| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
লাকসাম জংশন - ১
লাকসাম জংশনের বড় দীঘিটির পাড়ে নাম না জানা বৃক্ষের মূলে বসিয়া ভাবিতেছিলাম ,কি লাভ ফিরিয়া গিয়া ? হিরণ্ময় নীরবতা ঝরিতেছে জনকোলাহলে জমাট-জংশনের এক কোণায় । এইবিধ অচল মানুষের স্বেচ্ছা নির্বাসনই ভালো। শহুরে জীবনের বিবিধ মিথ্যে উত্তেজনা আর ছদ্মবেশী সংকট ক্রমশ বিষাইয়া তুলিয়াছে ধমনী ,বিমুখ মন ভাবে এই সেই কাংখিত পলায়নের সুযোগ ।
অধিকক্ষণ ভাবিলে, চিন্তা কাদা পুকুরের ন্যায় রুপধারণ করে, তলদেশ থাকিয়া উঠিয়া আসা গ্যাস বুদ্বুদের মতো ব্যক্তিগত দু:খ-চিন্তা ভাসিয়া উঠিতে থাকে। ক্রমে হতাশার বাষ্প ফেনাইয়া ওঠে । দু-একটি হতাশা দু:খজনক হইলেও, জীবনে বিবিধ দিকে ক্রমাগত ব্যর্থতা প্রসূত যে হতাশা তা রোমান্টিসিজম জমাইয়া তোলে । তখন মানুষ ডাকটিকিট কি মূদ্রা সংগ্রহকারীর মতো ক্ষূদ্র ক্ষূদ্র হতাশা কাচের বয়ামে জমাইয়া রাখে আর অবসর মতো নাড়িয়া চাড়িয়া দেখে । এমন জংশন ছাড়া ঘোলাটে আরশিতে মুখ দেখার ফুরসত কোথায় ?
অন্যমনষ্কতাবশত: উঠিয়া হাটিতে শুরু করিলাম। জংশনের প্রায় শেষ প্রান্তে পরিত্যক্ত বগির শ্মশান, মানবজীবনের প্রভূত লড়াইয়ে কাধ দিয়া অবশেষে তাহাদের স্থান হইয়াছে জগতের এই অন্ধকার নীরব কোণাটিতে । কোনো বীরগাথা নাই , কতো হাজার স্মৃতি - শোনার মানুষ নাই , বিরাট ছাউনীর ছায়ায় ক্রমশ: ঘনাইয়া আসা শূন্যতায় ক্ষয় হইবার অপেক্ষায় দাড়াইয়া থাকে তারা। আসন্ন সন্ধ্যার আধারি আর টিপটিপ বৃষ্টিতে হাটিতে হাটিতে মনে হয় অস্তিত্বের একেকটা ইট ধসিয়া পড়িতেছে , কি এক শোকের মরিচা ধরা ছুরি হানিতেছে অন্তরে বারংবার ।
একটি ফিংগে পাখি উড়িয়া আসিয়া বসিল রেল লাইনের ওপর । একটি জং ধরা বগি লালচে স্বপ্নের মতো ঘড়ঘড়াইয়া দূরে সরিয়া গেলে , সম্মুখের দীঘিটি ঈষৎ থামিয়া থামিয়া বৈকালিক রুপকথা বর্ণনা করিতে থাকে হাটুরেদের নিকট। ঠিক সন্ধ্যার পূর্ব্বে নির্মম নৈশব্দ্য অদূর-লন্ঠনের মতো চাহনি ছুড়িয়া দিলে আমার অন্তরাত্মা কাপিয়া উঠে ,রাতের অন্ধকার নদীর বুক চিরিয়া যেমন স্টীমার চলিয়া যায় তেমনি একটা হু হু হাওয়ার স্রোত ছুটিয়া গেল আমার বুকের মধ্য দিয়াও ।
মনে হইল ফিরিবার সময় হইয়াছে । বাটীতে জরুরী কাজ ফেলিয়া আসিয়াছি ।
©somewhere in net ltd.