্রির মত ঝুপ করে নেমে টুপ করে চলে যায়। মস্কো আর কিয়েভের বাসিন্দারা যখন ফার কোট থেকে বরফ ঝাড়ছে- কৃষ্ণ সাগরের বালু-তটে তখন প্রায় উদোম গায়ে নারী পুরুষ জলকেলি আর রৌদ্রস্নানে মশগুল!
আমরা তখন রঙ্গিন চশমার ফাঁকে রুশ, উক্রাইনান, মলদোভিয়ান, জর্জিয়ান, আর্মেনিয়ান আর বেলারুশের রমণীদের প্রায় নগ্ন শরীর দেখতে মশগুল। বিনে টিকেটে বে ওয়াচের যে কোন দৃশ্যকে হার মানিয়ে দেয় কৃষ্ণ সাগরের পারের সেই রিয়েল সিন।
এলিনার বাসায় যাওয়া আসা বেশ কমে গেছে। ও হপ্তা খানেক অনুরোধ করলে একদিন যাই। গিয়েই তর্জন গর্জন আর হুকুম আদেশ করি। এলিনা যেন প্রস্তুত হয়ে থাকে আমার হুকুম তামিলের জন্য- সে হাসি মুখে সব মেনে নেয়। নাদিয়া বিরক্ত হয়ে ঘর থেকে বেড়িয়ে যায়। ওর মা আমাকে দেখলেই কপাল কুঁচকে থাকে।
একদিন বাসায় গিয়ে দেখলাম গাঁটটি বোঁচকা গোছাচ্ছে কোথাও যাবার জন্য। আমি স্বভাবতই বেশ অবাক হলাম। আমাকে আগে ভাগে না জানিয়ে কোথায় যাচ্ছে সে?
জিজ্ঞেস করলে সে বিরক্তিকর হাসি দিয়ে বলল, -দাচায়( গ্রামের বাড়ি।অনেকেই পুরো গ্রীষ্ম কালটা সেখানে কাটিয়ে আসে; সাতার কেটে, সান-বাথ করে, মাছ ধরে, মাশরুম তুলে, শাক সবজীর চাষ করে – বিশেষ করে সত্যিকারে প্রকৃতির একান্ত সান্নিধ্য পাবার জন্য দাদায় ছোটে সবাই, শহরগুলো এক রকম খালি হয়ে যায়)।
এলিনাদের যে দাচা আছে সেটাই আমি জানতাম না। সান-বাথ করতে চাইলে কৃষ্ণ সাগরের এমন সুন্দর বালু তট ছেড়ে কেউ গাও-গেরামে যায়!!
-আমাকে কেন আগে ভাগে বললে না? বেশ রুক্ষ স্বরে জিজ্ঞেস করলাম?
আঁতে লেগেছে আমার- ওর কাছ থেকে এতটা স্পর্ধা আশা করিনি।
ফের তেমনি করে হেসে বলল, -'সবাই যাচ্ছে। তাছাড়া ঘুরে আসি তোমাকে ছেড়ে একটু দূরে। তুমি এখানে একটু ফুর্তি-টুর্তি কর'।
শেষ কথাগুলো বলার সময়ে ওর কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসছিল! চোখের কোনে জলের ঝিলিক দেখতে পেলাম।
তাঁর সেই অনুভূতি আমার হৃদয়কে বিন্দুমাত্র সিক্ত করল না। আমি ভীষণ ক্ষেপে গেলাম! অযথাই উচ্চস্বরে ঝগড়া করলাম। কিন্তু কেন করলাম- আমিতো মনে মনে এই চেয়েছিলাম। তাঁর থেকে দূরে দুরেই থাকিতে চেয়েছিলাম। আমার প্রতিশোধের ওভারডোজ হয়ে গেছে। আমার ভিতরে কেমন ছট-ফট করছিল, ওর রাহু থেকে মুক্তি পাবার জন্য।
লিনাকে একসময়ে আমার দাস ভাবতে শুরু করেছিলাম। ভেবেছিলাম ওর প্রতিটা পদক্ষেপ আমার দৃশ্যমান থাকবে। আমার অঙ্গুলি হেলনে সে ডাইনে ঝুঁকবে- অঙ্গুলি হেলনে বায়ে। সে চরম ঘাওরামি করে যেমন আমার শত প্রলোভন, চেষ্টা আর অত্যাচারেও তাঁর সর্বস্ব বিলিয়ে দেয়নি- তাঁর ভার্জিনিটি অক্ষুণ্ণ রেখেছে – তেমনি সে আজ দাচে যাবার ব্যাপারে বদ্ধ পরিকর! আমার তথাকতিথ পৌরুষে চরম আঘাত লাগায় আমি ক্ষিপ্ত উন্মাদ অনুভূতিহীন পশু হয়ে গেলাম!
তবুও সে আমার সব বাঁধা সে হাসতে হাসতে উপেক্ষা সেই গ্রীষ্মের ছুটিতে মাস দু’য়েকের জন্য দাচে( গ্রামের বাড়ি) গেল সান বাথের জন্য- হয়তো মনের দুঃখে আমাকে ভোলার জন্য, কিংবা নিজেকে নতুন করে পাবার আশায়।
---------------------------------------------------------------
সে যখন ফিরে আসল আমি তখন অন্য মানুষ। পুরোপুরি তা প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি। সেবার সে অনেক কাকুতি মিনতি করেছিল অনেক চোখের জল ঝরিয়েছিল আমায় বাঁধার জন্য।
কিন্তু তখন আমার মনুষ্যত্ব অনেকটা নষ্ট হয়ে গেছে।এক নারীতে বাধা থাকতে আমি চাইছি না।
সে কথায় আমায় বাধতে না পেরে লোভ দেখাল শরীরের। নিজেকে পুরোপুরি বিলিয়ে দিয়ে আমি যখন যেভাবে তাকে সেভাবেই হবে সব-তুবুও যেন তাকে ভালবাসি।

~এলিনাকে নিয়ে প্রথম পর্বের জন্যঃ Click This Link/30326898


মন্তব্য ৩৪ টি রেটিং +৮/-০

মন্তব্য (৩৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০৬ ই অক্টোবর, ২০২১ বিকাল ৫:৪৪

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: বাবনিক ভাই, কি কমু কন?

সাধনা ছাড়া পাওয়া জিনিষ ,হেলায়-ফেলায় পাওয়া জিনিষ সময়ের বিবর্তনে এমনিতেই হারিয়ে যায় আর সেখানে যদি এরকম হাজারো অপশন থাকে যেখানে " এই মন চায় যে মোর " সেখানে বাবনিক ভাইয়ের দোষ কোথায় তবে দোষ হলো এলিনার যে কিনা এতো এতো অপশন থাকতে এখনো ভার্জিন ।

কত বড় আস্পর্ধা । এট কোন ভাবেই X(( মেনে নেওয়া যায়না । যে কিনা ভবিষ্যতের আশায় বর্তমানকে বির্সজন দেয় এবং জলে নেমে গাঁ বাচিয়ে চলতে চায়।

ভালই করেছেন ।এলিনাকে ছেড়ে দিয়ে । এবার হবে নতুন কারো সাথে, নতুন ভাবে ,নতুন করে । শুধুই মজাই মজা।

০৬ ই অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:১১

শেরজা তপন বলেছেন: কিছু কইয়েন না আমি বুঝছি :)
এ মন যে এত মোর মোর চাচ্ছে সেটা কি ঠিক?
আগের পর্বে আপনাকে পেলামনা যে- হারিয়েছিলেন কোথায়, নাকি হৃদয়ের দুর্বলতার জন্য ওমুখো হননি? :)

পণ্যের এত সহজলভ্যতা হলে সভ্য-সুজন কিছু যুবকও বাবনিক হয়। কথা ঠিক

নতুন করে মজা! সেটা আর বলতে- নতুন পেয়েইওতো ওকে ছেড়েছে সৌম্য হাঃ হাঃ

অনেক ধন্যবাদ ভ্রাতা- এমন সুন্দর মন্তব্যের জন্য।

২| ০৬ ই অক্টোবর, ২০২১ বিকাল ৫:৪৯

মিরোরডডল বলেছেন:




যে কোনকিছু না পাওয়া অবধি দুর্লভ আকর্ষণ, পাওয়ার পর অভ্যাসে পরিণত আর তারপর একসময় অত্যাচার মনে হয় ।
সৌম্য এলিনা সম্পর্ক সেরকম মনে হলো ।

এলিনাকে টিপিক্যাল চিত্রনায়িকা শাবানা ক্যারেক্টার মনে হয়েছে ।

এ সম্পর্কে শুধুই ফিজিক্যাল আকর্ষণ ছিলো কিন্তু একে অপরের হৃদয়কে স্পর্শ করতে পারেনি ।
টাইম পাস অর ইনফ্যাচুয়েশন বাট নট লাভ !



০৬ ই অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:০৬

শেরজা তপন বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে ফের- পর পর দু'পর্বে দর্শন দেবার জন্য। এ পরম সৌভাগ্য আমার!
সৌম্যের সম্পর্কটা গড়ার পেছনে ছিল প্রতিশোধস্পৃহা ও খানিকটা শারিরিক তো বটেই।
তবে এলিনা চরমভাবে ভালবেসে ফেলেছিল তাকে একথ একথা তেমন সত্য- পরের পর্বগুলো পড়লে সেই সত্যতা উপলব্ধি হবে নিশ্চিত।
তা ঠিক খানিকটা রুশীয় ললনা রূপী 'শাবানা' :)
দারুন এই মন্তব্যের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। ভাল থাকুন

৩| ০৬ ই অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:১৬

চাঁদগাজী বলেছেন:


আপনি যখন ওদের বাসায় যাওয়া-আসা করতেন, আশপাশের মানুষের সমীহ ছিলো আপনার প্রতি?

০৬ ই অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৫০

শেরজা তপন বলেছেন: দেখুন এটা ইতিহাস নয়, গল্প কাহিনী, সাহিত্য উপন্যাস যে কোন একটা বিষয়ে আখ্যায়িত করতে পারেন।
এখানে পার্সোনাল সওয়াল জবাব কেন আসছে? আপনি সম্ভবত এ লেখার কোন পর্বই মনযোগ দিয়ে পড়েননি- আমি বারবার বলার চেষ্টা করেছি, এটা আমার গল্প নয়।
পুরো কাহিনীটা আমাকে একজনের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে বলার চেষ্টা করছি। যেহেতু সৌম্য গল্পটা বলবে সেহেতু তাকে আমি করে নিয়েছি। আমি এভাবে লিখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।
আশা করি বিষয়টা বুঝতে পেরেছেন। এরপর থেকে এমন প্রশ্ন করে বিব্রত করবেন না আশা করি।

৪| ০৬ ই অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:১২

চাঁদগাজী বলেছেন:



ঠিক আছে।

০৬ ই অক্টোবর, ২০২১ রাত ১০:৫৩

শেরজা তপন বলেছেন: বিষয়টা অনুধাবন করার জন্য ধন্যবাদ।

৫| ০৬ ই অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:২৯

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় তপন ভাই,
বরাবরের মতই লিখেছেন ভালো। কিন্তু এলিনা এভাবে গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়ায় বদমাশ 'বাবনিক' যোগাযোগ না থাকার কারণে ভালোবাসা ফিকে হয়ে যাওয়া বা তাকে ক্রীতদাসের সমতুল্য ভাবা ঘটনার সত্যতা অনুযায়ী ঠিক আছে কিন্তু কাহিনীর বিন্যাসে বেশ বাধাপ্রাপ্ত লাগলো। পোস্টে লাইক। অপেক্ষায় রইলাম পরবর্তী পর্বের।

শুভেচ্ছা প্রিয় তপন ভাইকে।

০৬ ই অক্টোবর, ২০২১ রাত ১০:৫৮

শেরজা তপন বলেছেন: আসলে বাস্তবে এমন কিছু হয় যা আমাদের স্বাভাবিক কল্পনার সাথে মেলেনা।
মসৃন পথে চলতে চলতে হঠাৎ গোত্তা খেয়ে সব সপ্ন আশা ভালবাসার এমনি করে অপমৃত্যু জয়।
এ বিষয়টুকু নিয়ে আমার সাজিয়ে গুছিয়ে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন ছিল- কিন্তু এই কালো অধ্যায়টুকু আমি দ্রুতই শেষ করে দিলাম
কোন এক অজানা কারনে।
সমালোচনামুলক সুন্দর মন্তব্যের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ পদাতিক ভাই।
আশা করি কাহিনীর শেষ পর্যন্ত আপনাকে পাব। ভাল থাকুন

৬| ০৬ ই অক্টোবর, ২০২১ রাত ৯:০০

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: চাওয়ার আগেই পাইয়া গেলে, কিংবা, প্রাপ্তির পরিমাণ খুব বেশি হইয়া গেলে একদিকে ভালোবাসা যেমন দ্রুতই ফিকে বা একঘেঁয়ে হয়ে যেতে পারে, তেমনি নিজেকে আবার খুব মহান, দুর্লভ বা ব্লগীয় পরিভাষায় 'আমি না জানি কী হইয়া গেছি রে' মনে হইতে পারে। সৌম্য'র পরিস্থিতি ঠিক এ কারণেই এমন হয়েছে। সে এলিনার উপর বেশি অধিকার ফলাইতে যাইয়া তাকে 'দাস'-এর মতো ভাবছে। আরেক দিকে, তেরো খোপ কবুতর খাওয়ার পরও আরো কবুতর খাওয়ার আশায় সে মগ্ন ও বিভোর, কিন্তু বিয়ের প্রশ্ন উঠলেই সে রাজি নয়। সে গাছ কিনবে না, বিনে পয়সায় গাছের ফল খাবে।

এ প্রশ্নটা আগেও করেছিলাম কিনা মনে পড়ে না। বিভিন্ন নারীকে বাঙালি চরিত্রগুলো যেভাবে খুব সহজেই বাগিয়ে নিতে পারছে, তাতে মনে হচ্ছে রাশান বা ইউক্রাইন নারীরা আমাদের জন্য খুবই সহজলভ্য। বাস্তবেও কি তাই? সত্যি হয়ে থাকলে, বাঙালিদের প্রতি ওদের এত দুর্বলতার কারণ কী? নাকি, সৌম্য ও অন্যান্যরা খুব সুদর্শন সুপুরুষ হওয়ায় নারীরা তাদের দেখামাত্রই ঘায়েল হইয়া যায়?

এ পর্বে সৌম্যকে এলিনার উপর ক্ষিপ্ত হতে দেখা যায়। কিন্তু, সৌম্য'র এই ক্ষিপ্ত হওয়াটা খুব সাবলীল ভাবে ডেভেলপ করেছে বলে আমার মনে হয় নি। তবে, এ অংশে এলিনার আচরণ বা অভিব্যক্তি বা সংযত প্রতিক্রিয়া আমার খুব ভালো লেগেছে। নিজের অজান্তেই আমার মন এলিনার পক্ষে চলে গেছে। এর ক্রেডিট কিন্তু লেখকের :)

শুভেচ্ছা রইল শেরজা তপন ভাই।

০৬ ই অক্টোবর, ২০২১ রাত ১১:০৬

শেরজা তপন বলেছেন: ~বিভিন্ন নারীকে বাঙালি চরিত্রগুলো যেভাবে খুব সহজেই বাগিয়ে নিতে পারছে, তাতে মনে হচ্ছে রাশান বা ইউক্রাইন নারীরা আমাদের জন্য খুবই সহজলভ্য। বাস্তবেও কি তাই?
- এ বিষয় নিয়ে আগেও আমি যৎকিঞ্চিত আলোচনা করেছি। পরে সময় সুযোগ পেলে বিস্তারিত বলব। চোখের খানিকটা সমস্যার জন্য কম্পিউটারের সামনে খুব বেশী সময় বসতে পারছি না। সেজন্য অনেক কিছু লিখতে গিয়েও বাধ্য হয়ে থেমে যেতে হোল।
~ সৌম্যকে ও ততদিনে চিনে গেছে বেশ খানিকটা। সৌম্যের ভাবটা উপরেই ছিল- তাঁর বাবনিক চরিত্রটা ততদিনে উন্মুক্ত হয়ে গেছে। জোড় খাটালেও সঙ্কোচ ছিল খানিকটা- হুমকি ধামকি দিয়ে অপকর্ম ঘোচানো যায় না।
এলিনা আসলে ওকে ভুলে যাবার জন্যই দূরে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু তীব্র ভালবাসা তাকে ফের কাছে টেনে এনেছিল- তবে সৌম্যের সেই বোধটুকু ছিল না ওর ভালবাসার মুল্য দেবার।
পরের পর্বে সে অন্য উপায়ে নিজেকে মহান সাজানোর চেষ্টা করবে অন্য উপায়ে।
সাথে থাকবেন।

আপনার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা সোনাবীজ ভাই

৭| ০৬ ই অক্টোবর, ২০২১ রাত ৯:২২

মোঃমোস্তাফিজুর রহমান তমাল বলেছেন: সুবোধ সৌম্য ১৮০° পল্টি মেরেছে এই পর্বে। তার বাবনিক সত্তা প্রস্ফুটিত হচ্ছে আস্তে আস্তে। এলিনার ভালোবাসায় খুঁত না থাকলেও সৌম্য তার মূল্য বুঝতে পারে নি। হয়তো বোঝার কোনো ইচ্ছাও তার ছিলো না। সেখানে ছিলো লালসা চরিতার্থ করার প্রয়াস। বহুদিন পর ববির হালকা দেখা পেলাম।

০৬ ই অক্টোবর, ২০২১ রাত ১১:১০

শেরজা তপন বলেছেন: সৌম্যের বাবনিকের জারিজুরি এখানেই শেষ- এখন ববির কাহিনী শুরু( মুল বাবনিক যিনি)

ভালবাসার মুল্যায়ন পৃথিবীর বেশীরভাগ মানুষ ঠিক সময়ে করতে পারে না। হারিয়ে গেলে কিছুটা উপলব্ধি করে কেউ কেউ। তবে সৌম্য অত খারাপ মানুষ নয় সম্ভবত। সে অনুশুচোনায় ভুগবে একদিন।
ববি আসছে -বেশ আটঘাট বেঁধেই নামবে সে এবার।
অনেক ধন্যবাদ ভ্রাতা- বরাবরের মত সাথে থাকবার জন্য।

৮| ০৬ ই অক্টোবর, ২০২১ রাত ৯:২৭

জুল ভার্ন বলেছেন: আমার মনে হচ্ছে এই পর্বে গল্পের গতি কিছুটা গোত্তা খেয়েছে। যার জন্য হঠাৎ করেই এলিনা গ্রামে চলে গিয়েছে। তবে গল্পের আকর্ষণ এতোটুকু ম্লান হয়নি বরং একটা টার্নিং পয়েন্টে এগিয়ে চলছে।
ভাগ লাগা অফুরান।

০৬ ই অক্টোবর, ২০২১ রাত ১১:১৫

শেরজা তপন বলেছেন: ঠিক ধরেছেন একটু নয় বেশ খানিকটা গোত্তা খেয়েছে :)
এ পর্বটা আমি অনিচ্ছাসত্ত্বেও লিখেছি- খুব হালকা চালে তাড়াহুড়ো করে।
হ্যা ঠিক ধরেছেন এটা এই কাহিনীর সাথে সম্পৃক্ত অনেকগুলো মানুষের সুন্দর ভয়ঙ্কর ও কুৎসিত ভবিষ্যত নির্ধারন করে দিবে। সেই রাহুগ্রাস থেকে আজীবন তাদের মুক্তি মিলবে না।
অনেক ধন্যাদ ফের আপনাকে সাথে থাকার জন্য ভাই- ভাল থাকুন।

৯| ০৬ ই অক্টোবর, ২০২১ রাত ১০:১৫

রাজীব নুর বলেছেন: এলিনার ছবি আছে আপনার কাছে? থাকলে দেখান।
আর সপ্তাহ কে হপ্তা বলছেন কেন? লেখার সময় বেছে বেছে সুন্দর সুন্দর শব্দ ব্যবহার করবেন।

০৬ ই অক্টোবর, ২০২১ রাত ১১:১৯

শেরজা তপন বলেছেন: এলিনা'র ছবিতো আমার কাছে নেই।
থাকলেও দেবার উপায় ছিলনা- বিষয়টা বেশ সেনসেটিভ। কেন সেটা লেখার শেষের দিকে বোধগম্য হবে

আপনার মত এত সুন্দর শব্দচয়ন আমি ক্ররতে পারিনা।
বাঙলা ভাষার দৌড় আমার সল্পপাল্লার!
তবুও চেষ্টা ক্রব ভবিষ্যতে আরো সুন্দর শব্দ ব্যাবহারের। ধন্যবাদ

১০| ০৭ ই অক্টোবর, ২০২১ রাত ১২:১৪

নেওয়াজ আলি বলেছেন: ভালোবাসা এমন কেনো যোগাযোগ না থাকলে উঠে আকাশে যায়

০৭ ই অক্টোবর, ২০২১ সকাল ৭:৪৮

শেরজা তপন বলেছেন: আলী ভাই কিছু কইলেন বুঝবার পারলাম না :(

১১| ০৭ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ১২:১৪

মনিরা সুলতানা বলেছেন: এলিনা !!
লেখকের পক্ষপাতিত্ব আছে নাকি এলিনার দিকে, সত্যি ই মেয়েটার জন্য অনেক মন খারাপ হচ্ছে।

০৮ ই অক্টোবর, ২০২১ সকাল ৯:৪৭

শেরজা তপন বলেছেন: :) মেয়েদের প্রতি আমার জন্মগত একটা প্রচ্ছন্ন সহানুভূতি তো আছেই
তারপরে যদি এলিনার মত কেউ হয় -কথাই নেই। মুল গল্পতো এলিনাকেই ঘিরে- এতগুলো মানুষের মধ্যে আন্তরিকতা ভালবাসা আর চারিত্রিক ব্যাপারে সে শ্রেষ্ঠ সেটা নিশ্চিত।
ধন্যবাদ আপনাকে।

*চোখের সমস্যার জন্য নিয়মিত ব্লগিং করতে পারছিনা। আপনার লেখা পড়েও মন্তব্য করা হয়ে ওঠেনি

১২| ০৭ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ১:৫৯

ইসিয়াক বলেছেন: সৌম্যকে সামনে পেলে আমি দু'চার ঘুষি ঠিক মেরে বসতাম। কেন সে এলিনাকে এত কষ্ট দিচ্ছে, কেন? আহা! কোমল মনের মেয়েটি ভুল মানুষকে ভালোবেসেছে। সৌম্যর কোনদিন ভালো হবে না। :(

০৮ ই অক্টোবর, ২০২১ সকাল ৯:৫০

শেরজা তপন বলেছেন: সে আমার জিগার দোস্ত! আমারও পেটাতে ইচ্ছে করেছিল- বিশেষ করে যখন প্রথমবার এলিনাকে দেখলাম
এমন ইনোসেন্ট সৌম্য চেহারার তরুনী রাশিয়াতে খুঁজে পাওয়া কষ্ট। তাকে আমি লম্বা ঝুলের স্কার্ট ছাড়া সল্প বসনে দেখিনি। যেটা রাশিয়াতে অসম্ভব।

বদদোয়া দিয়েন না- সৌম্য এখন ভাল আছে। সে এলিনাকে এখনো ভীষন ফিল করে- অনুশুচোনা ও অপরাধবোধ কুরে কুরে খায় তাকে।

১৩| ০৭ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ২:২৭

দেশ প্রেমিক বাঙালী বলেছেন: চমৎকার উপস্থাপনার জন্য আপনাকে আবারো ধন্যবাদ।

০৮ ই অক্টোবর, ২০২১ সকাল ৯:৫১

শেরজা তপন বলেছেন: লেখাত আপড়ে বরাবরের মত ভাল্বেসে মন্তব্য করার জন্য- আপনাকেও ধন্যবাদ প্রিয় ভাই।

১৪| ০৮ ই অক্টোবর, ২০২১ সকাল ১১:০১

ইসিয়াক বলেছেন:

সম্ভব হলে এলিনার শেষ পরিণতি অথবা বর্তমান অবস্থা জানাবেন। এলিনাকে আমি কেমন যেন গভীরভাবে অনুভব করতে পারছি।

মায়া লাগছে ওর জন্য।

০৮ ই অক্টোবর, ২০২১ বিকাল ৪:৪৫

শেরজা তপন বলেছেন: তাকে ঘিরেই তো পুরো ঘটনা আবর্তিত হবে- কাহিনীর শেষ পর্যন্ত সে থাকবে!
অদ্যবদি এ কাহিনীর কিছু একটা সমাপ্তি হয়নি। তবে আমি চতুর্থ খন্ডে এসে সমাপ্তি টেনে দিব বলে ভাবছি।

১৫| ০৮ ই অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৩২

জুন বলেছেন: পড়ছি শেরজা তপন, এলিনা আর সৌম্য দুজনার আচরণই কিন্ত স্বাভাবিক, মানে এমনটাই হওয়ার কথা। ওরা স্বাধীন নারী আর আমাদের দেশের পুরুষরা একটু বেশি কতৃত্বপরায়ন যা দুজনার মাঝে অনিবার্য পরিণতি হলো ব্যাক্তিত্বের সংঘাত। যাই বলুন আর নাই বলুন দারুণ সাহসীকতা আর মুন্সীয়ানায় বুনে যাচ্ছেন গল্পটি। পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম।
+

০৮ ই অক্টোবর, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৫৬

শেরজা তপন বলেছেন: যাক এ পর্বে আপনার মন্তব্য পড়ে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম! এই দুই পর্ব নিয়ে ব্যাপক টেনশনে ছিলাম( ইমেজ সঙ্কট জনিত :) )
সৌমের স্থানে অনেক পুরুষই এমনটাই করবে বলে আমারও ধারনা। ওই পরিবেশে ও পরিস্থিতি সন্মন্ধে যাদের খানিকটা ধারনা আছে তারা সৌম্যের এহেন আচরন খুব বেশী নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখবেনা - আপনার মত।

আপনার কথায় আনন্দিত ও আপ্লুত হলাম আপু- ভাল থাকুন।

* নতুন লেখা পাচ্ছি না বেশ কিছুদিন??

১৬| ১০ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ১২:৩১

আরাফআহনাফ বলেছেন: শেষের দিকে সৌম্যের ব্যবহার ভালো লাগে নি
এলিনার জন্য মন খারাপ হয়ে গেল -

১১ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ১:০৩

শেরজা তপন বলেছেন: এলিনার জন্যতো মন খারাপের সবে শুরু
সাথে থাকলে একসময় ওর জন্য ভীষনভাবে মন কাঁদবে!!
ধন্যবাদ ভ্রাতা-সাথে থাকার জন্য।

১৭| ১১ ই অক্টোবর, ২০২১ রাত ২:২৯

রোকসানা লেইস বলেছেন: সব দেশের সব নারীরাই ভালোবেসে সংসার করতে চায় পুরুষ করে প্রতারনা।
এক ভালোবাসায় জীবন কাটানোর চিন্তা ভাবনায় বড় হয়ে উঠা বাঙালী পুরুষরা অক্ষরিক অর্থেই বাবনিক।
পড়েছিলাম অফ লাইনে মন্তব্য দেয়ার সুযোগ হয়নি।

১১ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ১:১৩

শেরজা তপন বলেছেন: মন্তব্যের ঘরে আপনাকে পেরে বরাবরের মতই দারুন আনন্দিত ও উদ্বেলিত হলাম। আগেই পড়েছেন জেনে ভাল লাগল-মন্তব্যের জন্য জমিয়ে রেখেছেন এই লেখাটা সেই ভেবে।
প্রতারণা মেয়েরাও করে( এরকম ভুক্তভোগীতো আমিও :) )। তবে শারিরিক স্মপর্কটা হয়ে গেলে ছেলেরা মনে মনে ভাবে সব পেয়ে গেছি আর দরকার, বিয়ে সাদি করা সম্পর্ক কন্টিনিউ করা( এদেশের প্রেক্ষাপটে)।
কিন্তু ফিজিক্যাল রিলেশান বাদেও যে অনেক অনেক অনেক ব্যাপার-স্যাপার এর সাথে জড়িয়ে থাকে এসব কে আর ভাবে।

ভাল থাকুন সবসময়।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.